WB Assembly Session 2026
Bengal Liberty, ১৫ মে :
পশ্চিমবঙ্গের ১৮তম বিধানসভার প্রথম অধিবেশন শুক্রবার শুরু হয়েছিল এক ঐতিহাসিক ও ব্যতিক্রমী পরিবেশে (WB Assembly Session 2026)। দীর্ঘদিনের প্রচলিত রীতি ভেঙে প্রথমবার বিধানসভা কক্ষের কার্যক্রম শুরু হয় ‘বন্দে মাতরম’ ধ্বনি ও গানের মাধ্যমে। কিন্তু সেই গাম্ভীর্য বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। অধিবেশন শুরু হতেই শাসক বিজেপি ও বিরোধী তৃণমূল কংগ্রেসের মধ্যে স্লোগান যুদ্ধ, পালটা অভিযোগ এবং তীব্র বাক্যবিনিময়ে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে গোটা বিধানসভা। রাজনৈতিক মহলের মতে, প্রথম দিনের ঘটনাপ্রবাহ স্পষ্ট করে দিল যে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের বাংলায় বিধানসভার অন্দরেও সংঘাতের রাজনীতি আরও তীব্র হতে চলেছে। ‘ভারত মাতা কী জয়’ বনাম ‘জয় বাংলা’- এই স্লোগান লড়াই কার্যত নতুন মেরুকরণের ইঙ্গিত দিল (WB Assembly Session 2026)।

স্লোগান-পালটা স্লোগানে উত্তপ্ত কক্ষ (WB Assembly Session 2026)
অধিবেশন শুরু হতেই বিজেপি বিধায়কদের কণ্ঠে শোনা যায় ‘ভারত মাতা কী জয়’ স্লোগান। পালটা তৃণমূল বিধায়করাও ‘জয় বাংলা’ ধ্বনিতে সরব হন। কিছুক্ষণের মধ্যেই পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বিজেপির একাংশ মুখ্যমন্ত্রীকে নিশানা করে ‘চোর চোর’ এবং ‘ফাইল চোর মমতা’ স্লোগান দিতে শুরু করেন। এর জবাবে তৃণমূল বিধায়করা প্রশাসনের একাংশ এবং মুখ্যসচিবকে ব্যবহার করে ভোটে অনিয়ম ও ‘ভোট লুটের’ অভিযোগ তোলেন। দুই পক্ষের তীব্র স্লোগান ও বাক্যবিনিময়ে কার্যত অচলাবস্থা তৈরি হয় বিধানসভা কক্ষে। পরিস্থিতি চরমে পৌঁছালে বিরোধী দল তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়করা একযোগে ওয়াকআউট করেন। তৃণমূলের অভিযোগ ছিল, জাতীয় সংগীত যথাযথ মর্যাদায় পরিবেশন করা হয়নি। যদিও কয়েক মিনিট পর ফের কক্ষে ফিরে আসেন বিরোধী বিধায়করা।

বিরোধীদের অনুপস্থিতিতেই স্পিকার নির্বাচন (WB Assembly Session 2026)
চরম উত্তেজনার আবহের মধ্যেও বিধানসভার সাংবিধানিক প্রক্রিয়া থেমে থাকেনি। নিয়ম মেনেই শুরু হয় স্পিকার নির্বাচনের প্রক্রিয়া। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী কোচবিহার দক্ষিণ কেন্দ্রের বিধায়ক রথীন্দ্রনাথ বসুর নাম প্রস্তাব করেন। সেই প্রস্তাব সমর্থন করেন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। বিরোধী শিবিরের অনুপস্থিতির মধ্যেই শেষ পর্যন্ত বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ১৮তম বিধানসভার নতুন অধ্যক্ষ নির্বাচিত হন রথীন্দ্রনাথ বসু। প্রথম দিনের অধিবেশনেই যে মাত্রার সংঘাত ও মেরুকরণ সামনে এল, তা আগামী দিনে বিধানসভার প্রতিটি অধিবেশনকে আরও বেশি রাজনৈতিকভাবে উত্তপ্ত করে তুলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
