CM Suvendu Adhikari
Bengal Liberty : মুর্শিদাবাদের কর্ণসুবর্ণে ট্রেন-পুলকার দুর্ঘটনার ক্ষত এখনও তাজা। ১৭ জুলাইয়ের সেই মর্মান্তিক ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছিল ৪ শিশু-সহ মোট ৫ জন। বৃহস্পতিবার নিহতদের পরিবারের পাশে দাঁড়াতে কর্ণসুবর্ণে পৌঁছলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (CM Suvendu Adhikari)। সভামঞ্চে যাওয়ার আগে সরাসরি স্বজনহারাদের সঙ্গে দেখা করেন তিনি। সমবেদনা জানিয়ে পাশে থাকার আশ্বাস দেন। পাশাপাশি রাজ্যের তরফে মৃতদের পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয় আর্থিক সহায়তা (CM Suvendu Adhikari)। তারপর তিনি মঞ্চ থেকে বলেন, “চোখের জল ছাড়া আমার ব্যক্তিগতভাবে দেওয়ার কিছু নেই, তবে আমার পক্ষে যা সম্ভব আমি করব”।

ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে শাস্তির ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর (CM Suvendu Adhikari)
এদিন মুর্শিদাবাদের কর্ণসুবর্ণে পৌঁছেই প্রথমে দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখানে স্থানীয় বাসিন্দাদের সাথেও বেশ কিছুক্ষণ কথা বলেন। তারপর মৃতের পরিবারের সদস্যদের সাথে মঞ্চের নিচে দাঁড়িয়েই কথা বলেন। পাশে থাকার আশ্বাস দেন। পাশাপশি এই দুর্ঘটনায় গ্রেফতার গেটম্যানের উপযুক্ত শাস্তি হবে বলেও কথা দেন মুখ্যমন্ত্রী। পাশপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদেরও মৃতের পরিবারের পাশে থাকার অনুরোধ করেন। এরপর মঞ্চ থেকে তিনি বলেন, ” দুঃখপ্রকাশের ভাষা নেই। অর্থ দিয়ে এই ক্ষতি পূরণ হয় না। তবে সরকারের দায়িত্ব রয়েছে। সরকার তা পালন করছে।”
এরপরই দুর্ঘটনার জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপের বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি জানান, প্রাথমিক তদন্তে রেল ও পুলিশের রিপোর্টে গেটম্যানের চরম গাফিলতির ইঙ্গিত মিলেছে। তাঁর কথায়, “এই দায়িত্বজ্ঞানহীনতার ফলেই এতগুলো নিরীহ প্রাণ ঝরে গিয়েছে। এই অপরাধ কোনওভাবেই ক্ষমার যোগ্য নয়। আমি আশ্বাস দিচ্ছি, দোষীকে কঠোরতম শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে।” মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির আরও কিছু আবেদন রয়েছে। সেগুলিও সরকার গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করবে এবং তাঁর পক্ষে যা যা করা সম্ভব, সবই করা হবে। জানা গিয়েছে, সভা শেষ হওয়ার পর দুর্ঘটনায় আহতদের শারীরিক অবস্থার খোঁজ নিতে হাসপাতালে যাওয়ারও কর্মসূচি রয়েছে তাঁর।

ঘটনার বৃত্তান্ত (CM Suvendu Adhikari)
১৭ জুলাই দুর্ঘটনাটি ঘটে বহরমপুর থানার অন্তর্গত কর্ণসুবর্ণ ও গোবিন্দপুর স্টেশনের মাঝের ২৪এ/২ নম্বর রেলগেটে। সেদিন সকাল প্রায় ৭টা নাগাদ একটি ট্রেন যাওয়ার জন্য রেলগেট বন্ধ করা হয়েছিল। ট্রেনটি চলে যাওয়ার পর গেট খুলে দেওয়া হয়। তারপরই অপেক্ষা করতে থাকা যানবাহন রেললাইন পার হতে শুরু করে। ঠিক সেই সময় দ্রুতগতিতে নিমতিতা-কাটোয়া প্যাসেঞ্জার ট্রেন এসে স্কুলগাড়ি ও এক সাইকেল আরোহীকে সজোরে ধাক্কা মারে। মুহূর্তের মধ্যে গাড়িটি দুমড়েমুচড়ে যায়। ঘটনায় ৪ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একজন পথচলতি স্থানীয় বাসিন্দারও মৃত্যু হয়েছে।

আরও পড়ুন :
Murshidabad : মুর্শিদাবাদে স্কুলগাড়িতে ট্রেনের ধাক্কা! ২ পড়ুয়া-সহ মৃত্যু ৩ জনের

