রাজ্য মানবাধিকার কমিশন
রাজ্য মানবাধিকার কমিশন

বুকস্টলে হামলার ঘটনায় ডিজি-নগরপালের কাছে তলব অ্যাকশন রিপোর্ট তলব রাজ্য মানবাধিকার কমিশনের

আর কমিশনের এই পদক্ষেপের প্রশংসা করে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনও! রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা ও মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে আর কোনও আপোস করতে রাজি নয় কমিশন। প্রতিটা কেসের ক্ষেত্রেই পুলিশকর্তাদের রিপোর্ট জমা দেওয়ার জন্য বেঁধে দেওয়া হয়েছে নির্দিষ্ট ডেডলাইন। কমিশন সূত্রের খবর, রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর নিয়মমাফিক রাজ্য সরকারকে কড়া সুপারিশও পাঠানো হচ্ছে। সোজা কথা, মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিন্দুমাত্র উপক্রম হলেও যে কাউকে রেয়াত করা হবে না, সেই লাল চোখ দেখিয়ে রাখল কমিশন। প্রসঙ্গত, দুর্গাপুজো ও উৎসবের মরশুমে যাদবপুর, বিরাটি থেকে শুরু করে কলকাতা ও জেলায় জেলায় সিপিএমের বুকস্টল ভাঙচুর, কর্মী-সমর্থকদের মারধর ও হুমকির একাধিক অভিযোগ ওঠে।

এই নিয়ে হস্তক্ষেপ চেয়ে গত ২৩ অক্টোবর মানবাধিকার কমিশনে একটি বিস্তারিত ইমেল পাঠান সিপিএম রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম। পুজো ও কালীপুজোর ছুটির পর ২৭ অক্টোবর দপ্তর খুলতেই সেলিমের সেই মেলটিকে অত্যন্ত ‘সিরিয়াসলি’ নেয় কমিশন। কোনও আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় না গিয়ে সরাসরি সেলিমের ইমেলটিকেই ‘পিটিশন’ হিসেবে গ্রহণ করা হয়। পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গ মানবাধিকার কমিশন রেগুলেশন ২০১৫-এর ৩৮ নম্বর ধারা প্রয়োগ করে আসরে নেমেছেন কমিশন কর্তারা। স্বতঃপ্রণোদিত নোটে চেয়ারম্যান স্পষ্ট লেখেন, জনস্বার্থেই এই সব ঘটনার ইন-ডেপথ তথ্য জানা জরুরি। তার পরই অ্যাকশন টেকেন রিপোর্টের সমন পাঠানো হয় রাজ্যের তিন শীর্ষ প্রশাসনিক কর্তাকে মুখ্যসচিব, রাজ্য পুলিশের ডিজি এবং কলকাতা পুলিশের নগরপালকে।

সব তথ্য জমা দেওয়ার জন্য বুধবার পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছিল। এরপর আজ শুক্রবার হবে মেগা বৈঠক, শুক্রবার রিপোর্ট নিয়ে এক হাই-ভোল্টেজ বৈঠকে বসতে চলেছে মানবাধিকার কমিশন। মেঘালয় হাইকোর্টের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি তথা কমিশনের চেয়ারম্যান ইন্দ্রপ্রসন্ন মুখোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে বসবে এই বৈঠক। উপস্থিত থাকবেন কমিশনের বাকি দুই হেভিওয়েট সদস্য বিচারপতি মধুমতী মিত্র এবং রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যসচিব বাসুদেব বন্দ্যোপাধ্যায়। জমা পড়া রিপোর্ট স্ক্যান করার পর কমিশন পরবর্তী কী কড়া নির্দেশ দেয়, সে দিকেই এখন নজর সব মহলের।

Bengal Liberty