মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী

‘ছোট দফতর নয় সমবায়’, ১৪৯ জনের হাতে নিয়োগপত্র তুলে দিয়ে বড় বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর

এদিনের অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানান, আগামী দিনেও স্বচ্ছতার সঙ্গে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবে রাজ্য সরকার। পাবলিক সার্ভিস কমিশন একটি স্বাধীন সাংবিধানিক সংস্থা। নিয়োগের ক্ষেত্রে সেখানে সরকারের কোনওরকম হস্তক্ষেপ থাকবে না। তাঁর কথায়, ‘‘পিএসসি একেবারে ইন্ডিপেন্ডেন্ট সংস্থা, যেখানে সরকারের সরাসরি কোনও হস্তক্ষেপ থাকে না, থাকবে না। বিগত দিনে সরকার যা ভুল করেছে, সেই ভুল এই সরকারের আমলে আবারও হবে না, এটা আমি গ্যারান্টি দিয়ে আপনাদের বলতে পারি।’’ তিনি আরও জানান, নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হওয়ার পর চাকরিপ্রার্থীদের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে নিয়োগপত্র তুলে দিতে জব ফেয়ার আয়োজনের পরিকল্পনাও রয়েছে সরকারের।

সমবায় দফতরের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘সমবায় দফতর ছোটখাটো কোনও দফতর নয়। বাজেট ছোট হতে পারে, কিন্তু এর কাজের পরিধি অনেক বড়।’’ সমবায় আন্দোলনের সঙ্গে দীর্ঘদিন যুক্ত থাকার অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেন শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর দাবি, দীর্ঘদিন সমবায় সমিতিগুলিতে নির্বাচন না হওয়া, নিয়মিত অডিটের অভাব এবং প্রশাসনিক নজরদারির ঘাটতির কারণে রাজ্যের সমবায় ক্ষেত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একসময় একজন সমবায় পরিদর্শককে ১৫-২০টি সমিতির দায়িত্ব সামলাতে হত। ফলে প্রতিটি সমিতির উপর নিয়মিত নজরদারি কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়েছিল।

সমবায়কে বিকল্প অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ হিসেবে উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, কৃষক, মৎস্যজীবী, দুগ্ধ উৎপাদক, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ, পোলট্রি এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রের উন্নয়নে সমবায়ের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর কথায়, ‘‘সরকার সমস্ত বেকারকে চাকরি দিতে পারবে না। আর সকলেই চাকরি করতে আগ্রহী নন। এই সেক্টর একটা বিকল্প অর্থনীতি।’’

এদিন সমবায় ক্ষেত্রে ইতিমধ্যেই নেওয়া কয়েকটি পদক্ষেপের কথাও তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, আমূল এবং ন্যাশনাল ডেয়ারি ডেভেলপমেন্ট বোর্ডের সহযোগিতায় ৫৭০টি মিল্ক কালেকশন সেন্টার ও মিল্ক কুলিং পয়েন্টকে বহুমুখী গ্রামীণ সমবায় ব্যবস্থার আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, ১,২৩০টি সমবায় সমিতিকে ব্যাঙ্কিং পরিষেবা, কমন সার্ভিস সেন্টার এবং স্বাস্থ্য পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে।

সামগ্রিক নিয়োগ প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী জানান, ২০২৭ সালের ৮ মে-র মধ্যে রাজ্যের বিভিন্ন দফতরে এক লক্ষেরও বেশি যুবক-যুবতীর হাতে নিয়োগপত্র তুলে দেওয়াই সরকারের লক্ষ্য। পাশাপাশি বকেয়া মেটানো এবং সপ্তম বেতন কমিশন কার্যকর করার বিষয়েও আশ্বাস দেন তিনি। নতুন সমবায় আধিকারিকদের উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রীর বার্তা, ‘‘কোনও রাজনৈতিক পক্ষপাত নয়, নিষ্ঠা, সততা ও স্বচ্ছতার সঙ্গে সাধারণ মানুষের কাছে সরকারি পরিষেবা পৌঁছে দিতে হবে।’’

Bengal Liberty