Arrest
Arrest

অমানবিকতার চূড়ান্ত! ৬ বছরের বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুকন্যাকে ইট ও ফুলের টব দিয়ে মারধরের অভিযোগ

Bengal Liberty : হরিয়ানার পঞ্চকুলার সেক্টর ২০-তে অবস্থিত সংস্কৃতি মডেল স্কুলে ঘটে গেল এক শিউরে ওঠার মতো ঘটনা। মাত্র ৮ বছরের এক তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রের বিরুদ্ধে ৬ বছরের বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন এক শিশুকন্যাকে নৃশংসভাবে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনা ঘিরে স্কুলের নিরাপত্তা ও শিশুদের সুরক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে উঠছে একাধিক গুরুতর প্রশ্ন।

ঠিক কী ঘটেছিল?

প্রাথমিক রিপোর্ট অনুযায়ী, স্কুল ছুটি হওয়ার পর আচমকাই ৮ বছরের ওই ছাত্র ক্লাসে ঢুকে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুকন্যাটিকে মারধর করতে থাকে। প্রথমেই স্কুলের বেঞ্চে তার মাথা নির্মমভাবে ঠুকে দেওয়ার পর চড়, ঘুষি ও লাথি মারতে থাকে। তারপরেও ওই ছাত্রের অত্যাচার থামেনি। রাস্তার ইট ও ফুলের টব দিয়ে শিশুকন্যাটিকে নৃশংসভাবে আঘাত করার অভিযোগ উঠেছে। একপর্যায়ে শিশুকন্যাটি জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। এরপরেও চলতে থাকে অত্যাচার।

বেশ কিছুক্ষণ পর আহত ছাত্রীকে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে চণ্ডীগড়ের পিজিআইএমইআর-এ স্থানান্তরিত করা হয়। এই ঘটনার পরেই স্বাভাবিকভাবেই উঠছে একাধিক প্রশ্ন।

এই হাড়হিম করা ঘটনার পরেই স্কুলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। স্কুলের ভেতরে কীভাবে এমন ঘটনা ঘটল? পর্যাপ্ত শিক্ষাকর্মী ও স্কুলের শিক্ষকরা কেন উপস্থিত ছিলেন না? শিশুদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার দায়িত্বে থাকা কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়েও উঠছে প্রশ্ন।

সেই সঙ্গে, ৮ বছরের এই ছাত্র কীভাবে এতটা শারীরিক বলপ্রয়োগ ও হিংস্র আচরণ করতে পারল, তা নিয়েও উঠছে প্রশ্ন। এই ঘটনার পর শিশুদের আচরণ ও পরিবেশের প্রভাব নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মতামতও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

” খুব ছোট বয়স থেকে বাঁচারা যদি এরকম কোনও হিংস্রতা ভরা পরিবেশে বড় হয় তাহলে স্বাভাবিক ভাবেই তাদের মনে এরকম চিত্রই ভেসে উঠবে হয়ত তার বাবা তার মা কে এরকম ভাবেই অত্যাচার করে সেটাই সে দেখে ওই শিশুকন্যার উপর প্রয়োগ করেছে বা এই ছেলেটি আজ কাল কার এরকম চলচ্চিত্র দেখে যাতে মেয়েদের সঙ্গে যা ইচ্ছে করা যায় শিশুদের যা দেখাবে ওরা তাই শিখবে তাই অল্প বয়স থেকেই এই ধরণের দৃশ্য যাতে না দেখে তার দিকে বিশেষ নজর রাখতে। এর পাশাপাশি আজকাল ছোট ছোট শিশুদের হাতে দামি দামি মোবাইল, ট্যাব, আধুনিক প্রযুক্তির জিনিস খুব সহজেই তারা পেয়ে যায় তাতে তারা বিভিন্ন রকমের হিংস্রতা ভিডিও, সিনেমা দেখছে তাতেও এই ধরণের প্রবণতা তৈরি হচ্ছে মোবাইল না দিয়ে শিশুদের হাতে বই তুলে দেওয়া উচিত এতে বুদ্ধির বিকাশ ঘটবে সমাজ অনেক সচেতন হবে “।

ছোট থেকেই একটা কথা খুব প্রচলিত স্কুল শিশুদের দ্বিতীয় বাড়ি। বাড়ির পর সব থেকে বেশি নিরাপদ জায়গা স্কুল। কিন্তু সেখানেও যদি এই ধরণের ঘটনা ঘটে তাহলে বাচ্ছাদের নিরাপত্তা কোথায়? এই নিয়েই সোচ্চার সংলিষ্ট মহল।

Pushpak Bhattacharya
পুষ্পক ভট্টাচার্য

পুষ্পক ভট্টাচার্য একজন সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মী। রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করার পর ২০২৬-এ Bengal Liberty-তে সাংবাদিক হিসেবে তাঁর পেশাগত যাত্রা শুরু হয়। আন্তর্জাতিক সংবাদ এবং ক্রীড়া সাংবাদিকতার প্রতি বিশেষ আগ্রহ। দেশ-বিদেশের সমসাময়িক ঘটনাপ্রবাহ, আন্তর্জাতিক রাজনীতি এবং খেলাধুলার নানা বিষযয়ের প্রতি বিশেষ ঝোঁক। ব্যস্ততার বাইরে বই ও সিনেমা সঙ্গী।