EC Removes 7 Jawans
Bengal Liberty Desk, ২৫ মার্চ, কলকাতা: ভোটের আগে নিরপেক্ষতা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবার কঠোর পদক্ষেপ নিল কমিশন। অভিযোগ, কমিশনের স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও ইফতার নিমন্ত্রণে যোগ দেন সাত কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ান। বিষয়টি সামনে আসতেই ভিন রাজ্যে তাঁদের সরাল নির্বাচন কমিশন।
কী ঘটেছে (EC Removes 7 Jawans)?

ঘটনা দিন কয়েক আগের। রাজ্যে ভোটের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ইতিমধ্যেই বিভিন্ন জেলায় মোতায়েন করা হয়েছে কেন্দ্রীয় বাহিনী। তারই অংশ হিসেবে মুর্শিদাবাদেও দায়িত্বে রয়েছেন একাধিক জওয়ান। রমজান মাসে মুর্শিদাবাদের নিমতিতার একটি ইফতার পার্টিতে কেন্দ্রীয় বাহিনীর সাত জওয়ান যোগ দেন বলে খবর। সেই ছবি সোশাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে যায়। যদিও কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের দাবি, তাঁরা কোথাও যাননি। বিএসএফ ক্যাম্পেই ইফতার পার্টির আয়োজন করা হয়েছিল। স্থানীয় প্রধানও সেখানে আমন্ত্রিত ছিলেন। এদিকে, ছবি ভাইরাল হওয়ার পর তা কমিশনের নজরে আসে। ওই সাতজনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত শুরু হয়।
কমিশনের কী নির্দেশ ছিল (EC Removes 7 Jawans)?
ভোট চলাকালীন কেন্দ্রীয় বাহিনীর জন্য আগেই কঠোর গাইডলাইন জারি করেছিল নির্বাচন কমিশন। সেখানে সেই গাইডলাইনে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছিল, কোনও ব্যক্তিগত বা পারিবারিক নিমন্ত্রণ গ্রহণ করা যাবে না, ধর্মীয় বা সামাজিক অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে এবং স্থানীয়দের সঙ্গে অপ্রয়োজনীয় ঘনিষ্ঠতা এড়িয়ে চলতে হবে। বাহিনীর প্রতিটি পদক্ষেপ যেন সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ থাকে, সেই দিকেই জোর দেওয়া হয়েছিল। এই নিয়মগুলির মূল উদ্দেশ্য একটাই ভোট প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বজায় রাখা এবং কোনওভাবেই যাতে নির্বাচন প্রভাবিত না হয়, তা নিশ্চিত করা।
কেন এত সংবেদনশীল এই বিষয় (EC Removes 7 Jawans)?
নির্বাচনের সময় কেন্দ্রীয় বাহিনীকে নিরপেক্ষতার প্রতীক হিসেবে দেখা হয়। তারা যদি কোনও নির্দিষ্ট সম্প্রদায় বা পরিবারের নিমন্ত্রণে অংশ নেয়, তাহলে রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্ব বা প্রভাবের অভিযোগ উঠতে পারে।
বিশেষ করে সংবেদনশীল জেলা হিসেবে পরিচিত মুর্শিদাবাদে এই ধরনের ঘটনা প্রশাসনের কাছে আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। এই কারণেই কমিশন কোনও ঝুঁকি নিতে চাইছে না।
অন্য রাজ্যে বদলি (EC Removes 7 Jawans)

ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে কমিশন ধাপে ধাপে ব্যবস্থা নেয়। জানা যাচ্ছে—৩ জন জওয়ানকে ৭ দিনের জন্য প্যারা মিলিটারি কাস্টডিতে রাখা হয়েছে, ২ জনকে কড়া সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে এবং বাকি ২ জনের বিরুদ্ধে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু হয়েছে। তবে শুধু প্রশাসনিক পদক্ষেপেই সীমাবদ্ধ থাকেনি বিষয়টি। নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে অভিযুক্ত ৭ জন জওয়ানকেই রাজ্যের বাইরে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে সূত্রের খবর।
আরও পড়ুন-
BJP Candidate List: রেকর্ড ২৪০০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনীতে মুড়ছে রাজ্য, প্রার্থী তালিকায় ‘ভূমিপুত্র’ ও ‘নারীশক্তিতে’ শান বিজেপির
West Bengal election 2026: বাংলার ভোটে ‘মেগা সিকিউরিটি প্ল্যান! ২৪০০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের সিদ্ধান্ত
রাজ্যে কেন্দ্রীয় বাহিনীর ভূমিকা
ভোটের আগে আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে মোতায়েন করা হয়েছে কেন্দ্রীয় বাহিনী। তাঁদের উপস্থিতি সাধারণ ভোটারদের মধ্যে আস্থা বাড়ায়। তাই তাঁদের প্রতিটি পদক্ষেপের ওপর নজর রাখছে কমিশন।
তবে এই ঘটনার মাধ্যমে ফের স্পষ্ট করে দিল নির্বাচন কমিশন, নিয়মের বাইরে গেলেই শাস্তি নিশ্চিত, সে যত ছোট ঘটনাই হোক না কেন। ভোটের আগে কোনও ঝুঁকি নিতে নারাজ কমিশন। তাই শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নিয়েই এগোচ্ছে প্রশাসন।
