Bengal Liberty : রাজনীতিতে স্থায়ী শত্রু বা মিত্র বলে কিছু নেই, ক্ষমতার সমীকরণই শেষ কথা। সেই কথাই যেন আবারও প্রমাণিত হতে চলেছে নওশাদ-মমতা সমীকরণের ইঙ্গিতে। পুরভোটের আগে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে জোটের সম্ভাবনা একেবারে উড়িয়ে দিলেন না আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকি। তবে জোটের আগে তাঁর শর্ত, বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত থাকতে হবে মমতাকে। এই বক্তব্য ঘিরেই উঠছে প্রশ্ন, যে তৃণমূল সরকারের আমলে তাঁকে দীর্ঘদিন জেলবন্দি থাকতে হয়েছিল, সেই দলের সঙ্গেই কি এবার হাত মেলাতে প্রস্তুত নওশাদ?
বেঙ্গল লিবার্টিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নওশাদ স্পষ্ট করেছেন, নির্বাচনে অংশ নেওয়াই তাঁদের দলের লক্ষ্য। তবে ক্ষমতা বা পদ নয়, আদর্শই তাঁদের কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রসঙ্গে নওশাদের গলায় শোনা গিয়েছে অন্য সুর। তাঁর দাবি, “যাঁরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূলের প্রতীকে জিতে দল পরিবর্তন করেছেন, তাঁরা নিজেদের দুর্নীতি আড়াল করতেই বিজেপিকে সমর্থন করছেন।” এর পরেই পুরভোটে মমতার সঙ্গে জোটের সম্ভাবনা নিয়ে তাঁর বক্তব্য ঘিরে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে। যদিও এই জোটের ক্ষেত্রে কয়েকটি শর্তের কথাও উল্লেখ করেছেন নওশাদ। তিনি বলেন, “প্রথমে নিশ্চিত করতে হবে যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শেষ পর্যন্ত বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে থাকবেন। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’ থেকে বেরিয়ে আসার যে নজির রয়েছে, তার পুনরাবৃত্তি যেন না হয়।”
এবার একটু অতীতের দিকে ফেরা যাক। তখন রাজ্যে ক্ষমতায় তৃণমূল। ২০২৩ সালের ২১ জানুয়ারি ভাঙড়ের অশান্তির প্রতিবাদে ধর্মতলায় অবরোধে বসেছিল আইএসএফ। নেতৃত্বে ছিলেন নওশাদ সিদ্দিকি। সেই সময় পুলিশের সঙ্গে আইএসএফ কর্মী-সমর্থকদের সংঘর্ষ হয়। সেদিন নওশাদ সিদ্দিকি-সহ ১৯ জন আইএসএফ কর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। তৃণমূলের অভিযোগ ছিল, নওশাদ পুলিশের গায়ে হাত তুলেছিলেন। তবে আদালতে সেই অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি বলে দাবি আইএসএফের। প্রায় ৪০ দিন পর জামিনে মুক্তি পান নওশাদ। সেই সময় নওশাদের পাশে দাঁড়িয়ে বিজেপি কলকাতা পুলিশকে ‘পিসি-ভাইপোর পুলিশ’ বলে কটাক্ষ করেছিল।
আরও খবর
কিন্তু সেসব এখন অতীত। একসময়ের পাশে থাকা বিজেপিই এখন রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ। আর অতীতে সংঘাতের কেন্দ্রে থাকা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে সম্ভাব্য জোটের প্রশ্নে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। শুধু তা-ই নয়, নওশাদের বক্তব্যে অতীতের সংঘাতের তুলনায় বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াই এবং রাজনৈতিক অবস্থানই বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে।
এদিকে, বামেদের সঙ্গে আইএসএফের বর্তমান সমঝোতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। নওশাদের দাবি, বিধানসভা নির্বাচনের পর জোট এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে বামেদের জানানো হলেও প্রত্যাশিত প্রতিক্রিয়া মেলেনি। ফলে আগামী ভোটে কোন সমীকরণে লড়বে আইএসএফ, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
রাজনীতি বড় বালাই! রাজনৈতিক স্বার্থের সমীকরণে কখন শত্রু বন্ধু হয়ে যায়, আবার কখন বন্ধুই শত্রুতে পরিণত হয়, তা বোঝা কঠিন। রাজ্যজুড়ে মাত্র এক জন বিধায়ক নিয়ে অস্তিত্বের লড়াইয়ে জোটের অঙ্ক কষে কি নিজেদের রাজনৈতিক জমি শক্ত করতে চাইছে আইএসএফ? পুরনো দ্বন্দ্ব সরিয়ে রেখে নওশাদের এই অবস্থানের নেপথ্যে কি দলের স্বার্থই বড় হয়ে উঠছে? সেই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে রাজনৈতিক মহলে।


