West Bengal Budget 2026
Bengal Liberty:
রাজ্যের নতুন বিজেপি সরকার ২০২৬- ২০২৭ আর্থিক বছরের পূর্ণাঙ্গ বাজেট পেশ করল। স্বাভাবিকভাবেই অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত প্রতিশ্রুতির বন্যা বয়ে দিয়েছেন (West Bengal Budget 2026)। তিনি বলেছেন ভাষণের প্রথমেই যে তাদের সামনের কাজকে বাংলাকে নতুন রূপে কল্পনা করে জাতীয় ক্ষেত্রে তার ন্যায্য স্থান পুনরুদ্ধারের মিশন হিসেবে দেখছেন।
হকার উচ্ছেদ ও পুনর্বাসন প্রশ্নে নীরবতা
গত দেড় মাসে এই সরকারের কার্যকলাপ দেখলে এটিকে সত্যের অপলাপ বলেই মনে হয়। এই সরকার ক্ষমতায় আসার পরই থেকেই চলছে হকার উচ্ছেদ। কোন পুনর্বাসন ছাড়াই এই উচ্ছেদ চলছে। হাইকোর্টে মামলা করলে মাননীয় বিচারপতি রায় দেন পুনর্বাসন ছাড়া কোন ভাবেই উচ্ছেদ করা যাবে না। আজ অর্থমন্ত্রীর ভাষণে এই বিষয়ে কোন উচ্চবাচ্য করা হয়নি। গরিব মানুষের রুজি-রোজগার ছিনিয়ে বাংলাকে মনে হয় বিজেপি সরকার নতুন রূপে কল্পনা করছেন।

গ্রিনফিল্ড বিমানবন্দর
ভাষণে কল্যাণীর কাছে একটি ‘গ্রিনফিল্ড’ বিমানবন্দর তৈরি করতে ১০০০-১৫০০ একর জমি শনাক্ত করবে সরকার। কিন্তু এই জমি কিভাবে শনাক্ত হবে সেটির উল্লেখ নেই। যদি কৃষিজমি নেওয়া হয়, তাহলে কৃষকদের আর্থিক ক্ষতিপূরণ নিয়ে অর্থমন্ত্রী নীরব। ভূমি নীতি পরিবর্তনের পাশাপাশি আরবান ল্যান্ড সিলিং অ্যাক্ট পুনর্বিবেচনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে বাজেটে।এই আইন পুনর্বিবেচনার যে প্রস্তাব রাখা হয়েছে, তাতে বিত্তশালীরাই লাভবান হবেন। তাদের হাতে হাতে জমির অগাধ অধিকার থাকবে। জমি হাঙরদের দাপাদাপি বাড়বে।

“সবকা সাথ, সবকা বিকাশ”- বিজেপি সরকারের বাঁধা ধরা বুলি। তীর্থযাত্রা ও ধর্মীয় পর্যটনকে সহজতর করার লক্ষ্যে যেসমস্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করার কথা বলা হয়েছে, তাতে হিন্দু ধর্মের তীর্থস্থান ছাড়া মুসলমান, শিখ, খ্রিস্টান কারুর ধর্মীয় স্থান পায়নি। হুগলির ফুরফুরা শরিফ, ব্যান্ডেল চার্চ বা কলকাতার গুরুদুয়ারা বড় শিখ সঙ্গত বাদ। সংখ্যাগুরু গণতন্ত্র (Majoritarianism)-এর শাসনতান্ত্রিক ও রাজনৈতিক দর্শন প্রতিষ্ঠার এই হল প্রকৃষ্ট উদাহরণ।
এই ধারাতেই দেখা যাচ্ছে সংখ্যালঘু বিষয়ক ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের জন্য বাজেট বরাদ্দ আগামী অর্থবর্ষে প্রায় ৫০ শতাংশ কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। মাত্র ২ হাজার ১৬৫ কোটি টাকা। অর্থাভাবে শুকিয়ে মারার চেষ্টা। এইভাবে ‘বিকশিত পশ্চিমবঙ্গ’ তৈরি করবে বিজেপি সরকার।
আমরা দেখছি গবেষণারত ছাত্রদের ফেলোশিপ বন্ধ হয়ে পড়ে রয়েছে বিগত ছয় মাস ধরে, সেটা নিয়ে শব্দ করেননি অর্থমন্ত্রী তাঁর বাজেটের বক্তৃতায়। টাকা বাড়িয়ে দেওয়া দূরের কথা আগের আটকে থাকা টাকাও এখনও ছাড়া হয়নি। কবে ছাড়া হবে তার কোন উত্তর নেই।
আদিবাসীদের প্রকৃত অর্থে উন্নয়ন চাইলে ১৯৯৬ সালের গৃহীত যুগান্তকারী পেসা (PESA) বা পঞ্চায়েত (তফসিলি এলাকার সম্প্রসারণ) আইন গ্রহণ করা হোক। এটি আদিবাসী সম্প্রদায়গুলির জন্য স্বায়ত্তশাসন ও অধিকারের রক্ষাকবচ।
হকার ও কৃষকদের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন
এই বাজেট ভাষণে প্রায় ৯০ শতাংশ অসংগঠিত শ্রমিক কি পেলেন? লক্ষ লক্ষ হকার জীবিকা হারাচ্ছেন, তাঁরা কি পেলেন? তাছাড়া, পর্যাপ্ত স্বাস্থ্যকর্মী কবে পাবে রাজ্যের হাপপাতালগুলি? ধানের ন্যূনতম সহায়ক মূল্য ৩১০০ টাকা প্রতি কুইন্টাল। এখনো হয়নি। কৃষকদের আর্থিক স্থিতিশীলতার কি হবে ও বাকি কৃষকদেরই বা কি হবে? প্রশ্ন অনেক, উত্তর নেই।
সুতরাং মুখ্যমন্ত্রী বা অর্থমন্ত্রী যতই সবার জন্য বাজেট হয়েছে বলে বড়াই করুন না কেন, এই বাজেট প্রকৃত অর্থে হিন্দুত্বের অ্যাজেন্ডাকে প্রতিষ্ঠা করার জন্য যতটা সম্ভব “জনমোহিনী” করা অপচেষ্টা হয়েছে। সে জন্যই ইতিহাসের আস্তাকুঁড় থেকে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়কে তুলে আনার প্রবল চেষ্টায় ২০০ কোটি টাকা খরচ করে তাঁর মূর্তি ও বাড়ি সংরক্ষণ করছে বিজেপি সরকার।


