Bengal Liberty: পঞ্চায়েতের উন্নয়নে একগুচ্ছ বড় পদক্ষেপের ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। গ্রামীণ কর্মসংস্থান থেকে আবাসন, পঞ্চায়েতের পরিকাঠামো উন্নয়ন থেকে স্থায়ী কর্মী নিয়োগ—পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দফতরের কাজের অগ্রগতি পর্যালোচনা করতে গিয়ে একাধিক ঘোষণা করেন তিনি। বুধবার নিউটাউনের পঞ্চায়েত ভবনে এই পর্যালোচনা বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী। উপস্থিত ছিলেন পঞ্চায়েতমন্ত্রী দিলীপ ঘোষ, পঞ্চায়েত প্রতিমন্ত্রী শান্তনু প্রামাণিক-সহ রাজ্যের একাধিক মন্ত্রী, জেলাশাসক, মুখ্যসচিব ও অর্থসচিব। বৈঠকে মূলত কেন্দ্রের নতুন গ্রামীণ কর্মসংস্থান প্রকল্প ‘বিকশিত ভারত–জি রাম জি’ এবং ১২ হাজার কোটি টাকারও বেশি মূল্যের পঞ্চায়েতের কাজ নিয়ে আলোচনা হয়।

বৈঠক শেষে মুখ্যমন্ত্রী জানান, বিভিন্ন গ্রামীণ কর্মসংস্থান প্রকল্পে রাজ্যে ইতিমধ্যেই প্রায় ১২ হাজার ৭০০ কোটি টাকার কাজের পরিকল্পনা করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৮৫০০ কোটি টাকা দেবে কেন্দ্র। বাকি অর্থের বড় অংশ বহন করবে রাজ্য সরকার। কেন্দ্রের তরফে প্রথম পর্যায়ে ইতিমধ্যেই প্রায় ১২০০ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, বর্তমানে প্রতিদিন প্রায় ৭ লক্ষ ৯ হাজার কর্মদিবস তৈরি হচ্ছে। এখনও পর্যন্ত প্রায় ৬৫ লক্ষ ৬২ হাজার কর্মদিবস তৈরি করা সম্ভব হয়েছে।
এই প্রকল্পে আধার ও কেওয়াইসি সংযুক্তিকরণের সময় প্রায় ৩১ লক্ষ ভুয়ো জব কার্ড বাতিল করা হয়েছে বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, নতুন জব কার্ড দেওয়ার ক্ষেত্রে কেন্দ্রের অনুমোদন পাওয়ার পর জনকল্যাণ শিবির, সেবা সেতু ও সংকল্প অভিযানের মাধ্যমে প্রায় ১০ লক্ষ নতুন জব কার্ড দেওয়া হয়েছে।
আরও খবর
অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রী গ্রামীণ আবাস যোজনায় বাড়ি তৈরির কাজ নিয়েও আশ্বাস দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রাথমিক সমীক্ষায় ৫৪ লক্ষ বাড়ির নাম উঠে এলেও পরবর্তী যাচাইয়ের পর সেই সংখ্যা কমে প্রায় ৪৭ লক্ষ হয়েছে। আগামী দু’টি অর্থবর্ষের মধ্যে সমস্ত বাড়ি তৈরির কাজ শেষ করার অঙ্গীকার করেছেন তিনি।
পঞ্চায়েত দফতরে কর্মীসংকট মেটাতেও বড় ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানিয়েছেন, প্রায় ৭২০০টি স্থায়ী পদে নিয়োগের অনুমোদন দিয়েছে রাজ্য মন্ত্রিসভা। পাবলিক সার্ভিস কমিশনের মাধ্যমে স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। লক্ষ্য, ২০২৭ সালের এপ্রিলের মধ্যে নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করা। পাশাপাশি, আপাতত এক বছরের জন্য আরও ১০০০ জন চুক্তিভিত্তিক কর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। দীপাবলির পর বিধানসভার বিশেষ অধিবেশনে নিয়োগ সংক্রান্ত নিয়ম সংশোধনের কথাও জানিয়েছেন তিনি।
এ ছাড়াও, নতুন পঞ্চায়েত ভবন তৈরির জন্য নিউটাউনে পাঁচ একর জমি দেওয়ার ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। মনরেগা প্রকল্পে কর্মরত গ্রাম রোজগার সহায়কদের সাম্মানিক বৃদ্ধির প্রস্তাবও আগামী নভেম্বরের মন্ত্রিসভার বৈঠকে অনুমোদনের জন্য পেশ করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
অন্যদিকে, পঞ্চায়েতমন্ত্রী দিলীপ ঘোষের অভিযোগ, পূর্ববর্তী সরকারের আমলে পঞ্চায়েত ব্যবস্থায় বিপুল আর্থিক অনিয়ম হয়েছে। তাঁর দাবি, প্রায় ৮০ হাজার কোটি টাকার কাজের সুযোগ যথাযথভাবে কাজে লাগানো হয়নি। সেই ঘাটতি পূরণ করে গ্রামীণ উন্নয়নকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়াই বর্তমান সরকারের লক্ষ্য বলে দাবি করেন তিনি।


