Bengal Liberty: চা-শ্রমিকদের জন্য উৎসবের উপহার নতুন সরকারের। এককালীন আর্থিক সাহায্যের পাশাপাশি উৎসবের মরশুমে অতিরিক্ত খাদ্যসামগ্রী দেওয়ার ঘোষণা করলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। একই সঙ্গে বন্ধ ও অচল চা-বাগানের শ্রমিকদের পাশে দাঁড়াতে একাধিক পদক্ষেপের কথা জানালেন তিনি।
উত্তরবঙ্গে ঝটিকা সফরে গিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখান থেকেই বন্ধ চা-বাগানের শ্রমিকদের জন্য আর্থিক সহায়তার ঘোষণা করেন তিনি। উত্তরকন্যা থেকে মুখ্যমন্ত্রী জানান, ‘‘বন্ধ ও অচল চা-বাগানের প্রত্যেক শ্রমিককে উৎসবের মরশুমে এককালীন ৫ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। পাশাপাশি, পরিবারপিছু অতিরিক্ত ৫০ কেজি চালও দেওয়া হবে।’’
আগামী দিনে বন্ধ চা-বাগানগুলি ধাপে ধাপে পুনরায় চালু করা এবং শ্রমিক পরিবারগুলিকে বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পের আওতায় আনার আশ্বাসও দিয়েছেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, সরকার গঠনের ছয় মাসের মধ্যে কয়েকটি চা-বাগান খুলেছে। সেখানে কর্মরত শ্রমিকেরা বোনাসও পেয়েছেন। কিন্তু যে চা-বাগানগুলি এখনও বন্ধ রয়েছে, সেখানকার শ্রমিকদের উৎসবের সময়ে কিছুটা আর্থিক সহায়তা দিতেই এই উদ্যোগ।
আরও খবর

শুধু উৎসবের সময়েই নয়, সারা বছর কী ভাবে সরকার শ্রমিকদের পাশে থাকবে, সে কথাও জানিয়েছেন শুভেন্দু। তাঁর কথায়, ‘‘বর্তমানে শ্রমিক পরিবারগুলি নিয়মিত ৩৫ কেজি করে রেশনের চাল পায়। তার সঙ্গে উৎসব উপলক্ষে অতিরিক্ত ৫০ কেজি চাল দেওয়া হবে। শুধু তা-ই নয়, আগামী জানুয়ারি থেকে নিয়মিত রেশনের চালের পরিমাণ ৩৫ কেজি থেকে বাড়িয়ে ৫০ কেজি করার পরিকল্পনাও রয়েছে।’’
চা-শিল্পের সামগ্রিক উন্নয়নের প্রসঙ্গেও একাধিক পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, বর্তমানে চালু থাকা চা-বাগানগুলির অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ২০ শতাংশ হারে বোনাস দেওয়া হয়েছে। আগে যেখানে বোনাসের পরিমাণ ছিল ১৬ শতাংশ। কেন্দ্র বরাদ্দ দিলেও পূর্বতন সরকার বোনাসের পরিমাণ কমিয়ে দিত বলে অভিযোগ করেন শুভেন্দু।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, ‘‘চা-শ্রমিকদের পরিকাঠামো ও মৌলিক পরিষেবার উন্নয়নের জন্য ৩১৩ কোটি টাকার একটি প্রকল্প কেন্দ্রের অনুমোদন পেয়েছে। উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দফতরের মাধ্যমে ওই প্রকল্পের কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।’’
এ দিন পূর্বতন সরকারের আমলে চা-শ্রমিকদের বঞ্চনার অভিযোগ তুলেও সরব হন শুভেন্দু। তাঁর অভিযোগ, আগের দুর্নীতিগ্রস্ত সরকার চা-শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করেছে। মঙ্গলবার উত্তরবঙ্গের চা-শ্রমিকদের জন্য সহায়তা কর্মসূচির সূচনা করে সরাসরি তৃণমূলকে আক্রমণ করেন মুখ্যমন্ত্রী।
বছরের পর বছর বন্ধ চা-বাগান, অনিশ্চিত রোজগার আর অভাবের সঙ্গে প্রতিদিনের লড়াই। উত্তরবঙ্গের প্রত্যন্ত চা-বাগান এলাকার বহু শ্রমিক পরিবারের কাছে উৎসবের আনন্দও দীর্ঘদিন ধরে বিলাসিতা হয়ে উঠেছে। সেই পরিস্থিতিতে উৎসবের মুখে আর্থিক সহায়তা ও অতিরিক্ত খাদ্যসামগ্রী দেওয়ার ঘোষণা তাঁদের কিছুটা স্বস্তি দেবে বলেই মনে করছে প্রশাসন।


