Panskura Paschim Assembly Issue
Bengal Liberty, Kolkata:
ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া ঘিরে ফের বড় প্রশ্ন উঠছে পশ্চিমবঙ্গে(Panskura Paschim Assembly Issue)। ভোটার তথ্য আপলোডে গুরুতর অসঙ্গতির অভিযোগ সামনে আসতেই বিষয়টি নিয়ে রিপোর্ট পাঠানো হচ্ছে ভারতের নির্বাচন কমিশন-এর সদর দফতর দিল্লি-তে। প্রশাসনিক গাফিলতি নিয়েই এখন তীব্র রাজনৈতিক চর্চা শুরু হয়েছে(Panskura Paschim Assembly Issue)।

কী ঘটেছে? Panskura Paschim Assembly Issue
এই মুহুর্তে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) পর্বের শুনানি শেষ হয়েছে। এখন চলছে শেষ পর্যায়ের তথ্য যাচাই। আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের কথা রয়েছে। কিন্তু এই সময়েই পূর্ব মেদিনীপুরের পাঁশকুড়া পশ্চিম বিধানসভায় যাচাই করতে গিয়ে পর্যবেক্ষকেরা একটি অদ্ভুত তথ্য খুঁজে পান। সেখানে এক ভোটারের নাম শেখ রাজেশ আলি, অথচ তাঁর বাবার নাম হিসেবে আপলোড হয়েছে ভুবনচন্দ্র বেরা (Panskura Paschim Assembly Issue)।
আরও খতিয়ে দেখে জানা যায়, অন্য এক ভোটার বিজয়কৃষ্ণ বেরার বাবার নামের জায়গায়ও একই নাম রয়েছে। ফলে প্রশ্ন উঠছে কোন তথ্যের ভিত্তিতে এই লিঙ্ক তৈরি হল? তথ্য যাচাই না করেই আপলোড করা হয়েছে কি? ফলে এই বিষয়েই বিস্তারিত রিপোর্ট পাঠানো হচ্ছে কমিশনের কাছে।

দুই ধরনের ভোটারকে নথি যাচাইয়ের জন্য ডাকা হয় (Panskura Paschim Assembly Issue)
বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ার আওতায় দুই ধরনের ভোটারকে নথি যাচাইয়ের জন্য ডাকা হয়েছিল বলে জানা গেছে Election Commission of India সূত্রে। যাঁরা ২০০২ সালের ভোটার তালিকার সঙ্গে নিজেদের কোনও যোগসূত্র প্রমাণ করতে পারেননি, তাঁদের নির্দিষ্ট শুনানিকেন্দ্রে গিয়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে হয়েছে। পাশাপাশি, পুরনো তালিকার সঙ্গে সংযোগ থাকলেও নাম বা তথ্যের গরমিল থাকায় বহু ভোটারকেও যাচাই প্রক্রিয়ায় হাজির হতে বলা হয়েছিল(Panskura Paschim Assembly Issue)।
এই যাচাই প্রক্রিয়ায় নির্বাচনী আধিকারিক, সহকারী নির্বাচনী আধিকারিক এবং বুথ স্তরের কর্মীরা উপস্থিত থেকে তথ্য পরীক্ষা করেন।
আরও পড়ুন – Amit Shah at ISKCON: ইসকনের গীতা আন্দোলনকে সমর্থন অমিত শাহর
বিপুল সংখ্যক নোটিস জারি (Panskura Paschim Assembly Issue)
এই বিশেষ প্রক্রিয়ায় রাজ্যজুড়ে বিপুল সংখ্যক নোটিস পাঠানো হয়েছিল বলে জানা গেছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ভোটার ছিলেন যাঁদের তথ্য পূর্বের তালিকার সঙ্গে মিলছিল না। আবার বিপুল সংখ্যক ভোটারকে তথ্যগত অসঙ্গতির কারণেও ডাকা হয়েছিল। বর্তমানে সেই শুনানি ও যাচাইয়ের কাজ সম্পন্ন হয়েছে।
উঠছে প্রশ্ন? (Panskura Paschim Assembly Issue)
ভোটারের মতো সংবেদনশীল তথ্যেও যদি এমন ভুল থাকে, তাহলে পুরো তালিকার নির্ভুলতা নিয়েই প্রশ্ন উঠছে? প্রশাসনের তরফে নজরদারি কতটা কড়া ছিল, তা নিয়েও উঠছে সন্দেহ। অনেকেই বলছেন, এত বড় পরিসরে তথ্য যাচাইয়ের নামে যদি ভুল ডেটা আপলোড হয়, তাহলে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াই ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, সাধারণ মানুষের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ গণতান্ত্রিক অধিকার ভোট নিয়ে যদি এই ধরনের বিভ্রান্তি তৈরি হয়, তাহলে তা প্রশাসনিক ব্যর্থতারই ইঙ্গিত দেয়। উন্নয়ন ও স্বচ্ছতার দাবি করা হলেও মাঠ পর্যায়ে সেই বাস্তব চিত্র কতটা মিলছে, তা নিয়েই এখন নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। উল্লেখ্য ভোটার তালিকা প্রকাশের আগে এই ঘটনা নতুন করে চাপ বাড়াল প্রশাসনের ওপর। এখন নজর কমিশনের তদন্তে এই ভুল শুধু প্রযুক্তিগত ত্রুটি, নাকি এর পিছনে রয়েছে বড় প্রশাসনিক ব্যর্থতা, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
