Bengal Liberty: তপসিয়ায় পুরসভার হানা। বেআইনিভাবে প্যাকেটজাত পানীয় জলের কারখানায় অভিযান চালাল কলকাতা পুরসভা ও এনফোর্সমেন্ট ব্রাঞ্চের যৌথ দল। সঙ্গে ছিল কলকাতা পুলিশ। বৃহস্পতিবার তপসিয়া-সহ সংলগ্ন এলাকায় একের পর এক জলের কারখানায় হানা দেন আধিকারিকেরা। অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই কোনও বৈধ অনুমতি বা ট্রেড লাইসেন্স ছাড়াই রমরমিয়ে চলছিল প্যাকেটজাত পানীয় জলের ব্যবসা।
অভিযানে সামনে এসেছে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য। অভিযোগ, কারখানাগুলিতে ভূগর্ভস্থ জল বা বোরিংয়ের জল তুলে বিভিন্ন যন্ত্রের মাধ্যমে পরিশোধন করে তা প্যাকেটজাত করা হচ্ছিল। অথচ সেই জল ব্যবহারের প্রয়োজনীয় অনুমতি রয়েছে কি না, সে বিষয়ে কারখানার মালিকেরা স্পষ্ট কোনও উত্তর দিতে পারেননি। শুধু তা-ই নয়, তল্লাশিতে প্রায় চার-পাঁচটি জায়গায় একই ছবি ধরা পড়েছে। একাধিক কারখানার মালিক ট্রেড লাইসেন্স দেখাতে পারেননি। এমনকী, ‘হিমালয়া পিওর’ নামে যে ব্র্যান্ডের জল বাজারে বিক্রি করা হচ্ছিল, তারও প্রয়োজনীয় অনুমোদন রয়েছে কি না, তা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে।
২৬ নম্বর তপসিয়া রোডের একটি কারখানায় ‘হিমালয়া পিওর’ নামে জল তৈরির প্রক্রিয়া খতিয়ে দেখেন আধিকারিকেরা। সেখানে বোরিংয়ের জল পরিশোধন করে প্যাকেটজাত করা হচ্ছিল বলে দাবি পুরসভার। এরপরই কারখানাগুলিকে সাময়িকভাবে কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়। মালিকদের নোটিস দিয়ে প্রয়োজনীয় নথিপত্র-সহ পুরসভায় হাজির হতে বলা হয়েছে।
আরও খবর
উল্লেখযোগ্যভাবে, পুজোর আগে থেকেই শহরের বিভিন্ন এলাকায় বেআইনি কারখানা এবং খাদ্যপণ্যের গুণমান নিয়ে তৎপর হয়েছে পুরসভার খাদ্য সুরক্ষা বিভাগ। এবার তাদের নজরে প্যাকেটজাত পানীয় জলের কারখানা। তবে প্রশ্ন উঠছে, দীর্ঘদিন ধরে এই ব্যবসা চললেও এতদিন কেন নজরদারি হয়নি? বিগত সরকারের আমলেই যদি এই কারখানাগুলি গড়ে উঠে থাকে, তা হলে তৎকালীন প্রশাসন কী ব্যবস্থা নিয়েছিল? শাসকপক্ষের দাবি, তৃণমূল সরকারের আমলে পানীয় জলের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রেও অনিয়ম ও দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেওয়া হয়েছিল কি না, তা নিয়েও তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।


