Satudru Dutta
Bengal liberty desk, 6 মে , কলকাতা:
সময় সব হিসেব সুদে-আসলে ফিরিয়ে দেয়—বাংলার রাজনীতির পালাবদলের আবহে এই প্রবাদটিই যেন সত্যি হতে চলেছে। দীর্ঘ কয়েক মাসের নীরবতা ভেঙে অবশেষে লিয়োনেল মেসির কলকাতা সফর বা ‘দ্য গোট ট্যুর’-এর সেই অভিশপ্ত বিশৃঙ্খলা নিয়ে মুখ খুললেন আয়োজক শতদ্রু দত্ত (Satudru Dutta)। ২০২৬-এর নির্বাচনে প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের পরাজয়ের পরেই সমাজমাধ্যমে নিজের জমে থাকা ক্ষোভ উগরে দিলেন তিনি। তাঁর সাফ কথা— “তোমার খেলা শেষ, এবার আমার শুরু।”

পরিবারের নিরাপত্তার দোহাই দিয়ে নীরবতা Satudru Dutta
জেল থেকে মুক্তির পর এতদিন কেন চুপ ছিলেন শতদ্রু? সেই রহস্যের জট খুলে তিনি দাবি করেছেন, তাঁকে এবং তাঁর পরিবারকে চরম হুমকির মুখে রাখা হয়েছিল। শতদ্রুর বয়ানে, “আমাকে স্পষ্ট বলা হয়েছিল, মুখ খুললে তোমার পরিবারকে শেষ করে দেব। প্রতিদিন একটা মৃত্যুভয় নিয়ে বেঁচে ছিলাম। স্রেফ পরিবারকে বাঁচাতেই এতদিন সব মুখ বুজে সহ্য করেছি।”

ষড়যন্ত্রের পর্দাফাঁস
শতদ্রুর নিশানায় সরাসরি প্রাক্তন মন্ত্রী এবং তাঁর অনুগামীরা। তাঁর দাবি, গত ১৩ই ডিসেম্বর যুবভারতীর বিশৃঙ্খলা কোনো দুর্ঘটনা ছিল না, বরং তা ছিল একটি সুপরিকল্পিত চক্রান্ত। তাঁর সংস্থার কর্মীদের একটি ঘরে আটকে রেখে ভয় দেখানো হয়েছিল এবং জোর করে মাঠের ‘অ্যাক্সেস কার্ড’ কেড়ে নেওয়া হয়েছিল।
শতদ্রু বারবার বারণ করা সত্ত্বেও মন্ত্রী ও তাঁর দলবল মেসিকে এমনভাবে ঘিরে রেখেছিলেন যে, হাজার হাজার টাকার টিকিট কাটা দর্শকরা ব্রাত্য হয়ে পড়েন। যার ফলে উন্মত্ত জনতা স্টেডিয়ামে ভাঙচুর চালায়।
সাধারণ মানুষের রোষ থেকে বাঁচতে এবং নিজেদের দোষ ঢাকতে পুলিশকে দিয়ে শতদ্রুকেই ‘বলির পাঁঠা’ বানানো হয়েছিল বলে তাঁর দাবি।
লড়াই এবার আইনি পথে:
৩৮ দিন জেল খাটার অপমান আর দীর্ঘ তিন বছরের পরিশ্রম বৃথা হওয়ার যন্ত্রণা ভুলতে পারছেন না এই ক্রীড়া সংগঠক। তিনি জানিয়েছেন, খুব শীঘ্রই একটি সাংবাদিক সম্মেলন করে সমস্ত তথ্য এবং নথিপত্র জনসমক্ষে আনবেন। শুধু তাই নয়, ব্যক্তিগত সম্মানহানি এবং ব্যবসায়িক ক্ষতির জন্য ৫০ কোটি টাকার মানহানির মামলা করার প্রস্তুতিও শুরু করেছেন তিনি।
২০১১-তে যখন মেসির আগমনে বাংলায় পরিবর্তনের হাওয়া লেগেছিল, তখন কেউ ভাবেনি ২০২৬-এর পালাবদলের পর সেই মেসির নামটাই আবার শাসকের অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়াবে। টালিগঞ্জে অরূপ বিশ্বাসের হারের পর শতদ্রু দত্তর এই গর্জন প্রমাণ করে দিচ্ছে—রাজনীতির ময়দানে ক্ষমতার বদল হলেও, ব্যক্তিগত লড়াইটা বোধহয় এবার আরও তীব্র হতে চলেছে।
