Bengal Liberty : বিশিষ্ট আইনজীবী তথা সিপিএম নেতা বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যের বাড়িতে হামলার ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই গ্রেফতার অভিযুক্ত। দক্ষিণ কলকাতা থেকে বাপ্পা গুছাইত নামে এক যুবককে গ্রেফতার করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই তাঁর বাইক বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। যাদবপুর এলাকায় সে তৃণমূল কর্মী বলে পরিচিত।ধৃতকে আদালতে পেশ করে পুলিশ হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানানো হবে বলে পুলিশ সূত্রে খবর। ধৃতের নাম প্রকাশ্যে আসতেই তাঁর সঙ্গে তৃণমূলের যোগসাজশ রয়েছে বলে অভিযোগ করেছে বিজেপি। সোশ্যাল মিডিয়ায় ধৃতের গলায় তৃণমূলের উত্তরীয় পড়া ছবি ভাইরাল হয়েছে।
অপরদিকে বৃহস্পতিবারই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এক্স হ্যান্ডলে ঘটনার নিন্দা প্রকাশ করেছিলেন। পাশে দাঁড়িয়েছিলেন সিপিএম নেতার। পাশাপাশি ফোন করে বিকাশকে সমর্থনের বার্তা দিয়েছিলেন মমতা। কিন্তু সেই ঘটনায় গ্রেফতার হলেন এক তৃণমূল কর্মীই। তারপরেই বিজেপির কটাক্ষ, “শাক দিয়ে মাছ ঢাকা যায় না।”
সিসিটিভি ফুটেজ দেখে গ্রেফতার অভিযুক্ত
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃত বাপ্পা গুছাইত দক্ষিণ কলকাতার গড়িয়া সাহা কালীবাড়ি এলাকার বাসিন্দা। বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যের বাড়িতে হামলার অভিযোগ সামনে আসার পরই তদন্ত শুরু করে পুলিশ। সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে অভিযুক্তকে চিহ্নিত করা হয়। এরপর শুক্রবার তাঁকে গ্রেফতার করা হয়।
আরও খবর
ধৃতের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার একাধিক ধারায় মামলা দায়ের হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে পরে আরও কয়েকটি ধারা যুক্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। কলকাতা পুলিশের এক আধিকারিকের কথায়, সিসিটিভি ফুটেজের ভিত্তিতেই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাঁর ব্যবহৃত বাইকটিও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।

ধৃতের তৃণমূল যোগ!
অভিযুক্ত গ্রেফতার হওয়ার পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। ধৃত বাপ্পা একসময় তৃণমূলের দাপুটে করে ছিলেন বলে দাবি বিজেপির। এমনকি তৃণমূলের একাধিক কর্মসূচিতেও তাঁকে দেখা গিয়েছে বলে খবর। অপরদিকে, রাজনৈতিক মতপার্থক্য সরিয়ে রেখে ঘটনার নিন্দা প্রকাশ করেছিলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এক্স হ্যান্ডলে পোস্ট করে তিনি বলেন, “সংসদ থেকে বিধানসভা, পুরসভা থেকে আদালত-সর্বত্র ভিন্নমত এবং প্রতিবাদের কণ্ঠস্বর দমন করা হচ্ছে।” পুনরায় সকলকে একজোট হওয়ারও আবেদন জানিয়েছিলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী।
অন্যদিকে হামলার ঘটনার পরই বিকাশবাবু বিজেপিকে কাঠগড়ায় তুলেছিলেন। তাঁর কথায়, “হিন্দুত্ববাদী গুন্ডারা হামলা চালাল আমার বাড়িতে।” তিনি আরও লেখেন, “খুব পরিকল্পিত আক্রমণ। এরা যদি সন্ত্রাসী না-হয় তবে কারা?” তবে বাপ্পা গ্রেফতারের পর কটাক্ষ করতে ছাড়েনি বিজেপি। তাঁদের কথায়, আরও একবার প্ল্যান ফ্লপ হল মমতার।
সূত্রের খবর, ধৃতকে জিজ্ঞাসাবাদ করে হামলার নেপথ্যে থাকা কারণ জানার চেষ্টা করবে পুলিশ। এই ঘটনায় আর কেউ জড়িত কি-না, হামলার পিছনে কোনও পরিকল্পনা ছিল কি না, সেই বিষয়গুলিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপশি এই ঘটনার সঙ্গে কোনও রাজনৈতিক দল জড়িয়ে রয়েছে কি-না তাও তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। সে কারণেই অভিযুক্তকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করতে চায় পুলিশ।


