Bengal Liberty : তাঁর বই প্রকাশিত হলেই শুরু হবে তামাশা।’ আত্মজীবনী প্রকাশের আগেই এমন বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন কংগ্রেস সংসদীয় দলের চেয়ারপার্সন সোনিয়া গান্ধী। দীর্ঘদিন ধরেই কংগ্রেসের যাবতীয় আনুষ্ঠানিক বার্তা বা বিবৃতি দলীয় মাধ্যম থেকেই প্রকাশ্যে আসত। তবে সেই চেনা রীতি ভেঙে ২২ অক্টোবর সমাজমাধ্যমে প্রথমবার আত্মপ্রকাশ করেছেন সোনিয়া গান্ধি।
সোশ্যাল মিডিয়ায় পা রেখেই একটি ভিডিও পোস্ট করেছেন সোনিয়া, যেখানে দেখা যাচ্ছে আগামী ১০ নভেম্বর প্রকাশিত হতে চলা তাঁর আত্মজীবনী ‘বিলংগিং: এ জার্নি অফ লাভ’ (Belonging: A Journey of Love)-এর কপি হাতে পেয়ে মেয়ে প্রিয়াঙ্কার সঙ্গে মিষ্টিমুখ করছেন তিনি। সেইসঙ্গে এবার সমাজমাধ্যমে এক ভিডিওবার্তায় নিজের জীবনের এক অজানা অধ্যায় ছুঁয়ে গিয়েছেন প্রবীণ এই নেত্রী। ইতিমধ্যেই সেই ভিডিও বার্তা রাজনৈতিক মহলের নজর কেড়েছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। তিনি বলছেন, ওই বইটিতে তাঁর নিজের যে গল্প রয়েছে, তা পড়ার পর অনেকেরই তাঁর সম্পর্কে ধারণা বদলে যেতে পারে। তিনি দাবি করেছেন, রাজীব গান্ধীর প্রধানমন্ত্রী হওয়ারও নাকি তীব্র বিরোধী ছিলেন তিনি।
১৯৮৪ সালে ইন্দিরা গান্ধীর হত্যার পর একপ্রকার বাধ্য হয়েই রাজীব গান্ধীকে প্রধানমন্ত্রীর কুরসিতে বসায় কংগ্রেস। শোনা যায়, সেসময় রাজীবের প্রধানমন্ত্রী হওয়ায় ঘোর আপত্তি ছিল তাঁর পরিবারের সদস্যদেরই। একথা প্রকাশ্যেই স্বীকার করেন সোনিয়া। তাঁর বক্তব্য, ‘এখনই এ নিয়ে বিস্তারিত বলা ঠিক হবে না।’
আরও খবর
তবে সোনিয়া ইঙ্গিতপূর্ণভাবে বলেছেন, তাঁর আত্মজীবনী প্রকাশিত হলে জনমানসে চর্চা হবে। সেই চর্চাকে ‘তামাশা’ বলে অবিহিত করেছেন সোনিয়া। তার মতে, “আমাকে নিয়ে অনেকে অনেক কিছু ভাবেন, অনেক কিছু বলেন। যার অনেকটাই সত্যি নয়। কোথাও বানিয়ে লেখা, কোথাও বাড়িয়ে লেখা।” এমনটাই দাবি কংগ্রেস নেত্রীর। তবে এবার সেসব কাহিনীর নিজের সংস্করণ তুলে ধরতে চান সোনিয়া। যদিও এই বইটিকে তাঁর নিজের সংস্করণের থেকে নিজের গল্প হিসাবে তুলে ধরতেই বেশি স্বচ্ছন্দ সোনিয়া। তিনি বলছেন, এই ধরনের বই বেরলে তামাশা হয়। তাঁর গল্পও সেটার ব্যতিক্রম হবে না বলে মনে করেন তিনি।
এক কথায়, এই বইয়ের পাতা ছুঁয়ে গিয়েছে গান্ধি পরিবারের একাধিক মর্মান্তিক ট্র্যাজেডিকেও। সঞ্জয় গান্ধির মর্মান্তিক বিমান দুর্ঘটনা থেকে শুরু করে ১৯৮৪ সালে ইন্দিরা গান্ধি এবং ১৯৯১ সালে রাজীব গান্ধি হত্যাকাণ্ড— এই সমস্ত যন্ত্রণাদায়ক ঘটনাই উঠে এসেছে তাঁর লেখায়। ব্যক্তিগত শোকের গণ্ডি পেরিয়ে একজন রাজনৈতিক নেত্রী হিসেবে তাঁর উত্থান, কীভাবে তিনি কংগ্রেস সংগঠনকে নতুন করে মজবুত করলেন, সেই যাত্রাপথও তুলে ধরা হয়েছে।


