Bengal Liberty : যন্তর মন্তরে ‘যন্তর মন্তর ২.০’ বিক্ষোভ কর্মসূচিকে ঘিরে উত্তপ্ত রাজধানীর পরিস্থিতি। শনিবার সকালে গুরুগ্রামের আবাসন থেকে আটক করা হল দেশের পরিচিত ডিজিটাল কনটেন্ট স্রষ্টা ধ্রুব রাঠীকে। অভিযোগ, পুলিশের নির্দেশ অমান্য করে বিক্ষোভে যোগ দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন তিনি। শুধু ধ্রুব নন, সমাজমাধ্যমে জনপ্রিয় একাধিক তরুণ কনটেন্ট ক্রিয়েটরকেও আটক করেছে পুলিশ। অন্যদিকে, প্রস্তাবিত এই আন্দোলন ঠেকাতে দিল্লি ও সংলগ্ন এলাকায় জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তা। মেট্রো স্টেশন বন্ধ রাখা, ট্রেন বাতিল, ইন্টারনেট পরিষেবায় বিধিনিষেধ এবং ব্যাপক ধরপাকড় ঘিরে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। এমনকি প্লেনের মধ্যেই আটক ককরোচ জনতা পার্টির ৩ নেতা-অভিজিৎ দীপকে, আশুতোষ রাঙ্কা, সৌরভ দাস।

ক্ষোভ সিজেপির
শনিবার সকালে গুরুগ্রামের সেক্টর ৫৬ সংলগ্ন কেন্দ্রীয় বিহার সোসাইটির আবাসন থেকে ধ্রুব রাঠীকে আটক করে গুরুগ্রাম পুলিশ। যন্তর মন্তরে প্রস্তাবিত বিক্ষোভে যোগ দেওয়ার আগেই এই পদক্ষেপ করা হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নির্দেশ না মেনে প্রতিবাদে অংশ নেওয়ার জেদের কারণেই তাঁকে আটক করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
ধ্রুব রাঠীর আটকের ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে সিজেপি নেতৃত্ব। সমাজমাধ্যমে সংগঠনের তরফে দাবি করা হয়েছে, সরকারের কাজকর্ম নিয়ে প্রশ্ন তোলা তরুণ প্রজন্মকে ভয় পাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সংগঠনটির অভিযোগ, সমালোচনার কণ্ঠরোধ করতেই বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করা হচ্ছে। ধ্রুবের পাশাপাশি সমাজমাধ্যমে জনপ্রিয় একাধিক তরুণ কনটেন্ট ক্রিয়েটরকেও আটক করা হয়েছে বলে দাবি করেছে তারা।
আরও খবর
বিমানেই আটক সিজেপি প্রধান সহ ৩ নেতা
অপরদিকে, দিল্লিতে পৌঁছন মাত্রই আটক হয়েছেন ককরোচ জনতা পার্টির-র প্রতিষ্ঠাতা তথা আহ্বায়ক অভিজিৎ দীপকে। বিমানে উঠে আটক করা হয়েছে সৌরভ দাস, আশুতোষ রাঙ্কাকেও। এছাড়া, সিজেপি-র নেত্রী রত্না সিংকে আটক করেছে পুলিশ। জানা যায়, শনিবার সকালে দিল্লি বিমানবন্দরে তাঁর বিমান নামতেই পুলিশ সেখানে পৌঁছে যায়। বিমানে ছিলেন সৌরভ দাস, আশুতোষ রাঙ্কারাও। মুম্বই থেকে দিল্লিতে আসেন দীপকে-রা। সকাল ১০টা ১৯ মিনিট নাগাদ দিল্লি বিমানবন্দরে নামে তাঁদের বিমান। সেখান বিমানে উঠে তাঁদের আটক করে পুলিশ। সেই সময় বাকি যাত্রীদের দাঁড় করিয়ে রাখা হয়েছিল বলে অভিযোগ।
উল্লেখ্য, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফা, বিতর্কিত ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর প্রত্যাহার এবং নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রচলিত আইনি কাঠামোয় পরিবর্তন-এই তিন দফা দাবিতে ‘যন্তর মন্তর ২.০’ কর্মসূচির ডাক দিয়েছিল সিজেপি। তাদের দাবি, ভোটাধিকার রক্ষা এবং নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতেই এই আন্দোলন। অন্যদিকে, প্রস্তাবিত বিক্ষোভের আগে রাজধানীজুড়ে প্রশাসনের ব্যাপক নিরাপত্তা প্রস্তুতি ও ধরপাকড়কে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপানউতোর তীব্র হয়েছে।


