Bengal Liberty : ২৯০ কোটি টাকার ব্যাঙ্ক জালিয়াতি ও আর্থিক তছরুপের অভিযোগে ফের সক্রিয় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। শুক্রবার সকাল থেকেই কলকাতা ও সংলগ্ন এলাকায় একাধিক জায়গায় তল্লাশি অভিযান শুরু করেছেন ইডি আধিকারিকরা। তদন্তকারীদের প্রাথমিক সন্দেহ, ঝাড়খণ্ডের একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র তৈরির জন্য ব্যাঙ্ক থেকে নেওয়া বিপুল পরিমাণ ঋণের টাকা অন্যত্র সরিয়ে ফেলা হয়েছে। ভুয়ো সংস্থা তৈরি করে সেই টাকা কলকাতায় পাচারের অভিযোগও উঠেছে। এই ঘটনায় তদন্তকারীদের নজরে রয়েছেন দুই চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট। লেকটাউন ও উত্তরপাড়ায় তাঁদের বাড়িতে কেন্দ্রীয় বাহিনীর নিরাপত্তায় চলছে তল্লাশি ও জিজ্ঞাসাবাদ।
উত্তরপাড়ায় সুদীপ্ত ঘোষের বাড়িতে তল্লাশি
শুক্রবার সকালে উত্তরপাড়ার শিবতলা স্ট্রিটে পৌঁছন ইডি আধিকারিকরা। সেখানে সুদীপ্ত ঘোষের বাড়িতে তল্লাশি শুরু হয়। তিনি পেশায় চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট। কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের সঙ্গে নিয়ে তাঁর বাড়িতে প্রবেশ করেন তদন্তকারীরা। সেখানে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। একইসঙ্গে বিভিন্ন নথিপত্র খতিয়ে দেখছেন আধিকারিকরা। অন্যদিকে, লেকটাউনের অভিজাত অবনী অক্সফোর্ড আবাসনের ফেজ ১-এও হানা দিয়েছে ইডি। ওই আবাসনে চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট অশোক সারথির বাড়িতে চলছে তল্লাশি। সকাল থেকেই কেন্দ্রীয় বাহিনীর কড়া নিরাপত্তায় অভিযান চালাচ্ছেন তদন্তকারীরা। তাঁকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
২৯০ কোটির ঋণের টাকা পাচারের অভিযোগ
ইডি সূত্রে খবর, ঝাড়খণ্ডে ৬৬ মেগাওয়াটের একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র তৈরির পরিকল্পনা ছিল। সেই প্রকল্পের জন্য ব্যাঙ্ক কনসর্টিয়ামের কাছ থেকে প্রায় ২৯০ কোটি টাকা ঋণ নেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ। এই আর্থিক লেনদেনের সঙ্গে জড়িত মূল বেসরকারি সংস্থা কোহিনূর পাওয়ার প্রাইভেট লিমিটেড। অভিযোগ, বিদ্যুৎকেন্দ্র তৈরির কাজে ঋণের টাকা ব্যবহার না করে বিভিন্ন ভুয়ো সংস্থার মাধ্যমে তা অন্যত্র সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ, প্রকল্পের নামে নেওয়া বিপুল অঙ্কের টাকা আত্মসাৎ ও পাচার করা হয়েছে বলে সন্দেহ তদন্তকারীদের।
আরও খবর
এই আর্থিক লেনদেনের নেপথ্যে চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট অশোক সারথির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা। সেই সূত্র ধরেই তাঁর বাড়িতে অভিযান চালানো হচ্ছে। তল্লাশিতে ডিজিটাল নথি, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের তথ্য এবং আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র খুঁজছেন ইডি আধিকারিকরা। গোটা আর্থিক লেনদেনের শৃঙ্খল এবং এর সঙ্গে আর কারা জড়িত, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। শুক্রবারের এই অভিযানের পর তদন্তে নতুন কী তথ্য উঠে আসে, এখন সেদিকেই নজর।


