Bengal Liberty : “নানা ভাষা, নানা মত, নানা পরিধান, বিবিধের মাঝে দেখো মিলন মহান”—কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের এই পঙ্ক্তির মাধ্যমে ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রের বৈচিত্র্য ও সম্প্রীতির বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ভবানীপুর থানার বিজয় সম্মেলনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে তিনি বলেন, ভবানীপুর এমন একটি বিধানসভা কেন্দ্র, যেখানে বিভিন্ন ধর্ম, ভাষা ও সম্প্রদায়ের মানুষ একসঙ্গে বসবাস করেন। তাই এই পঙ্ক্তির সঙ্গে ভবানীপুরের চরিত্র ওতপ্রোতভাবে মিলে যায়। এই এলাকার জনপ্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত হওয়াকে তিনি নিজের গর্ব বলে মনে করেন।
মুখ্যমন্ত্রীর পাশাপাশি ভবানীপুরের বিধায়ক হিসেবেও এলাকার মানুষের সেবাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা আগেও জানিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর কথায়, “আমার নিজের বিধানসভা কেন্দ্র আমার কাছে মন্দিরের সমান। নিজের কেন্দ্রের মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা এবং তাঁদের পাশে থাকা আমার কর্তব্য।”
অনুষ্ঠানে এলাকার বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব, পুলিশকর্মী, পুজো কমিটির সদস্য এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের শুভেচ্ছা জানান মুখ্যমন্ত্রী। ভবানীপুরের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা বহু বিশিষ্ট ব্যক্তির স্মৃতির কথাও উল্লেখ করেন তিনি। শুভেন্দু বলেন, “আমি বিশেষভাবে শ্রদ্ধা নিবেদন করব আমাদের এলাকার সুনাগরিক, সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি এবং প্রাক্তন লোকপাল সম্মানীয় পিনাকী রঞ্জন ঘোষ মহোদয়কে।”
আরও খবর
মহানায়ক উত্তম কুমারের সঙ্গেও ভবানীপুরের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক রয়েছে। সেই প্রসঙ্গ উল্লেখ করে মহানায়কের উত্তরসূরি গৌরব চট্টোপাধ্যায়কে বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানান শুভেন্দু অধিকারী।
এ বারের দুর্গাপুজো শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হলেও চোরবাগানের মর্মান্তিক ঘটনার প্রসঙ্গ তুলে শোক প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। আগামী দিনে উৎসবের ঐতিহ্য ও পরম্পরা বজায় রাখার পাশাপাশি সতর্কতা অবলম্বনের আবেদন জানান তিনি, যাতে কোনও সহনাগরিককে প্রাণ হারাতে না হয়।
রাজনৈতিক দিক থেকেও ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্র অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও এই কেন্দ্রের ভোটার। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে এই কেন্দ্রেই মমতাকে পরাজিত করেন শুভেন্দু অধিকারী। রাজনৈতিক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “নির্বাচন আসবে, নির্বাচন যাবে। গণতন্ত্রে কেউ জিতবেন, কেউ হারবেন। কিন্তু সারা বছর মানুষের কল্যাণে কাজ করা এবং বিপদে-আপদে একে অপরের পাশে দাঁড়ানোই একমাত্র লক্ষ্য হওয়া উচিত।”
পশ্চিমবঙ্গের শিল্প, অর্থনীতি, শিক্ষা ও বাণিজ্যের হারানো গৌরব পুনরুদ্ধারের কথাও বলেন শুভেন্দু অধিকারী। এ ক্ষেত্রে বাঙালি আইকন বিধানচন্দ্র রায়ের কাজ ও স্বপ্নকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি।


