Kalyan Mahua
Bengal Liberty : রাজ্য রাজনীতির চেনা সমীকরণগুলো ক্রমেই অচেনা আর হাস্যকর হয়ে উঠছে। “আমি মাত্র একটি নারী হেটার, That is Mahuya Maitra”- এই কথাটাই বলেছিলেন শ্রীরামপুর লোকসভার সাংসদ তথা আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় (Kalyan Mahua)। আজ তৃণমূলের দুর্দিনে সেই ‘ঘৃণার পাত্রী’ মহুয়াকে নিজের গাড়িতে বসিয়ে লোকসভায় ঢুকছেন কল্যাণ। মহুয়া মৈত্রও অবশ্য কোনও মহীয়সী নারীদের থেকে কম যান না। ইনিই সেই মহুয়া মৈত্র, যিনি ২৫ সালে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে প্রকাশ্যে “নারীবিদ্বেষী” বলেছিলেন। এক সাক্ষাৎকারে কল্যাণকে বরাহ আখ্যা দিতেও পিছ-পা হননি তিনি। সেই “নারীবিদ্বেষী পুরুষ”-এর লেজে পা পড়তেই গর্জে উঠলেন স্বয়ং কৃষ্ণনগরের তৃণমূল সাংসদ (Kalyan Mahua)। ২৪ সাল থেকে তৈরি হওয়া সাপ এবং নেউলের সম্পর্ক কি এবার আমে-দুধে মিশে যাচ্ছে?

ব্রেকআপ পর্ব শেষ দুই সাংসদের (Kalyan Mahua)
আগের বছর অবধি কল্যাণের মুখ দেখলে ‘দিন খারাপ যেত’ মহুয়ার। এখন জুটি বেঁধে গাড়ি নিয়ে যাতায়াত করছেন তাঁরা। ঘটনার সূত্রপাত শুক্রবার সন্ধ্যায়। সংসদে প্রবেশের সময় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন কল্যাণ ও মহুয়া। কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার কাছে অভিযোগ দায়ের করেছে বিদ্রোহী সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার। সেই প্রসঙ্গেই সাংবাদিকরা জানতে চান, নিজের অবস্থান স্পষ্ট করতেই কি তিনি সংসদে এসেছেন? জবাবে কল্যাণ সংক্ষেপে বলেন, “সে বিষয়ে আসিনি।” কিন্তু ফুঁসে ওঠেন মহুয়া মৈত্র। সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, “কল্যাণদার এত খারাপ দিন আসেনি যে, কাকলিদির বিষয়ে কথা বলতে আসতে হবে।” গাত্রদাহের পাত্রই হঠাৎ-ই ‘কাটা ঘায়ের মলম’ হল কীভাবে? প্রশ্ন রাজনৈতিক মহলে।

উত্তর দিতে ছাড়েননি কাকলি (Kalyan Mahua)
কল্যাণ যে শুধু মহুয়ার সঙ্গে মধুর সম্পর্ক রেখেছিল, তাই নয় ইদানিং আরও মধুর সম্পর্ক একসময়ের সহযোদ্ধা কাকলির সঙ্গে! মুখ খুললেই দু’জনের মধ্যে ঝামেলা। কিন্তু মহুয়ার সঙ্গে প্যাচ হওয়ার পর কল্যাণের পাশাপশি কাকলির শত্রুতা বাড়ল মহুয়ার সঙ্গে। সংসদ চত্বরে মহুয়া মৈত্রের মন্তব্যের ভিডিও প্রকাশ্যে আসতেই তা সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করেন বিজেপি নেত্রী কেয়া ঘোষ। কাকলি ঘোষ দস্তিদারের সমর্থনে সরব হয়ে তিনি মহুয়ার কড়া সমালোচনা করে লেখেন, “নীতিহীন, দুর্মুখ মহুয়া মৈত্রকে কেউ দয়া করে বলুন যে, কাকলি ঘোষ দস্তিদার একজন উচ্চ যোগ্যতাসম্পন্ন চিকিৎসক। অথবা সম্ভবত ওঁর কাছে এখন আঙুর ফল টক।” এরপর সেই পোস্টই নিজের সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করেন কাকলি ঘোষ দস্তিদার। পাশাপাশি মহুয়ার অতীত বিতর্কের প্রসঙ্গ টেনে তিনি লেখেন, “জাতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত তথ্য বিক্রি করার কারণে তাঁর বহিষ্কৃত হওয়ার ঘটনাও এখনও কেউ ভোলেননি।”
একটা কথা স্পষ্ট কল্যাণের সঙ্গে মহুয়ার প্যাচ আপ হলেও কাকলির সঙ্গে তা-বনির সিনেমায় হাউসফুল হওয়ার মতোই। প্রসঙ্গত, লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন তৃণমূলের বিদ্রোহী শিবিরের ২০ জন সাংসদ। বৈঠকের পর তাঁরা আনুষ্ঠানিকভাবে জানান, তাঁদের গোষ্ঠী ‘ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অফ ইন্ডিয়’ (NCPI)-র সঙ্গে যোগ হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আর এই বিদ্রোহী সাংসদদের মূল মাথা ধরা হচ্ছে কাকলিকেই। কল্যাণ মহুয়ার ‘প্যাচআপ’ স্টোরির প্রথম এপিসোড কাকলিকে দিয়ে শুরু হলেও এখন দেখার প্যাচআপ স্টোরির পরবর্তী এপিসোড কবে আসতে চলেছে! আর ভিলেনই বা কে হতে চলেছেন!



