Modi asansol rally
Bengal Liberty Desk, Kolkata:
প্রায় ৭ বছর পর আবার ইরানের তেল কিনতে শুরু করল ভারত India Iran oil trade। তবে এবার লেনদেনের মাধ্যম মার্কিন ডলার নয়, পুরোটাই হচ্ছে ভারতীয় রুপিতে। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের জেরে তেলের দাম আকাশ ছোঁয়া এবং রুপির রেকর্ড পতনের মধ্যে মোদি সরকারের এই পদক্ষেপকে ‘কৌশলী চাল’ হিসেবেই দেখছে কূটনৈতিক মহল।

কী ঘটেছে? India Iran oil trade
তেল মন্ত্রক সূত্রে খবর, মধ্যপ্রাচ্যে সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ায় ভারতীয় রাষ্ট্রায়ত্ত রিফাইনারি সংস্থাগুলি ইরান থেকে অপরিশোধিত তেল আমদানি করেছে। ২০১৯ সালের মে মাসে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরান থেকে তেল কেনা বন্ধ করেছিল নয়াদিল্লি। প্রায় ৫ বছর পর আবার সেই পথ খুলল। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, এই তেলের দাম মেটানো হচ্ছে সম্পূর্ণ রুপিতে। ২০১৮ সালের ২ নভেম্বর ভারত-ইরান যে চুক্তি সই করেছিল, সেই অনুযায়ী UCO Bank-এর মাধ্যমে রুপি পেমেন্ট মেকানিজম চালু আছে। আগে ৪৫% রুপি + ৫৫% ইউরোতে দাম মিটত, এবার ১০০% রুপিতে হচ্ছে।

‘রুপি’ ম্যাজিক ও পেমেন্ট মেকানিজম
ডলারের ওপর নির্ভরতা কমাতে ভারত ও ইরান একটি বিশেষ রুপি-ভিত্তিক বাণিজ্য ব্যবস্থা পুনরায় সক্রিয় করেছে।
ইউকো ব্যাঙ্ক (UCO Bank): তেলের দাম মেটানোর জন্য ভারত সরকার রুপি ব্যবহার করছে, যা ইউকো ব্যাঙ্কের বিশেষ অ্যাকাউন্টে জমা থাকে।
দ্বিমুখী বাণিজ্য: এই জমানো রুপি ইরান সরাসরি ভারতে খরচ করতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, ইরান এই টাকা দিয়ে ভারত থেকে টেক্সটাইল, চাল, ওষুধ বা অন্যান্য প্রয়োজনীয় পণ্য কিনতে পারছে। এর ফলে ডলারের কোনো প্রয়োজন পড়ছে না এবং আমেরিকার নিষেধাজ্ঞার ভয়ও থাকছে না।
কেন রুপি?
নিষেধাজ্ঞা এড়ানো: ইরানের উপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা থাকায় ডলারে লেনদেন সম্ভব নয়। রুপিতে লেনদেন করলে SWIFT সিস্টেমের বাইরে গিয়ে কাজ করা যায়।
ডলার সাশ্রয়: ইরান-ইসরায়েল-আমেরিকা যুদ্ধের জেরে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১১৯ ডলার ছুঁয়েছে। রুপিও ডলারের বিপরীতে ৯২.৩৫-এর রেকর্ড নিম্নস্তরে পৌঁছেছে। এই অবস্থায় ডলার খরচ বাঁচাতে রুপিতে তেল কেনা ভারতের জন্য লাভজনক।
ইরানের সুবিধা: ইরান এই রুপি দিয়ে ভারত থেকে খাদ্য, ওষুধ, মেডিক্যাল যন্ত্রাংশ কিনতে পারবে। এমনকি ভারতীয় সরকারি বন্ডেও বিনিয়োগ করতে পারবে। পেট্রোলিয়াম পণ্য, স্টিল বা গাড়ি রপ্তানি অবশ্য করা যাবে না।
সরকারের ছাড়
ভারতের অর্থমন্ত্রক একটি নির্দেশিকায় জানিয়েছে, ইরানের ন্যাশনাল ইরানিয়ান অয়েল কোম্পানিকে রুপিতে পেমেন্ট করলে ৪২.৫% উইথহোল্ডিং ট্যাক্স দিতে হবে না। এই ছাড় না থাকলে রুপি চুক্তি কার্যকর করা মুশকিল হত।
পশ্চিমের প্রতিক্রিয়া
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সম্প্রতি সরবরাহ সংকট কমাতে রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ-সহ ভারতীয় সংস্থাগুলিকে নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও রুশ ও ইরানি তেল কেনার অনুমতি দিয়েছে। ফলে আপাতত ওয়াশিংটন এই রুপি লেনদেন নিয়ে কড়া অবস্থান নিচ্ছে না। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘমেয়াদে এটি মার্কিন নিষেধাজ্ঞা নীতির জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে।
ঝুঁকিও কম নয়
যুদ্ধের কারণে তেলের দাম ৪০% বেড়েছে। ভারত তার প্রয়োজনের ৮০% এলএনজি মধ্যপ্রাচ্য থেকে আনে। হরমুজ প্রণালী বন্ধ হলে সরবরাহে বড় ধাক্কা লাগবে। ভারতের তেলের মজুত মাত্র ২৫ দিনের চাহিদা মেটাতে পারবে বলে জানিয়েছে রয়টার্স।
বিশ্লেষকরা কী বলছেন
বার্কলেজ ব্যাংক ও এইচএসবিসি জানিয়েছে, যুদ্ধের কারণে রুপি এশিয়ার অন্যান্য মুদ্রার তুলনায় দুর্বল হচ্ছে। চিনের ইউয়ান ও সিঙ্গাপুর ডলারের বিপরীতে রুপির পতন ঠেকাতে ভারতীয় ব্যাংকগুলি ক্রস-কারেন্সি ট্রেডের পরামর্শ দিচ্ছে।
সরকারি সূত্রের দাবি, রুপিতে তেল কেনার এই মডেল রাশিয়ার ক্ষেত্রে ইতিমধ্যেই সফল। সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমির শাহর সঙ্গেও ভবিষ্যতে একই ধরনের চুক্তি হতে পারে কিনা, তা নিয়ে আলোচনা চলছে। তবে পুরোটাই নির্ভর করছে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি ও মার্কিন নীতির উপর।
