তাঁর মামলায় কলকাতা হাই কোর্ট গুরুত্ব দেয়নি। এ বার সুপ্রিম কোর্টে স্বস্তি পেলেন মমতা তৃণমূলের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে তাঁর মামলার বিষয়ের মধ্যে ঢোকেনি আদালত। শীর্ষ আদালত শুধু জানায়, হাই কোর্টকে অনুরোধ করব অভিষেকের আবেদনটি বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নিতে। আগামী ১৬ নভেম্বর পুজোর ছুটির পরে হাই কোর্ট খুলবে। তখন দ্রুত শুনানি চেয়ে আবেদন করতে পারবেন তৃণমূল সাংসদ। এ দিন তাঁর মামলাটি নিষ্পত্তি করে দেয় প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনার বেঞ্চ।
মঙ্গলবার অভিষেকের আইনজীবী শোয়েব আলমের বক্তব্য, গত সেপ্টেম্বর মাসে তাঁর মক্কেল কলকাতা হাই কোর্টে এই সংক্রান্ত মামলা করেছেন। একটি বেঞ্চ মামলা থেকে সরে দাঁড়ায়। এর পরে তিন বার জরুরি শুনানির আবেদন জানানো হয়। কিন্তু বিচারপতি কান দেননি। ওই আইনজীবীর দাবি, প্রায় প্রতিদিনই পুলিশ তথা তদন্তকারী সংস্থা এবং কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের মাধ্যমে তদন্ত সংক্রান্ত বিভিন্ন খবর প্রকাশ্যে আসছে। এক ধরনের ‘মিডিয়া ট্রায়াল’ চলছে। সেগুলি বন্ধ করা হোক।
আরও খবর
তদন্ত চলাকালীন তাঁর ব্যক্তিগত তথ্য, তদন্তের অগ্রগতি এবং জিজ্ঞাসাবাদের বিষয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ করা হচ্ছে। অভিযোগ তুলে হাই কোর্টে মামলা করেছিলেন অভিষেক। তাঁর বক্তব্য, তথ্য বাইরে এলে তদন্ত প্রক্রিয়া প্রভাবিত হতে পারে। এমনকি তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই দোষী বলে জানিয়ে দেওয়া হচ্ছে। ফলে তাঁর সুনাম, মর্যাদা ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তার অধিকার ক্ষুণ্ন হচ্ছে। হাই কোর্টে অভিষেকের আবেদন, তদন্ত সংক্রান্ত ওই সব তথ্য পুলিশ যাতে বাইরে প্রকাশ না করে সেই নির্দেশ দেওয়া হোক। অথবা, আদালত জানিয়ে দিক, তদন্তে প্রভাব পড়তে পারে এবং সম্মান হানি হয় এমন সব খবর প্রকাশ থেকে বিরত থাকবে সংবাদমাধ্যম।
প্রথমে হাই কোর্টের বিচারপতি কৃষ্ণ রাও মামলাটি ছেড়ে দেন। তিনি জানান, ওই মামলাটি তাঁর এজলাসের বিচার্য বিষয় নয়। পরে মামলাটি যায় বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের এজলাসে। তিনি মামলাটি দ্রুত শুনতে রাজি হননি। হাই কোর্ট জানায়, এখনই মামলাটি দ্রুততার সঙ্গে শুনানি করতে হবে এমন প্রয়োজনীয়তা নেই। এমতাবস্থায় হাই কোর্টে সুরাহা না পেয়ে সুপ্রিম কোর্টে যান অভিষেক।


