Bengal Liberty: “একা ইন্দ্রনীল সেন খায়নি, খাইয়ে খেয়েছে” ইন্দ্রনীল সেনের গ্রেফতারি প্রসঙ্গে এই মন্তব্য করেই বুধবার নবান্ন থেকে প্রাক্তন মন্ত্রী তথা গায়ককে ঘিরে বিস্ফোরক অভিযোগ তুললেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেই সঙ্গে ইন্দ্রনীলের সঙ্গে রাজনৈতিক সম্পর্ক নিয়েও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে একের পর এক আক্রমণ শনালেন মুখ্যমন্ত্রী।
কাকতালীয় ভাবে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হওয়ার কিছুক্ষণ আগেই গ্রেফতার হয় মমতা তৃণমূলের প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন। বুধবার বিকেলেই একেবারে নাটকীয় ভাবে সিজিও কমপ্লেক্স থেকে ইন্দ্রনীলকে গ্রেফতার করেছে লালবাজার। দুর্গাপুজোর টিকিট বিক্রির নামে নিজের সংস্থার মাধ্যমে প্রায় ৩০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগ রয়েছে ইন্দ্রনীলের বিরুদ্ধে। আগাম জামিনের জন্য হন্যে হয়ে ঘুরেও কোনও সুরাহা হয়নি। আজ যখন সিজিওতে হাজিরা দিতে যান, ঠিক সেই সময় থেকেই বাইরে অপেক্ষায় ছিল লালবাজার গোয়েন্দা বিভাগ।
এরপরই সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু বলেন, “একা ইন্দ্রনীল সেন খেয়েছে, এটা বলা অত্যন্ত ভুল হবে। ও একা তো খায়নি, খাইয়ে খেয়েছে। ওর সঙ্গে আরও অনেকে যুক্ত থাকতে পারে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রত্যক্ষ মদত ছিল, এমনকী ওঁরও ভাগ থেকে থাকতে পারে।” মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে ইন্দ্রনীলের ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক ঘনিষ্ঠতার প্রসঙ্গ টেনে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “একই গাড়িতে ঘুরে বেড়াতেন। একসঙ্গে গান গাইতেন।” কটাক্ষের সুরে তিনি আরও বলেন, “শেষ গানটাও আমরা শুনেছি। দু’জন একসঙ্গেই ডুয়েট করেছে।” তাঁর দাবি, তৃণমূল তৈরির সময় যাঁরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিলেন, তাঁদের অনেকেই সেই গাড়িতে জায়গা পেতেন না, অথচ ইন্দ্রনীল সেনের সঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠতা ছিল।
আরও খবর
ইন্দ্রনীলের বিরুদ্ধে ওঠা আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ প্রসঙ্গে শুভেন্দুর বক্তব্য, তদন্তকারী সংস্থা তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতেই আইনি পদক্ষেপ করেছে। তিনি বলেন, “যারা ধরেছেন, তারা কোর্টে প্রমাণ দেবেন।” একইসঙ্গে তাঁর দাবি, ইন্দ্রনীল সেনের বিরুদ্ধে তদন্তের পাশাপাশি এই আর্থিক অনিয়মের সঙ্গে আর কারা যুক্ত, তা-ও সামনে আসা প্রয়োজন। রাজ্যে দুর্নীতির অভিযোগে তদন্তের পরিধি আরও বাড়তে পারে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর কথায়, “সকালবেলায় বিধানসভায় বলেছি, সবে তো ব্রেকফাস্ট কমপ্লিট হয়নি—চা-বিস্কুট। আরও অনেক কিছু দেখতে পাবেন।” এরপরই তাঁর হুঁশিয়ারি, “প্রাতিষ্ঠানিক চোরেদেরকে সব জেলে যেতে হবে। ঠিক সময়ে বড় জায়গাতেও হাত পড়বে”, এ জন্য রাজ্যবাসীকে অপেক্ষা করতে বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী।
ইন্দ্রনীলের গ্রেফতারিকে কেন্দ্র করে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে যখন তীব্র চাপানউতোর চলছে, তখন মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্যে তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে ইন্দ্রনীলের সম্পর্ক এবং দুর্নীতির অভিযোগে রাজনৈতিক পরিসরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পদক্ষেপ আবারও আলোচনায়।


