‘এরা নিকৃষ্টতম চোর, বড়টা তো ডাকাত।’ ডায়মন্ড হারবারের সরিষায় তৃণমূলের পার্টি অফিস থেকে বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা উদ্ধারের ঘটনায় এভাবেই পূর্বতন তৃণমূল সরকারকে আক্রমণ করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। নবান্নে সাংবাদিক বৈঠক থেকে সরাসরি প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করেন তিনি। একইসঙ্গে দুর্নীতির তদন্তে আরও বড় তথ্য সামনে আসবে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
উল্লেখ্য, দক্ষিণ ২৪ পরগনার কালীতলা আশুতি থানা এলাকার মাটি কেলেঙ্কারির তদন্তে নেমে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ব্যক্তিগত সহায়ক সুমিত রায়কে গ্রেফতার করে পুলিশ। বর্তমানে তিনি ডায়মন্ড হারবার পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন। তাঁকে দীর্ঘক্ষণ জিজ্ঞাসাবাদ করে তদন্তকারীরা বেশ কিছু সূত্র পান। সেই সূত্র ধরেই ডায়মন্ড হারবারের সরিষা এলাকায় তৃণমূলের একটি পার্টি অফিসে অভিযান চালায় পুলিশ। ওই কার্যালয়টি মূলত তৃণমূলের স্থানীয় নেতা তথা বিধায়ক শামি মহম্মদের বলে জানা গিয়েছে। সেখান থেকেই নগদ ১ কোটি ২ লক্ষ ৭৯ হাজার টাকা উদ্ধার হয়েছে বলে জানিয়েছেন ডায়মন্ড হারবারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অভিষেক। উদ্ধার হওয়া টাকার অধিকাংশই ৫০০ টাকার নোটের বান্ডিল।
আরও খবর
তৃণমূলের দুর্নীতি সর্বজনবিদিত। কিন্তু অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের লোকসভা এলাকা থেকে এই বিপুল পরিমাণ অর্থ উদ্ধারের ঘটনায় মুখ্যমন্ত্রীর সরাসরি অভিযোগ এবং আরও বড় দুর্নীতির তথ্য সামনে আনার হুঁশিয়ারি ঘিরে রাজনৈতিক মহলে চর্চা শুরু হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, ‘‘এই টাকা তো ওদের কাছে নস্যি। হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাঠিয়েছে। কোনও জায়গা বাকি রাখেনি, যেখান থেকে টাকা খায়নি।’’
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই এদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে ইন্দ্রনীল সেনের ঘনিষ্ঠতার প্রসঙ্গও তোলেন শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর অভিযোগ, পূর্বতন মুখ্যমন্ত্রীর বিশেষ আশীর্বাদপুষ্ট ছিলেন ইন্দ্রনীল সেন। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, ‘‘তৃণমূলের প্রতিষ্ঠাতা নেতা, ক্যাবিনেটের মন্ত্রীরাও মুখ্যমন্ত্রীর গাড়িতে জায়গা পেতেন না। অ্যাপয়েন্টমেন্ট চাইলে নবান্নে দেখা করার সুযোগও পেতেন না। অথচ ইন্দ্রনীলের বিশেষ ব্যাপার ছিল। তিনি মুখ্যমন্ত্রীর গাড়িতে জায়গা পেতেন। রাতে যেখানে মুখ্যমন্ত্রী থাকতেন, সেখানেই তাঁর থাকার ব্যবস্থা হতো। নবান্ন এবং বাড়িতে তাঁর অবাধ যাতায়াত ছিল।’’
এখানেই থেমে থাকেননি মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কথায়, ‘‘মুখ্যমন্ত্রীর আশীর্বাদ ছাড়া কখনও এত বড় দুর্নীতি হতে পারে না। এত বড় রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধানের আশীর্বাদ যার মাথায় রয়েছে, তার তো কোনও কিছু নিয়ে চিন্তা করার কারণ নেই।’’
ইন্দ্রনীল সেনের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগের তদন্ত নিয়েও মুখ খোলেন তিনি। জানান, বিশ্বদূত কমিশনও বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। পাশাপাশি রাজ্য সরকারও তদন্ত চালাচ্ছে। তাঁর হুঁশিয়ারি, ‘‘সব বের করব।’’
উল্লেখ্য, গতকালই মাসআর্ট সংস্থার দায়িত্বে থাকা ধ্রুবজ্যোতি বসু ওরফে শুভকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সেই গ্রেফতারির পর ইন্দ্রনীল সেনকে ঘিরে তদন্ত কোন দিকে এগোয়, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।


