Mamata Banerjee advisor resignation
Bengal Liberty, ৬ মে :
পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতার পালাবদলের পর প্রশাসনিক অন্দরে শুরু হয়েছে নড়াচড়া (Mamata Banerjee advisor resignation)। নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতার মাঝেই একে একে গুরুত্বপূর্ণ পদ ছাড়ছেন অবসরপ্রাপ্ত শীর্ষ আমলারা। বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুখ্য উপদেষ্টা পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন প্রাক্তন মুখ্যসচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায় এবং হরিকৃষ্ণ দ্বিবেদী। পাশাপাশি, মুখ্যমন্ত্রীর প্রিন্সিপাল সচিবের পদ থেকেও সরে দাঁড়িয়েছেন আর এক প্রাক্তন আমলা মনোজ পন্থ—যদিও এ বিষয়ে এখনও সরকারি তরফে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা মেলেনি। নবান্ন সূত্রে খবর, মঙ্গলবার মুখ্যমন্ত্রীর সাংবাদিক বৈঠকের আগেই এই পদত্যাগের সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছে। উল্লেখযোগ্যভাবে, ওই বৈঠকেই মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে দেন যে তিনি নিজের পদ ছাড়ছেন না, যদিও নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের পরাজয় রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আমূল বদলে দিয়েছে (Mamata Banerjee advisor resignation)।

প্রশাসনিক আস্থার সমীকরণে বদল (Mamata Banerjee advisor resignation)
আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায় এবং হরিকৃষ্ণ দ্বিবেদী—দু’জনেই রাজ্যের প্রশাসনিক কাঠামোর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মুখ ছিলেন। মুখ্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব সামলানোর পর তাঁদের মুখ্যমন্ত্রীর মুখ্য উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছিল। সাধারণত, অবসরের পর এই ধরনের পদে নিয়োগ নির্ভর করে শাসকের আস্থা ও রাজনৈতিক পরিস্থিতির উপর। সেই আস্থার সমীকরণ বদলাতেই তাঁদের সরে দাঁড়ানো তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন প্রশাসনিক মহল।

অতীতের বিতর্ক ফিরে এল আলোচনায় (Mamata Banerjee advisor resignation)
এই দুই আমলাকে ঘিরে অতীতেও একাধিক বিতর্ক সামনে এসেছিল। ২০২৩ সালে হরিকৃষ্ণ দ্বিবেদীর মেয়াদ বৃদ্ধিকে কেন্দ্র করে বিরোধিতা করেছিলেন তৎকালীন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী, যিনি বিষয়টি নিয়ে দিল্লিতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ-এর দ্বারস্থ হয়েছিলেন। অন্যদিকে, ২০২১ সালে আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়কে কেন্দ্রের তরফে বদলির নির্দেশ ঘিরে তৈরি হয়েছিল কেন্দ্র-রাজ্য সংঘাত। শেষ পর্যন্ত সেই টানাপোড়েনের মাঝেই তাঁর অবসরের আগের দিন মুখ্যমন্ত্রীর উপদেষ্টা হিসেবে নতুন ভূমিকা ঘোষণা করা হয়।

আরও ইস্তফার ইঙ্গিত? (Mamata Banerjee advisor resignation)
প্রশাসনিক মহলের একাংশের মতে, এই পদত্যাগ কেবল শুরু হতে পারে। নতুন সরকার গঠনের প্রেক্ষাপটে আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদে পরিবর্তন আসতে পারে বলেও জল্পনা বাড়ছে। ইতিমধ্যেই রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল কিশোর দত্ত পদত্যাগ করেছেন এবং রাজ্যপালের কাছে ইস্তফাপত্র জমা দিয়েছেন। সব মিলিয়ে, রাজনৈতিক পালাবদলের সরাসরি প্রভাব পড়তে শুরু করেছে প্রশাসনিক স্তরেও। আগামী দিনে নবান্নের ক্ষমতার কাঠামো কতটা বদলাবে, সেটাই এখন দেখার।
