Bengal Liberty : ফের পাকিস্তানের রাজনীতিতে তীব্র অস্থিরতা! সন্ত্রাসবাদ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির অভিযোগ তুলে দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে জরুরি অবস্থা জারি করল পাকিস্তানের ফেডারেল সরকার। রবিবার, ১১ অক্টোবর পাকিস্তানের রাষ্ট্রপতি আসিফ আলি জারদারি জরুরি অবস্থা ঘোষণায় অনুমোদন দেন। এই সিদ্ধান্তের ফলে জেলবন্দি প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) নেতৃত্বাধীন প্রাদেশিক সরকারের ক্ষমতা কার্যত স্থগিত হয়ে গেল। এবার প্রশ্ন উঠছে, জঙ্গি দমনের লক্ষ্যেই কি এই পদক্ষেপ, নাকি পাকিস্তানের রাজনীতিতে ক্ষমতার লড়াই আরও তীব্র হতে চলেছে?
জরুরি অবস্থা জারির নেপথ্যে কী
পাকিস্তান সরকারের দাবি, দীর্ঘদিন ধরেই খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে জঙ্গি হামলা ও নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি ঘটছে। আফগানিস্তান সীমান্তবর্তী এই প্রদেশে সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছে পিটিআই পরিচালিত প্রাদেশিক সরকার। সেই কারণেই দেশের সংবিধানের ২৩২ ও ২৩৪ নম্বর অনুচ্ছেদের অধীনে জরুরি অবস্থা এবং গভর্নরের শাসন জারি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ইসলামাবাদ।
ইমরান খানের দলের উপর বড় ধাক্কা
খাইবার পাখতুনখোয়া দীর্ঘদিন ধরেই ইমরান খানের দলের অন্যতম শক্ত ঘাঁটি। ২০২৪ সালের নির্বাচনের পরও এই প্রদেশে ক্ষমতায় ছিল পিটিআই। ফলে প্রাদেশিক সরকারের ক্ষমতা স্থগিত হওয়ার ঘটনা নিঃসন্দেহে পাকিস্তানের রাজনীতিতে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। এই সিদ্ধান্তের পর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী সোহেল আফ্রিদি-সহ পিটিআইয়ের একাধিক নেতা ও মন্ত্রীকে আটক করার খবর সামনে এসেছে। অন্যদিকে, পাকিস্তানের ফেডারেল সরকার দাবি করেছে, সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় প্রাদেশিক প্রশাসনের সহযোগিতার অভাবের কারণেই এই পদক্ষেপ করতে হয়েছে।
আরও খবর

কোন পথে পাকিস্তানের রাজনীতি
সব মিলিয়ে, খাইবার পাখতুনখোয়ায় জরুরি অবস্থা জারি পাকিস্তানের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। একদিকে জঙ্গি হামলা মোকাবিলা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চ্যালেঞ্জ, অন্যদিকে ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে বিরোধীদের আন্দোলন—দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখাই এখন ইসলামাবাদের সামনে বড় পরীক্ষা। আগামী দিনে পিটিআই কীভাবে এই সিদ্ধান্তের মোকাবিলা করে এবং সাংবিধানিক পথে এই সংঘাতের সমাধান হয় কি না, সেদিকেই নজর থাকবে গোটা বিশ্বের।


