Election violence 2026
Bengal liberty desk,২২ মার্চ :
ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণা হতেই কড়া হয়েছে নির্বাচন কমিশন (Election violence 2026)। সরকারি সম্পত্তি বা দেওয়ালে প্রচার রুখতে জারি হয়েছে কড়া নির্দেশিকা। কিন্তু সেই নির্দেশ পালন করতে গিয়েই এবার আক্রান্ত হতে হলো খোদ নির্বাচন কমিশনের কর্মীদের। রবিবার দুপুরে পশ্চিম বর্ধমানের দুর্গাপুরে নির্বাচন কমিশনের দুই কর্মীকে গাড়ি থেকে নামিয়ে মারধরের অভিযোগ উঠল। এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত Election violence 2026
আগামিকাল সোমবার সাপ্লিমেন্টারি তালিকা প্রকাশিত হওয়ার কথা। তার আগেই অপ্রীতিকর ঘটনা রুখতে জেলা প্রশাসনকে সতর্ক করেছিল কমিশন। জানা গিয়েছে, দুর্গাপুরের কলোনিপাড়া এলাকায় একটি পোস্ট অফিসের দেওয়ালে তৃণমূল প্রার্থীর নাম লিখে প্রচার করা হয়েছিল। নির্বাচনী বিধি অনুযায়ী, সরকারি দেওয়ালে এই ধরণের কোনও প্রচার নিষিদ্ধ। মহকুমা শাসক (SDO) অফিসের নির্দেশে সেই দেওয়াল লিখন মুছতে গিয়েছিলেন কমিশনের নিযুক্ত দুই কর্মী।
আক্রান্ত কর্মীদের বয়ান:
অভিযোগ, দেওয়ালে প্রার্থীর নাম মুছে যখন কর্মীরা গাড়িতে উঠছিলেন, তখনই একদল দুষ্কৃতী তাঁদের পথ আটকায়। তাঁদের গাড়ি থেকে জোর করে নামিয়ে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। আক্রান্ত এক কর্মী বলেন, “আমাদের SDO অফিস থেকে ডিউটি দেওয়া হয়েছিল। আমরা সরকারি কর্মী পরিচয় দেওয়ার পরও স্থানীয় তৃণমূল কর্মীরা আমাদের কোনও কথা শোনেনি এবং মারধর শুরু করে।”

রাজনৈতিক চাপানউতোর:
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক তরজা। স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তাদের দাবি, অভিযোগটি ভিত্তিহীন। উলটে তাদের অভিযোগ, বিজেপির পক্ষ থেকে বহিরাগতদের নিয়ে এসে ‘জয় শ্রী রাম’ স্লোগান দিয়ে দেওয়াল মোছার কাজ করা হচ্ছিল, যা উত্তেজনা ছড়ানোর চেষ্টা।
বিরোধীদের দাবি:
বিজেপি এবং বামেদের অভিযোগ, হার নিশ্চিত জেনেই শাসকদল এখন সরকারি কর্মীদের ওপর হামলা চালিয়ে ভয় দেখানোর চেষ্টা করছে।
প্রশাসনের পদক্ষেপ:
দিন কয়েক আগেই রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে পুলিশ সুপার ও জেলাশাসকদের কড়া নির্দেশ দিয়েছিল নির্বাচন কমিশন। সেই নির্দেশের মধ্যেই খোদ কমিশনের কর্মীদের ওপর এই হামলা প্রশাসনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিল। এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই পুলিশে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে এবং ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।
