TMC Councillor
Bengal Liberty:
রাজনৈতিক পালাবদলের পর একের পর এক তৃণমূল নেতারা গ্রেফতার হচ্ছে পুলিশের জালে (TMC Councillor)। অবশেষে ধরা পড়লেন এলাকা কাঁপানো টাকির ‘ডন’ তথা টাকি পুরসভার তিন নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর ও পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যান ফারুক গাজি। দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর, রাজ্য পুলিশের স্পেশাল অপারেশন গ্রুপ বেঙ্গালুরুর একটি গোপন আস্তানা থেকে তাকে গ্রেফতার করে । গতকাল গভীর রাতে বেঙ্গালুরু পুলিশের সহযোগিতায় এই রুদ্ধশ্বাস যৌথ অপারেশন চালায় রাজ্য পুলিশ । আজ, ধৃত প্রভাবশালী নেতাকে বেঙ্গালুরুর স্থানীয় আদালতে পেশ করে ট্রানজিট রিমান্ডে হাসনাবাদ থানায় নিয়ে আসা হয়েছে।

টাকির ‘ডন’-এর দাপটের অবসান?
বিজেপি সরকার গঠন ও মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স’ বার্তার পরেই প্রশাসন এই ধরনের প্রভাবশালী অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যাপক অভিযান শুরু করেছে । পুলিশ সূত্রে খবর, গত ৩ জুন প্রবীর রায় চৌধুরী নামে স্থানীয় এক ব্যক্তির লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে ফারুক গাজি ও টাকি পুরসভার চেয়ারম্যান সোমনাথ মুখোপাধ্যায়-সহ মোট ১৬ জনের বিরুদ্ধে একটি গুরুতর মামলা রুজু হয়। ফারুকের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনের ধারা-সহ একাধিক জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে । খুনের চেষ্টা, অনধিকার প্রবেশ, জোরপূর্বক টাকা আদায়, চুরি, সম্পত্তি ভাঙচুর, অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র, হুমকি প্রদর্শনের মতো অত্যন্ত গুরুতর সব ধারা দায়ের হয়েছে ফারুকের বিরুদ্ধে।

এলাকায় এই ফারুক গাজির দাপট ও একচ্ছত্র আধিপত্যের কথা কারও অজানা নয় । তাঁর বিরুদ্ধে জোর করে সাধারণ মানুষের জমি দখল, সরকারি সম্পত্তি ও নদীর চর ভেড়ি বানানোর জন্য দখল সহ একাধিক অভিযোগ রয়েছে । পাশাপাশি, কেন্দ্রীয় প্রকল্প আবাস যোজনার ঘর পাইয়ে দেওয়ার নাম করে দরিদ্র মানুষের থেকে মোটা অঙ্কের ‘কাটমানি’ বা সিন্ডিকেট ট্যাক্স আদায়েরও মূল মাথা ছিলেন এই ফারুক । এমনকি ভোটের আগে বিরোধী দলের কর্মী-সমর্থকদের ভয় দেখানো এবং তাঁদের নির্বাচনী প্রচারে বাধা দেওয়ার একাধিক অভিযোগ এর আগে সামনে এসেছিল । ফারুকের গ্রেফতারিতে রীতিমত চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নিচ্ছে সেটাই দেখার।


