Bhangar Violence
Bengal Liberty Desk, ২৭ মার্চ, কলকাতা: ভোট যত এগিয়ে আসছে, ততই অশান্তির আঁচ বাড়ছে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে। তারই মধ্যে ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠল দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভাঙড়। গতকাল, বৃহস্পতিবার রাতের ঘটনায় তৃণমূলের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসের অভিযোগ তুলে সরব বিরোধী শিবির। আইএসএফ কর্মীদের উপর হামলা, ইটবৃষ্টি, ভাঙচুর সব মিলিয়ে রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় এলাকা।
সভা ফেরার পথে হামলার অভিযোগ (Bhangar Violence)

জানা গিয়েছে, ওইদিন সন্ধ্যায় ভাঙড়ে একটি জনসভা করেন আইএসএফ নেতা নওশাদ সিদ্দিকি। অভিযোগ, সভা শেষে বাড়ি ফেরার সময় তাঁর সমর্থকদের উপর হামলা হয়। আইএসএফের অভিযোগের তির সরাসরি তৃণমূল নেতা খইরুল ইসলামের অনুগামীদের দিকে।
আইএসএফের দাবি, সভায় ব্যাপক জনসমাগমে ভয় পেয়ে বিরোধী শক্তিকে দমাতেই এই হামলা চালানো হয়েছে।
ইটবৃষ্টি ও ভাঙচুরে উত্তপ্ত এলাকা (Bhangar Violence)
হামলার অভিযোগ ঘিরেই পরিস্থিতি দ্রুত অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে। পাকাপোল সংলগ্ন এলাকায় একটি গ্যারেজে থাকা মাটি কাটার যন্ত্র ও গাড়িকে লক্ষ্য করে ইট ছোড়ার ঘটনা ঘটে। একাধিক গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয় বলেও অভিযোগ। এবং দুই পক্ষের মধ্যে মারধরের ঘটনাও সামনে আসে।
ঘটনাস্থলে পুলিশ, তবু প্রশ্ন (Bhangar Violence)
খবর পেয়ে পোলেরহাট থানার পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। কিছু সময় পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলেও কেন আগেভাগে ব্যবস্থা নেওয়া হল না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে বিরোধীরা। উল্লেখ্য ওই ঘটনার পর এলাকায় পৌঁছে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন নওশাদ সিদ্দিকি। পুলিশ প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। তাঁর দাবি, প্রশাসন আগে থেকে সতর্ক থাকলে এই ঘটনা এড়ানো যেত।
তৃণমূলের পালটা আক্রমণ (Bhangar Violence)
অন্যদিকে সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তৃণমূল প্রার্থী শওকত মোল্লা। তাঁর দাবি, ভাঙড়ে অশান্তির নেপথ্যে রয়েছেন নওশাদ নিজেই। ইচ্ছাকৃতভাবে উত্তেজনা ছড়ানো হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
শওকত মোল্লার আরও দাবি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নষ্ট করার জন্য পরিকল্পিতভাবে এই গোলমাল পাকানো হয়েছে এবং এর দায় নওশাদেরই নিতে হবে। এমনকি তাঁর গ্রেফতারির দাবিও তোলেন তিনি।
ভাঙড়ের হিংসার ইতিহাস ফের সামনে (Bhangar Violence)
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভাঙড় বরাবরই নির্বাচনী হিংসার জন্য পরিচিত। মনোনয়ন জমা থেকে শুরু করে ভোটের দিন এবং ফল ঘোষণার সময় প্রায় প্রতিটি পর্যায়েই উত্তেজনার নজির রয়েছে। এই ঘটনার পর প্রশ্ন উঠছে, আসন্ন নির্বাচনে আবার কী সেই একই হিংসার ছবি ফিরে আসতে চলেছে?
আরও পড়ুন-
Bhangar blast NIA: ভাঙড় বিস্ফোরণে তদন্তে নামছে NIA, বোমা চক্রে এবার বড় ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিত!
ISF Candidate: জল্পনার অবসান! ভাঙড়ে শওকতের বিরুদ্ধে নওশাদই প্রার্থী, ক্যানিং পূর্বে আরাবুল
বিরোধীদের অভিযোগ
বিরোধী শিবিরের দাবি, রাজ্যে শাসকদলের বিরুদ্ধে কথা বললেই হামলার মুখে পড়তে হচ্ছে। গণতান্ত্রিক অধিকার খর্ব করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ তুলছে তারা। কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপস্থিতি সত্ত্বেও এমন ঘটনা ঘটায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।
ভোটের আগে ভাঙড়ের এই ঘটনা স্পষ্ট করছে, রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ক্রমশই উত্তপ্ত হচ্ছে। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা, অবাধ ভোট এবং প্রশাসনের নিরপেক্ষতা এই তিনটি প্রশ্নই এখন সবচেয়ে বড় হয়ে উঠেছে।
