SSC Recruitment HC
Bengal Liberty Desk, ২৫ মার্চ, কলকাতা: ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বাজতেই ফের বড়সড় বাধার মুখে রাজ্যের স্কুল শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া। সুপ্রিম কোর্টের বেঁধে দেওয়া সময়সীমার মধ্যে নিয়োগ শেষ করা নিয়ে তৈরি হয়েছে গভীর সংশয়। স্কুল সার্ভিস কমিশনের (SSC) সিংহভাগ কর্মীকে নির্বাচনের কাজে নিযুক্ত করায় থমকে যেতে পারে ইন্টারভিউ প্রক্রিয়া। এই আইনি জট ও আদালত অবমাননার হাত থেকে বাঁচতে এবার কলকাতা হাই কোর্টের শরণাপন্ন হল কমিশন। বিচারপতি কৃষ্ণা রাওয়ের এজলাসে আগামী সোমবার এই মামলার শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে (SSC Recruitment HC)।
কর্মীর অভাবে বিপাকে এসএসসি (SSC Recruitment HC)

আজ, বুধবার বিচারপতি কৃষ্ণা রাওয়ের এজলাসে এসএসসির পক্ষ থেকে জানানো হয়, বর্তমানে একাদশ-দ্বাদশ, নবম-দশম এবং গ্রুপ-সি ও ডি পদের ইন্টারভিউ প্রক্রিয়া তৎপরতার সঙ্গে চলছে। কিন্তু কমিশনের হাতে কর্মীবল অত্যন্ত কম। মোট ৩৫ জন কর্মীর মধ্যে ২৪ জনকেই নির্বাচন কমিশন ভোটের ডিউটিতে নিয়ে নিয়েছে। এসএসসির আইনজীবীর দাবি, একটি স্বশাসিত সংস্থা থেকে এভাবে ঢালাও কর্মী নিয়োগ বিধিসম্মত নয়। হাতে মাত্র ১১ জন কর্মী নিয়ে এই বিশাল কর্মযজ্ঞ চালানো এবং হাজার হাজার চাকরিপ্রার্থীর ইন্টারভিউ নেওয়া কার্যত অসম্ভব।
দায় এড়াতে আগেভাগে হাই কোর্টের দ্বারস্থ (SSC Recruitment HC)

২০১৬ সালের নিয়োগ প্যানেল বাতিল হওয়ার পর, সুপ্রিম কোর্ট আগামী ৩১ অগাস্টের মধ্যে নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার কড়া নির্দেশ দিয়েছে। এসএসসি কর্তৃপক্ষের আশঙ্কা, নির্বাচন কমিশন যদি অবিলম্বে ওই কর্মীদের না ফেরায়, তবে দেশের সর্বোচ্চ আদালতের অবমাননা হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। সেই দায় এড়াতেই আগেভাগে আদালতের হস্তক্ষেপ চাইল কমিশন। আগামী সোমবার বিচারপতি কৃষ্ণা রাওয়ের এজলাসে এই মামলার শুনানি হওয়ার কথা।
আরও পড়ুন-
SSC recruitment protest: নিয়োগের দাবিতে ফের উত্তপ্ত সল্টলেক: ১২৪১ জনের কাউন্সেলিংয়ের দাবিতে ১২ই মার্চ বিকাশ ভবন অভিযানের ডাক
ED Summons Manish-Kuntal: SSC কেলেঙ্কারিতে নতুন মোড়! ইডির তলবে মণীশ–কুন্তল, প্রকাশ্যে আসবে কি বড় চক্র?
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট (SSC Recruitment HC)
রাজ্যের এই সঙ্কটময় পরিস্থিতিতে স্বাভাবিকভাবেই সুর চড়িয়েছে প্রধান বিরোধী দল। বিজেপি শিবিরের দাবি, এই পরিস্থিতি তৃণমূল সরকারের প্রশাসনিক ব্যর্থতারই নামান্তর। শিক্ষক নিয়োগের এই টানাপোড়েন এখন স্রেফ আইনি লড়াইয়ে সীমাবদ্ধ নেই, তা রাজনৈতিক ময়দানেও বড় অস্ত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের দেওয়া সময়সীমা পার হলে কয়েক হাজার চাকরিপ্রার্থীর ভবিষ্যৎ পুনরায় অন্ধকারে তলিয়ে যেতে পারে। এখন দেখার, সোমবার কলকাতা হাইকোর্ট নির্বাচন কমিশনকে কর্মীদের অব্যাহতি দেওয়ার কোনও নির্দেশ দেয় কি না। যদি আদালত হস্তক্ষেপ না করে, তবে ৩১ অগাস্টের ডেডলাইন মিস হওয়া শুধু সময়ের অপেক্ষা, যা ২০২৬-এর নির্বাচনে শাসক শিবিরের জন্য বড় অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
