Post-poll violence
Bengal Liberty, ৩০ এপ্রিল:
ভোট মিটতেই রাজ্যের একাধিক জায়গায় অশান্তি ও সংঘর্ষের অভিযোগ সামনে আসায় কড়া অবস্থান নিল নির্বাচন কমিশন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে তৎপর হতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে রাজ্য পুলিশ ও কলকাতা পুলিশকে।

কী নির্দেশ দিল কমিশন?
কমিশন স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, যেখানে যেখানে ভোট-পরবর্তী হিংসার ঘটনা ঘটছে বা উত্তেজনা রয়েছে, সেখানে দ্রুত এবং কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। এই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে রাজ্য পুলিশ ও কলকাতা পুলিশকে। নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর, কমিশন সূত্রে খবর, যেখানে যেখানে উত্তেজনা ছড়িয়েছে, সেখানে অবিলম্বে পুলিশি নজরদারি বাড়াতে বলা হয়েছে। অশান্তিপ্রবণ এলাকায় টহল জোরদার, দোষীদের চিহ্নিত করে দ্রুত গ্রেফতার এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি গুজব রুখতে সোশ্যাল মিডিয়াতেও কড়া নজরদারির নির্দেশ রয়েছে। ভোট-পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন জেলা থেকে বাড়িঘর ভাঙচুর, হামলা ও মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসনকে সক্রিয় থাকার বার্তা দিয়েছে কমিশন। স্পষ্ট জানানো হয়েছে, কোনওরকম হিংসা বরদাস্ত করা হবে না।

কেন এই পদক্ষেপ?
ভোট মিটতেই একাধিক জেলায় রাজনৈতিক সংঘর্ষ, বাড়িঘর ভাঙচুর, মারধর ও আগুন লাগানোর অভিযোগ উঠেছে। বিরোধী দলগুলি অভিযোগ করেছে যে শাসকদলের কর্মীরা হামলায় জড়িত, অন্যদিকে শাসক দলও পাল্টা অভিযোগ তুলেছে। এই পরিস্থিতিতে নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে এবং আইনশৃঙ্খলা ফেরাতে কমিশন সক্রিয় হয়েছে। রাজ্যের রাজনৈতিক ইতিহাসে ক্ষমতার পালাবদলের সময় উত্তেজনা বেড়ে যাওয়ার প্রবণতা লক্ষ করা যায়। ২০১১ সালে তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতায় আসার পরও বিভিন্ন জায়গায় সংঘর্ষের অভিযোগ ওঠে। আবার ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পরও রাজ্যের একাধিক জেলায় সহিংসতার ঘটনা শিরোনামে আসে। সেই সময় বিষয়টি নিয়ে সরব হয় বিজেপি-সহ বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি।
কমিশনের বার্তা
নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ভোট গণনা শেষ হলেও তাদের দায়িত্ব শেষ হয় না। ভোট-পরবর্তী সময়ে শান্তি বজায় রাখা এবং গণতান্ত্রিক পরিবেশ রক্ষা করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। কোনওরকম হিংসা বরদাস্ত করা হবে না বলে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে কমিশন। সংবেদনশীল এলাকায় রুট মার্চ, ফ্ল্যাগ মার্চও শুরু হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বেশ কিছু ঘটনায় ইতিমধ্যে মামলা দায়ের হয়েছে এবং গ্রেফতারিও শুরু হয়েছে। দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ঘোষণা করেছেন, ভোটের পরেও রাজ্যে দীর্ঘ সময় ধরে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন রাখা হবে। সূত্রের খবর, প্রায় ৬০ দিন ধরে ৭০০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় মোতায়েন থাকবে। মূল লক্ষ্য—ভোট-পরবর্তী সম্ভাব্য অশান্তি, সংঘর্ষ এবং রাজনৈতিক হিংসা রুখে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
ভোট শেষ হলেও শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা এখন বড় চ্যালেঞ্জ—এই বার্তাই দিতে চেয়েছে কমিশন। পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে শীর্ষ প্রশাসন।
আরও পড়ুন: তরমুজ থেকেই বিষক্রিয়া আর তাতেই মৃত্যু! গোটা পরিবারের মৃত্যুর পরই দাম কমে ঠেকলো তলানিতে
