Bengal Liberty : ‘ভারতকে বাঁচান, গণতন্ত্রকে বাঁচান’, দিল্লিতে ধরনায় বসে এমনই বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লির যন্তর মন্তরে প্রতিবাদ সমাবেশে যোগ দিতে গিয়ে বাধার মুখে পড়ার অভিযোগ তুলে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে সরব হলেন তিনি। শনিবার দক্ষিণ অ্যাভিনিউয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবনের বাইরে অবস্থান বিক্ষোভে বসেন মমতা। তাঁর সঙ্গে ছিলেন তৃণমূলের চার সাংসদ। প্রত্যেকেরই হাতে ছিল জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে পোস্টার। সেখানই সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে গণতান্ত্রিক অধিকার খর্ব করার অভিযোগ তোলেন নেত্রী। ধরনা চলাকালীনই মমতা-সহ তৃণমূলের চার সাংসদকে আটক করে দিল্লি পুলিশ।
মমতা বলেন
“আমরা এখানে এসেছি, কারণ সিজেপির ছাত্রছাত্রী ও যুবক-যুবতীরা আমাদের আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। কিন্তু ইতিমধ্যেই অনেক নেতাকে আটক করা হয়েছে। কাউকেই যন্তর মন্তরে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না, আমাদেরও নয়।” আন্দোলনকারীদের পাশে থাকার বার্তা দিতেই বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত ধরনায় বসার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন বলে জানান তিনি। কেন্দ্রের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, আন্দোলনে যোগ দিতে চাওয়া ছাত্রছাত্রী, যুবক-যুবতী, সাধারণ মানুষ এমনকী সাংবাদিকদেরও বাধার মুখে পড়তে হচ্ছে। ট্রেন বাতিলের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, “সুপ্রিম কোর্ট রায় দিয়েছে, মানুষের যাতায়াতে বাধা দেওয়া যাবে না। তা সত্ত্বেও কাউকেই এগোতে দেওয়া হচ্ছে না।” বিরোধী নেতাদের আটক করার অভিযোগ তুলে মমতা বলেন, “বিজয়নজিকে প্রায় দু’ঘণ্টা ধরে রাস্তায় রাস্তায় ঘোরানো হয়েছে বলে আমরা খবর পেয়েছি।” দিল্লির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালের প্রসঙ্গেও তিনি জানান, আগের দিন রাতে তাঁর বাড়িতে আসার কথা থাকলেও তাঁকে বেরোতে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন মমতা।
কেন্দ্রের পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করে মমতার মন্তব্য, “পরিস্থিতি জরুরি অবস্থাকেও ছাড়িয়ে গিয়েছে। এটা এখন অতি জরুরি অবস্থার মতো হয়ে দাঁড়িয়েছে।” একই সঙ্গে শান্তি বজায় রাখা এবং মাথা ঠান্ডা রাখার বার্তাও দেন তিনি। তাঁর কথায়, এ ধরনের পদক্ষেপের মাধ্যমে সরকার আসলে আন্দোলনকারীদের আরও জনপ্রিয় করে তুলছে।
ইন্ডি জোটের পরবর্তী কর্মসূচি প্রসঙ্গে মমতা জানান, আগামী ২ তারিখ জোটের বৈঠক রয়েছে। পরবর্তী পদক্ষেপের দায়িত্ব অভিষেকের হাতে ছেড়ে দেবেন বলেও জানান তিনি।


