Bengal Liberty : স্বদেশি আন্দোলনের পর এবার জেন জি আন্দোলনকে ঘিরে ক্রমশ চড়ছে উত্তেজনার পারদ। বাংলাদেশ, নেপালের পর ভারতের মাটিতেও জেন জি-দের বিক্ষোভ অব্যাহত। এরই মধ্যে ইউরোপের অন্যতম শক্তিশালী দেশ ফ্রান্সেও দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়েছে এই আন্দোলন। প্রায় প্রতিদিনই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে ফ্রান্সের বিভিন্ন প্রান্তে অশান্তির সৃষ্টি হচ্ছে। ফ্রান্সে নজিরবিহীন বিক্ষোভের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার ইউরোপের আরেক সমৃদ্ধশালী দেশ জার্মানিতেও ছড়িয়ে পড়েছে বিক্ষোভের আগুন।
শনিবার জার্মানির বার্লিন, ফ্রাঙ্কফুর্ট, মিউনিখ-সহ মোট ৩৪টি শহরে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হয়। আন্দোলনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে চাপানউতোর। সেই সঙ্গে সংখ্যালঘুদের নিশানা করে বিরোধীদের একাংশের মন্তব্য ঘিরেও বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
ফ্রান্সের আন্দোলনের সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁকে উদ্দেশ্য করে সংখ্যালঘুদের উপরেই ঘটনার দায় চাপিয়েছিলেন বলে অভিযোগ ওঠে। সেই বিতর্কের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার জার্মানির বিভিন্ন শহরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।
আরও খবর
জার্মানিজুড়ে বিক্ষোভের আগুন
রাজধানী বার্লিন, মিউনিখ, ফ্রাঙ্কফুর্ট-সহ ৩৪টি শহরে বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে একাধিক বিতর্কিত ঘটনা সামনে এসেছে। শরণার্থীদের জার্মানি ছেড়ে চলে যাওয়ার দাবির মধ্যেই শনিবারের শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ একাধিক জায়গায় সংঘর্ষের চেহারা নেয়।
ফ্রাঙ্কফুর্টে বিক্ষোভ হিংসাত্মক রূপ নেয়। একাধিক দোকানে লুটপাট ও ভাঙচুর চালানোর পাশাপাশি বিভিন্ন জায়গায় অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটে। পরিস্থিতি সামাল দিতে রাজপথে নামে পুলিশ। বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে ব্যবহার করা হয় জলকামান ও পেপার স্প্রে। পাশাপাশি, লাঠিচার্জও করা হয়। পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তোলেন বিক্ষোভকারীরা।
হামবুর্গে ব্যারিকেডে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। কোলন ও স্টুটগার্টে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ বাধে। আহত হয়েছেন বেশ কয়েকজন নিরাপত্তাকর্মী। এখানেই শেষ নয়, পুলিশকে লক্ষ্য করে পেট্রল বোমা ছোড়ার অভিযোগও উঠেছে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে।
প্রশ্ন একটাই, পরিস্থিতি কি আদৌ স্বাভাবিক হবে, নাকি বিক্ষোভের আগুন ছড়িয়ে পড়বে বিশ্বের আরও নানা প্রান্তে? এই পরিস্থিতি ঘিরেই বাড়ছে আন্তর্জাতিক মহলের উদ্বেগ।


