C.M. Suvendu Adhikari
C.M. Suvendu Adhikari

“দেবীপক্ষ থেকেই পুজোর সূচনা”, ইডেনে ঘোষণা শুভেন্দুর

Bengal Liberty : পিতৃপক্ষের অবসান ঘটিয়ে শুরু হল দেবীপক্ষ। মহালয়ার পুণ্যলগ্নে ইডেন গার্ডেন্সে আয়োজিত হল উমা আগমনীর বিশেষ অনুষ্ঠান। সেখানেই দুর্গাপুজোকে ঘিরে নতুন প্রশাসনের একাধিক ভাবনার কথা জানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। দেবীর আগমন থেকে শুরু করে বন্দনা, এমনকি প্রতিমা নিরঞ্জন পর্যন্ত—সব ক্ষেত্রেই সনাতনী রীতি মেনে চলার উপর জোর দিয়েছেন তিনি।

পিতৃপক্ষের পরিবর্তে দেবীপক্ষ থেকেই দুর্গাপুজোর সূচনা, পুজো কমিটিগুলিকে আর্থিক অনুদান, বিদ্যুতের শুল্ক সম্পূর্ণ মকুব এবং ২৪ অক্টোবরের মধ্যে প্রতিমা নিরঞ্জনের আবেদন—এ দিনের বক্তব্যে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, রাজ্যে এ বছর নতুন করে ১২,৪০০টি দুর্গাপুজোর অনুমোদন দিয়েছে সরকার।

দুর্গাপুজোর ধর্মীয় মাহাত্ম্য ও শাস্ত্রীয় পরম্পরা বজায় রাখার উপর জোর দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, “গত বছরের মতো পিতৃপক্ষ থেকে পুজোর উদ্বোধন নয়, এ বার মাতৃপক্ষ থেকেই শুরু হবে দেবী আরাধনা।” পঞ্জিকা ও প্রচলিত রীতি মেনে পুজোর আয়োজন করার জন্য পুজো কমিটিগুলির কাছে আবেদন জানান তিনি।

পুজো কমিটিগুলির জন্য আর্থিক সহায়তার প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী জানান, পুজো উদ্যোক্তাদের এক লক্ষ টাকা করে অনুদান দেওয়ার কথা আগেই ঘোষণা করেছে রাজ্য সরকার। যাঁরা ইতিমধ্যেই আবেদন করেছেন, তাঁরা আগামীকাল থেকে অনুদান পেতে পারেন বলে জানান তিনি। পাশাপাশি, আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী বড় পুজো কমিটিগুলিকে সরকারি অনুদান না নেওয়ার অনুরোধ করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এ দিন তিনি জানান, “শহর কলকাতার ২০০-রও বেশি পুজো কমিটি আমার আবেদনে সাড়া দিয়ে সরকারি অনুদান না নেওয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে।”

C.M. Suvendu Adhikari
C.M. Suvendu Adhikari

পুজোর বিদ্যুৎ খরচের ক্ষেত্রেও বড় ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, দুর্গাপুজো উপলক্ষে ব্যবহৃত বিদ্যুতের উপর সম্পূর্ণ শুল্ক মকুব করা হয়েছে। কলকাতায় সিইএসসি এবং রাজ্যের অন্যান্য এলাকায় পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য বিদ্যুৎ বণ্টন সংস্থার বিদ্যুতের ক্ষেত্রে এই সুবিধা পাওয়া যাবে। পাশাপাশি, দমকলের অনুমতিসংক্রান্ত ফিও মকুব করা হয়েছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী।

এ বছর কলকাতার গণ্ডি ছাড়িয়ে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে উমা আগমনী অনুষ্ঠান ছড়িয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে রাজ্য সরকার। তথ্য ও সংস্কৃতি দফতর এবং পর্যটন দফতরের যৌথ উদ্যোগে আগামী কয়েক দিন দুর্গাপুর, শিলিগুড়ি, কৃষ্ণনগর, কোচবিহার, মালদা, বহরমপুর এবং দীঘার সমুদ্রতটে বিশেষ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। মহাসপ্তমীর আগে পর্যন্ত চলবে এই কর্মসূচি।

এ ছাড়াও, পুজোর শেষে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে প্রতিমা নিরঞ্জনের উপর জোর দেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, আগামী ২৪ অক্টোবরের মধ্যে সমস্ত পুজো কমিটিকে প্রতিমা নিরঞ্জনের জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। সেই অনুযায়ী, ঘাটগুলিতে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থাও করা হচ্ছে।

পুজোর স্বীকৃতি ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে সেরা প্রতিমা, সেরা পুজো এবং পরিবেশ সচেতনতার জন্য বিশেষ পুরস্কার দেওয়ার কথাও ঘোষণা করেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, দুর্গাপুজোর ধর্মীয় পবিত্রতা, শাস্ত্রীয় পরম্পরা ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য বজায় রেখেই এই উৎসবকে বিশ্বের দরবারে আরও তুলে ধরতে চায় রাজ্য সরকার।

Pushpak Bhattacharya
Pushpak Bhattacharya

পুষ্পক ভট্টাচার্য একজন সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মী। রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করার পর ২০২৬-এ Bengal Liberty-তে সাংবাদিক হিসেবে তাঁর পেশাগত যাত্রা শুরু হয়। আন্তর্জাতিক সংবাদ এবং ক্রীড়া সাংবাদিকতার প্রতি বিশেষ আগ্রহ। দেশ-বিদেশের সমসাময়িক ঘটনাপ্রবাহ, আন্তর্জাতিক রাজনীতি এবং খেলাধুলার নানা বিষযয়ের প্রতি বিশেষ ঝোঁক। ব্যস্ততার বাইরে বই ও সিনেমা সঙ্গী।