Kolkata Fire
Kolkata Fire

Kolkata Fire : আমরি-আনন্দপুর-স্টিফেন কোর্ট, বারবার আগুনের গ্রাসে কলকাতা! প্রশ্নে অগ্নিনিরাপত্তা

Bengal Liberty : মধ্যরাতে কলকাতার নিউ মার্কেটের মির্জা গালিব স্ট্রিটে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড (Kolkata Fire )। ‘শিখা ইন’ হোটেলে আগুনের ঘটনায় দমবন্ধ হয়ে মৃত্যু হয়েছে ৯ জনের। প্রাথমিক তদন্তে অনুমান, শর্ট সার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত। রাত পৌনে ২টো নাগাদ হোটেলের একটি তলায় আগুন লাগে। জানা গিয়েছে, ওই বিল্ডিংয়ের বিভিন্ন তলায় একাধিক হোটেল ছিল। আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে যায় গোটা এলাকা। অভিযোগ, হোটেলের এক্সিট গেট বন্ধ থাকায় আগুনের খবর পেয়েও অনেকে বেরোতে পারেননি। ফলে আতঙ্কের মধ্যে আটকে পড়েন বহু মানুষ। কলকাতায় অগ্নিকাণ্ডের এমন ভয়াবহ ঘটনা অবশ্য নতুন নয়। গত কয়েক বছরে শহর ও শহরতলিতে একের পর এক অগ্নিকাণ্ড প্রাণ কেড়েছে বহু মানুষের। কোথাও বন্ধ সিঁড়ি, কোথাও বন্ধ ছাদ, কোথাও আবার পর্যাপ্ত বেরোনোর পথ না থাকায় প্রাণ হারিয়েছেন বহু মানুষ (Kolkata Fire)।

Kolkata Fire
Kolkata Fire

২০২৬-এ একের পর এক অগ্নিকাণ্ড (Kolkata Fire)

নিউ মার্কেটের ঘটনার মাত্র এক দিন আগেই তারাপীঠে একটি বেসরকারি হোটেলে আগুন লাগে। সোমবার ভোর সাড়ে ৪টে নাগাদ তারাপীঠ থানার কাছে পুকুরপাড়ে ‘বিদিশিনি’ হোটেলের গ্রাউন্ড ফ্লোরে আগুন লাগে। সেই সময় অধিকাংশ আবাসিকই ঘুমিয়ে ছিলেন। এই ঘটনায় মৃত্যু হয় ৯ জনের।

এর আগে, ২০২৬ সালের জানুয়ারির শেষ দিকে কলকাতার আনন্দপুরের নাজিরাবাদে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটে। একটি ডেকোরেটরের গুদাম থেকে আগুন ছড়িয়ে পড়ে পাশের ওয়াও মোমো কারখানায়। ওই ঘটনায় মোট ২৫ জন শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছিল। এই ঘটনাগুলিই ফের সামনে আনছে শহরের অগ্নিনিরাপত্তা নিয়ে বড় প্রশ্ন।

Advertisement
Advertisement

বড়বাজারের ঋতুরাজ হোটেল থেকে স্টিফেন কোর্ট (Kolkata Fire)

গত বছরের ২৯ এপ্রিল বড়বাজারের ঋতুরাজ হোটেলে বিধ্বংসী আগুনে মৃত্যু হয়েছিল ১৪ জনের। প্রাণ বাঁচাতে অনেকে হোটেলের কার্নিসে আশ্রয় নিয়েছিলেন। কেউ উঠেছিলেন ছাদে। আবার কারও দেহ উদ্ধার হয়েছিল ঘর কিংবা শৌচাগার থেকে। যদিও স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, মৃতের সংখ্যা ১৪ নয়, প্রায় ৩০ জন।

এরও বহু আগে, ২০১০ সালের ২৩ মার্চ পার্ক স্ট্রিটের স্টিফেন কোর্টে ভয়াবহ আগুনে মৃত্যু হয়েছিল ৪৯ জনের। আগুন থেকে বাঁচতে অনেকে বহুতল থেকে ঝাঁপ দিয়েছিলেন। ছাদের দরজা বন্ধ থাকায় অনেকেই সেখানেও আটকে পড়েছিলেন।

২০১১ সালের ৯ ডিসেম্বর ঢাকুরিয়ার তৎকালীন আমরি হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ড নাড়িয়ে দিয়েছিল গোটা দেশকে। এই দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয় ৯২ জন রোগীর। ধোঁয়ায় হাসপাতালের ভিতর কার্যত গ্যাস চেম্বারের মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল।

Advertisement
Advertisement

শিয়ালদা থেকে স্ট্র্যান্ড রোড-স্মৃতিতে এখনও সেই আগুন (Kolkata Fire)

২০১৩ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি শিয়ালদার সূর্য সেন মার্কেটে ভয়াবহ আগুনে মৃত্যু হয়েছিল ২০ জনের। ফের একবার সামনে এসেছিল অগ্নিনিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন।

এরপর ২০২১ সালের ৮ মার্চ স্ট্র্যান্ড রোডের নিউ কয়লাঘাট বিল্ডিংয়ে আগুন লাগে। ঝলসে মৃত্যু হয় ৭ জনের। লিফটের ভিতরে শ্বাসরুদ্ধ হয়ে আরও ২ জনের মৃত্যু হয়।

একই শহরে বারবার আগুন। বারবার প্রাণহানি। আর প্রতিবারই সামনে আসে প্রায় একই ধরনের প্রশ্ন-জরুরি নির্গমনের পথ কি খোলা ছিল? অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা কতটা কার্যকর ছিল? নিয়মিত অগ্নিনিরাপত্তা পরিদর্শন হয়েছিল কি না? নিউ মার্কেটের ‘শিখা ইন’-এর ঘটনায় তদন্ত চলছে। আগুনের প্রকৃত কারণ, নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতি এবং জরুরি বেরোনোর পথ নিয়ে তদন্তেই আরও তথ্য স্পষ্ট হবে। তবে একের পর এক অগ্নিকাণ্ডের এই তালিকা স্পষ্ট করে দিচ্ছে, কলকাতার অগ্নিনিরাপত্তা নিয়ে আরও কঠোর নজরদারি ও কার্যকর ব্যবস্থা এখন সময়ের দাবি।

আরও পড়ুন :

https://bengalliberty.com/2026/08/19/new-market-hotel-fire/

Bengal liberty
Bengal liberty

Bengal Liberty is a platform dedicated to guerrilla, unfiltered, and independent journalism. Through YouTube, its official website, and various social media channels, Bengal Liberty seeks to present citizen journalism to the public with integrity and transparency. Editor: Bittu Roy Chowdhury