মমতা তৃণমূল কংগ্রেসে ফের ভাঙন। বসিরহাট উত্তর বিধানসভা কেন্দ্রের মুরারিশাহ গ্রাম পঞ্চায়েতে তৃণমূল কংগ্রেসের পঞ্চায়েত সদস্য ও সদস্যারা আনুষ্ঠানিকভাবে NCPI-তে যোগদান করলেন। তাঁদের সঙ্গে দলের স্থানীয় নেতৃত্বের একাংশও নতুন দলে যোগ দিয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে। এই যোগদানের ফলে এলাকায় রাজনৈতিক সমীকরণে পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
মুরারিশাহ গ্রাম পঞ্চায়েতে বর্তমানে মোট ২৯ জন পঞ্চায়েত সদস্য রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে পঞ্চায়েত সদস্য ও সদস্যা মিলিয়ে মোট ১৪ জন তৃণমূল কংগ্রেসের সদস্য এবং স্থানীয় নেতৃত্ব এদিন আনুষ্ঠানিকভাবে NCPI-তে যোগদান করেন। দলবদলের এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় রাজনৈতিক চর্চা শুরু হয়েছে।
আরও খবর
যোগদানকারী তৃণমূলের পঞ্চায়েত সদস্য মোহাম্মদ আলাউদ্দিন মন্ডল বলেন, এলাকার সার্বিক উন্নয়ন, রাস্তাঘাট নির্মাণ, পানীয় জলের সুব্যবস্থা, স্বাস্থ্য পরিষেবার উন্নয়ন এবং যুবকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করার লক্ষ্যেই তাঁরা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তাঁর দাবি, এলাকার মানুষের উন্নয়ন ও তাঁদের প্রত্যাশা পূরণের জন্য নতুন রাজনৈতিক মঞ্চে থেকে কাজ করার প্রয়োজনীয়তা তাঁরা অনুভব করেছেন।
পাশাপাশি, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর জনমুখী কাজকর্ম এবং নীতিতে অনুপ্রাণিত হয়েই তাঁরা NCPI-তে যোগ দিয়েছেন বলে জানান আলাউদ্দিন মন্ডল। তাঁর কথায়, এলাকার মানুষের পাশে থেকে উন্নয়নের কাজকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়াই তাঁদের মূল লক্ষ্য।
এই যোগদান প্রসঙ্গে NCPI-এর মুখপাত্র অনুরাগ সিংহ তৃণমূল কংগ্রেসকে আক্রমণ করেন। তাঁর অভিযোগ, ‘‘তৃণমূলের মধ্যে এতটাই দুর্নীতি বাসা বেঁধেছিল যে, ওই দলের যে পঞ্চায়েত সদস্যরা সৎভাবে কাজ করতে চান এবং এলাকার উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে চান, তাঁরা সেখানে থেকে সাধারণ মানুষকে পরিষেবা দিতে পারছিলেন না।’’ তাঁর দাবি, সেই কারণেই পঞ্চায়েত সদস্যদের একাংশ তৃণমূল ছেড়ে NCPI-তে যোগ দিয়েছেন।
দলীয় সূত্রে দাবি, মুরারিশাহ গ্রাম পঞ্চায়েতে এই যোগদানের ফলে আগামী দিনে স্থানীয় রাজনীতিতে NCPI-এর সাংগঠনিক শক্তি আরও বাড়বে। একইসঙ্গে পঞ্চায়েতের কাজকর্ম এবং স্থানীয় রাজনৈতিক সমীকরণেও এর প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।
তবে তৃণমূলের তরফে এই দলবদল নিয়ে এখনও কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। ফলে ১৪ জন পঞ্চায়েত সদস্যের যোগদানের পর মুরারিশাহ গ্রাম পঞ্চায়েতে রাজনৈতিক সমীকরণ কোন দিকে যায়, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।


