Bengal Liberty: সারা বছর পরিশ্রম করে আলু ফলিয়েও মিলত না ন্যায্য দাম। কখনও হিমঘরে আটকে থাকত ফসল, কখনও ভিনরাজ্যে আলু পাঠাতে গিয়ে সীমান্তে বাধার মুখে পড়তে হত চাষিদের। ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে বছরের পর বছর লোকসানের মুখ দেখতে হয়েছে বহু আলুচাষিকে। এই পরিস্থিতি বদলাতে এবার আলুচাষিদের জন্য একগুচ্ছ পদক্ষেপের ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। হুগলির পুরশুড়ার সভা থেকে আলুচাষ ও বিপণনের সমস্যা সমাধানে একাধিক পরিকল্পনার কথা জানালেন তিনি।

এদিন বক্তব্য রাখতে গিয়ে পূর্বতন তৃণমূল সরকারকে নিশানা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “বিগত তৃণমূল সরকারের আমলে রাজ্যের আলু বাইরে যেত না। আলু নষ্ট হত। দাম পেতেন না কৃষকরা।” তাঁর দাবি, অনেকেই ঋণ নিয়ে চাষ করেও সেই ঋণ শোধ করতে পারতেন না।
এই সমস্যা সমাধানে এবার ভিনরাজ্যে আলু রপ্তানির ক্ষেত্রে বাধা না দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন শুভেন্দু। তাঁর ঘোষণা, “আলু পরিবহণের ক্ষেত্রে গাড়ি বা ট্রেনে প্রতি কুইন্টালে ৫০ টাকা পর্যন্ত ভর্তুকি দেওয়া হবে।” অর্থাৎ সড়কপথ কিংবা রেলপথে অন্য রাজ্যে আলু পাঠানোর ক্ষেত্রে আর্থিক সহায়তা পাবেন চাষিরা।
আরও খবর
পাশাপাশি আলুকে প্রধানমন্ত্রী ফসল বিমা যোজনার আওতায় আনার কথাও ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। আলুচাষিদের বিমার জন্য যে প্রিমিয়াম দিতে হয়, সেই অর্থ এবার রাজ্য সরকার বহন করবে বলে জানিয়েছেন তিনি। ফলে ফসল নষ্ট হলে বিমার সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে চাষিদের আর্থিক চাপ কমবে।
এখানেই শেষ নয়। আলুচাষিদের উৎপাদিত ফসল যাতে অবিক্রীত অবস্থায় পড়ে না থাকে, তার জন্য সরকারি উদ্যোগে আলু কেনার ব্যবস্থাও করা হবে। ২০২৭ সালের আলু সংগ্রহ প্রকল্পের মাধ্যমে NAFED, NSF-সহ কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলির সঙ্গে সমন্বয় করে বিভিন্ন রাজ্যে আলু বিক্রির ব্যবস্থা করবে সরকার। এর ফলে রাজ্যের বাইরে আলুর বাজার খুঁজে পেতে সুবিধা হবে চাষিদের।
এ ছাড়াও আলু সংরক্ষণের সমস্যা মেটাতে মিনি কোল্ড স্টোরেজ এবং সৌরচালিত হিমঘর তৈরির উপরেও জোর দিচ্ছে সরকার। সব মিলিয়ে পূর্ব বর্ধমানের ভাতার, কালনা, কাটোয়া, জামালপুর থেকে হুগলির পুরশুড়া, আরামবাগ এবং সংলগ্ন আলু উৎপাদক এলাকার কৃষকদের জন্য এই ঘোষণা তাৎপর্যপূর্ণ বলেই দাবি প্রশাসনের।


