Bengal Liberty
উৎসবের মরসুমের আগে কলকাতা-সহ গোটা রাজ্যে খাদ্যের গুণমান ও স্বাস্থ্যবিধি নিয়ে কড়া নজরদারি শুরু করেছে প্রশাসন (Kolkata Restaurant)। মঙ্গলবারই রেস্তোরাঁ ও খাবারের দোকানগুলিতে খাদ্যের মান, পরিচ্ছন্নতা এবং সংরক্ষণ পদ্ধতি ঠিকঠাক রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তার পরেই বুধবার সকাল থেকে কলকাতার একাধিক নামী রেস্তোরাঁ, ফুড কোর্ট, মিষ্টির দোকান ও খাবারের দোকানে অভিযান শুরু করে কলকাতা পুরসভা ও খাদ্য দফতর।

রেস্তোরাঁয় পচা মাংস Kolkata Restaurant
বুধবারের ঘটনা যেন ২০১৮ সালের ভাগাড় কাণ্ডের স্মৃতি ফেরাল। শহরের একের পর এক নামী রেস্তোরাঁ, যেখানে প্রচুর টাকা ট্যাক্স দিয়ে মানুষ খাবার খেতে যায়। সেখানেই পরিবেশিত হচ্ছে পচা মাংস। সেই পর্যাপ্ত পরিচ্ছন্নতা। বাইপাস সংলগ্ন তিনটি রেস্তোরাঁয় অভিযান চালানো হয়। এর মধ্যে ট্যাংরার চায়না টাউন এলাকার জনপ্রিয় চাইনিজ রেস্তোরাঁ ‘বিগ বস’-এ গিয়ে কার্যত চক্ষু চড়কগাছ আধিকারিকদের। পুরসভার দাবি, রেস্তোরাঁটির ফ্রিজ থেকে প্রায় ৫০০ কেজি বাসি ও পচা মাছ-মাংস উদ্ধার হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে ওই খাদ্যসামগ্রী অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে মজুত করে রাখা হয়েছিল বলে অভিযোগ। ফ্রিজের ভিতরে খাবারগুলি ঢাকা ছিল না, এমনকী আশপাশে আরশোলাও ঘুরে বেড়াতে দেখা যায় বলে পুরসভা সূত্রে খবর।
আরও খবর
আরও অভিযোগ, উদ্ধার হওয়া খাবারের গায়ে কোনও তারিখ বা ফুড লেবেলিং ছিল না। ফলে সেগুলি কবে থেকে মজুত করা এবং কতদিন পর্যন্ত ব্যবহারযোগ্য, তার কোনও হিসেবই মেলেনি। ঘটনার পর রেস্তোরাঁটিকে শো-কজ নোটিশ দিয়েছে কলকাতা পুরসভা। সমস্ত দিক খতিয়ে দেখে লাইসেন্স বাতিল বা সাময়িকভাবে বন্ধ করার পদক্ষেপও নেওয়া হতে পারে। বাজেয়াপ্ত পচা খাবার ধাপার ডাম্পিং গ্রাউন্ডে নিয়ে গিয়ে নষ্ট করা হয়েছে।

জেলায় জেলায় অভিযান
শুধু কলকাতা নয়, পূর্ব বর্ধমানের শক্তিগড়ের ল্যাংচা হাব, বর্ধমান শহরের একাধিক রেস্তোরাঁ ও মিষ্টির দোকানেও চলছে অভিযান। মেদিনীপুর সহ উত্তরবঙ্গের একাধিক শহরে খাবারের গুণমান, কাঁচা মাছ-মাংস সংরক্ষণ, রান্নাঘরের পরিচ্ছন্নতা এবং খাবারে অতিরিক্ত বা অননুমোদিত রং ব্যবহার হচ্ছে কি না—সবই খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সাংবাদিক বৈঠক থেকেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী কলকাতার একাধিক রেস্তোরাঁয় খাবারের গুণগত মান ও পরিচ্ছন্নতা নিয়ে নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন। রেস্তোরাঁগুলিতে খাবার সঠিকভাবে পরিবেশন করা হচ্ছে কি না, খাদ্যসামগ্রী কতটা স্বাস্থ্যসম্মত এবং রান্নাঘর ও পরিবেশে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা হচ্ছে কি না—সবকিছু খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেওয়া হয়। এরপরই বুধবার থেকে শুরু হয়েছে কলকাতা-সহ বিভিন্ন জেলায় প্রশাসনের এই অভিযান। উৎসবের মরসুমের আগে মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশের পরপরই এই তৎপরতা যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।
অভিযান চলবে
প্রশাসনের বার্তা স্পষ্ট, মানুষের স্বাস্থ্যের সঙ্গে কোনওরকম আপস নয়। কলকাতা থেকে জেলা, খাদ্য সুরক্ষার এই অভিযান আগামী দিনেও লাগাতার চলবে।


