Bengal Liberty : ‘ভোটচুরি’র অভিযোগ তুলে দিল্লির সাউথ অ্যাভিনিউতে নিজের বাড়ির সামনে ধরনায় বসেছিলেন বাংলার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যেই ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাঁকে আটক করে দিল্লি পুলিশ। একই সঙ্গে আটক করা হয় ডেরেক ও’ব্রায়েন, সাকেত গোখেল-সহ একাধিক তৃণমূল নেতাকে। বেআইনি জমায়েতের অভিযোগেই এই পদক্ষেপ বলে জানা গিয়েছে। অন্যদিকে, ককরোচ জনতা পার্টির ডাকা বিক্ষোভ ঘিরে শনিবার সকাল থেকেই কড়া নিরাপত্তায় মুড়ে ফেলা হয়েছে রাজধানী দিল্লিকে। এই পরিস্থিতিতে প্রিজন ভ্যান থেকে ফেসবুক লাইভ করে কেন্দ্রীয় সরকার ও নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ফের সরব হন মমতা। ইতিমধ্যেই শনিবার সকাল থেকে প্রায় দেড় হাজারের বেশি আন্দোলনকারীকে আটক করা হয়েছে। আটক হয়েছে সিজেপির ৩ নেতাও।
আটক মমতা-সহ একাধিক তৃণমূল নেতা
মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফার দাবিতে শনিবার যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছিল ককরোচ জনতা পার্টি (CJP)। ভোটার তালিকা সংশোধন এবং ভোটাধিকার সংক্রান্ত অভিযোগকে সামনে রেখে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। তবে দিল্লি পুলিশের তরফে বিক্ষোভের অনুমতি দেওয়া হয়নি। তা সত্ত্বেও কর্মসূচি ঘিরে রাজধানীতে উত্তেজনা ছড়ায়। মধ্য দিল্লির একাধিক এলাকায় ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ১৬৩ ধারা জারি থাকায় নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়। বিধিনিষেধ অমান্য করলে আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারিও দেয় পুলিশ।
এই আবহেই ভোটচুরির অভিযোগ তুলে দিল্লির সাউথ অ্যাভিনিউতে নিজের বাড়ির সামনে ধরনায় বসেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর সঙ্গে ছিলেন দোলা সেন, প্রতিমা মণ্ডল, ডেরেক ও’ব্রায়েন, শামিরুল ইসলাম এবং সাকেত গোখেল-সহ একাধিক তৃণমূল নেতা। কিছুক্ষণের মধ্যেই ঘটনাস্থলে পৌঁছন দিল্লি পুলিশের আধিকারিকরা। ধরনা তুলে নেওয়ার কথা বলা হলেও তাতে রাজি হননি মমতা। এরপরই তাঁকে আটক করে প্রিজন ভ্যানে তোলা হয়। একই সঙ্গে আটক করা হয় তাঁর সঙ্গে থাকা তৃণমূল নেতাদেরও। মহালয়ার দিন প্রিজন ভ্যানে বসে মমতা গাইতে থাকেন, ‘জাগো দুর্গা’। গাইলেন ‘সারে জাঁহা সে আচ্ছা’, ‘অ্যায় মেরে বতন কে লোগো’।
আরও খবর

প্রিজন ভ্যান থেকে ফেসবুক লাই
আটক হওয়ার পরেও নিজের অবস্থান থেকে সরেননি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রিজন ভ্যান থেকেই ফেসবুক লাইভ করে গোটা ঘটনার প্রতিবাদ জানান তিনি। তাঁর অভিযোগ, প্রথমে তাঁরা যন্তর মন্তরে যেতে চেয়েছিলেন। কিন্তু সেখানে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়নি। CJP-র তরফে তাঁদের আমন্ত্রণ জানানো হলেও সংশ্লিষ্ট কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের গ্রেফতার করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। এরপর বাড়ির সামনেই শান্তিপূর্ণভাবে অবস্থান-বিক্ষোভে বসেছিলেন তাঁরা। সেখান থেকেও তাঁদের আটক করা হয়েছে বলে অভিযোগ মমতার। শুধু তাই নয়, আটক করার পর তাঁদের নির্দিষ্ট কোনও গন্তব্যে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে না বলেও অভিযোগ তোলেন তিনি। প্রায় ৪০ মিনিট ধরে দিল্লির বিভিন্ন রাস্তায় প্রিজন ভ্যান ঘোরানো হচ্ছে বলে দাবি করেন মমতা। গাড়িতে বসেই কেন্দ্রীয় সরকার ও নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে সুর চড়াতে দেখা যায় তাঁকে।
এদিকে, শনিবার সকাল থেকেই দিল্লির বিভিন্ন এলাকায় পুলিশের ধরপাকড় শুরু হয়। CJP-র কর্মসূচি ঘিরে রাজধানীর নিরাপত্তা ব্যবস্থা কার্যত দুর্গের চেহারা নেয়। শুধু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নন, কেরলের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়নকেও দিল্লি পুলিশ আটক করেছে বলে জানা গিয়েছে।


