Bengal Liberty: টেন্ডার দুর্নীতির তদন্তে কলকাতা পুলিশের জেরার মুখে পড়ে এবার স্ত্রীকে নিয়ে বিস্ফোরক দাবি করলেন ইন্দ্রনীল সেন। লালবাজার সূত্রে খবর, জিজ্ঞাসাবাদের সময় নিজের দায় এড়িয়ে স্ত্রীর দিকে অভিযোগের আঙুল তুলেছেন তিনি। তদন্তকারীদের কাছে ইন্দ্রনীল দাবি করেছেন, তাঁর স্ত্রী সমস্ত বিষয় জানেন। অর্থাৎ, টেন্ডার সংক্রান্ত আর্থিক লেনদেনের বিষয়ে স্ত্রীরও অবগত থাকার কথা জানিয়েছেন তিনি। যদিও ইন্দ্রনীলের এই দাবির সত্যতা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
পুলিশ সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, গত পাঁচ বছরে তিনটি সংস্থা প্রায় ১৫০টি টেন্ডার পেয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, ওই তিনটি সংস্থার মালিক ইন্দ্রনীলের পরিচিত তথা বন্ধু। এই সংস্থাগুলির ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে ইন্দ্রনীলের মেয়ের অ্যাকাউন্টে টাকা যাওয়ার তথ্যও পুলিশের হাতে এসেছে বলে খবর। পরবর্তী সময়ে সেই টাকা ইন্দ্রনীলের কাছে ফিরে গিয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। এই আর্থিক লেনদেনের পিছনে কোনও বেআইনি যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা জানতেই বিভিন্ন অ্যাকাউন্টের লেনদেন পরীক্ষা করা হচ্ছে।
তদন্তে উঠে এসেছে, বিভিন্ন সময়ে প্রচারমূলক কাজেও ওই সংস্থাগুলির অর্থ ব্যবহার করা হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযোগ, বিভিন্ন জায়গায় ব্যানার লাগানো, অমিতাভ বচ্চনকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়ে প্রচার, রাস্তা সাজানো এবং একাধিক এলাকায় মিষ্টি বিতরণের মতো কর্মসূচিতেও খরচ হয়েছিল টাকা। এই সমস্ত খরচের উৎস কী, তা জানার চেষ্টা করছে পুলিশ।
আরও খবর
এদিকে, তদন্তে সহযোগিতা করার জন্য আজও লালবাজারে হাজিরা এড়িয়েছেন ইন্দ্রনীল সেনের মেয়ে। তাঁকে ফের বৃহস্পতিবার হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। লালবাজারের এক শীর্ষ আধিকারিকের বক্তব্য, আগামীকালও তিনি হাজিরা না দিলে তাঁর বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করা হতে পারে। ফলে মেয়ের হাজিরা নিয়েও বাড়ছে তদন্তকারীদের তৎপরতা।
অন্যদিকে, টেন্ডার সংক্রান্ত নথি ও আর্থিক লেনদেনের বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করতে পর্যটন দফতরেও গিয়েছে পুলিশ। দফতরের কাছ থেকে বিভিন্ন নথি ও তথ্য সংগ্রহ করে গোটা আর্থিক লেনদেনের গতিপথ খতিয়ে দেখতে চাইছেন তদন্তকারীরা।


