Bengal Liberty: মালদা টাউন রেলওয়ে স্টেশনে বৃহস্পতিবার দুপুরে ২০৫০১ নম্বর ট্রেন (আনন্দ বিহার টার্মিনাল–তেজস রাজধানী এক্সপ্রেস) এসে পৌঁছয় ০১ নম্বর প্ল্যাটফর্মে। মালদা ডিভিশনের ডিভিশনাল রেলওয়ে ম্যানেজার মনীশ কুমার গুপ্তের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে দলটি আগত যাত্রীদের উপর কড়া নজরদারি চালাচ্ছিল। তাঁদের তীক্ষ্ণ নজরে দ্রুত ধরা পড়ে তিনজন ব্যক্তি। তাদের মধ্যে ছিল দু’জন পুরুষ ও একজন মহিলা। ভারী প্লাস্টিকের বস্তা নিয়ে দ্রুত প্ল্যাটফর্ম অতিক্রম করার চেষ্টা করছেন।
তাঁদের সন্দেহজনক গতিবিধি লক্ষ্য করে নিরাপত্তারক্ষীরা সঙ্গে সঙ্গে তাঁদের আটক করেন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ওই তিনজন স্বীকার করেন যে, তাঁদের বস্তার মধ্যে রাখা প্লাস্টিকের জারের ভিতরে নিষিদ্ধ মাদকদ্রব্য লুকিয়ে রাখা হয়েছে। এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট এবং স্বাধীন সাক্ষীদের উপস্থিতিতে বিকেল ৫-২৫ থেকে সন্ধ্যে ৭-৫৫ মিনিট পর্যন্ত পুঙ্খানুপুঙ্খ তল্লাশি চালানো হয়। মহিলা অভিযুক্তের পৃথক তল্লাশি করেন মহিলা কনস্টেবল কণিকা রায়। তল্লাশিতে তাঁদের কাছ থেকে মোট ২৪টি প্যাকেটে থাকা সন্দেহভাজন গাঁজা উদ্ধার করা হয়, যার মোট ওজন ১৫.৩৪০ কেজি এবং আনুমানিক বাজারমূল্য ৭,৬৭,০০০ টাকা। ধৃতরা হলেন নীতীশ কুমার (২৬), খুশো বিন্দ (৪৩) ও গুঞ্জন দেবী (৪৩)।
ড্রাগ ডিটেকশন কিটের সাহায্যে প্রাথমিক পরীক্ষায় উদ্ধার হওয়া নমুনায় গাঁজার উপস্থিতি নিশ্চিত হয়। উদ্ধার হওয়া সমস্ত মাদকদ্রব্যের পাশাপাশি দুটি মোবাইল ফোন এবং দুটি রেলযাত্রার টিকিট যথাযথভাবে বাজেয়াপ্ত করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদ এবং সমস্ত বাধ্যতামূলক আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর ২০২৬ সালের ৪ নভেম্বর সকালে মালদা টাউন জিআরপিএস-এর পক্ষ থেকে তিন অভিযুক্তকেই এনডিপিএস আইন-এর বিভিন্ন ধারায় গ্রেফতার করা হয়। এই যৌথ অভিযানের প্রশংসা করে পূর্ব রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক শিবরাম মাঝি বলেন, “অবৈধ মাদক পাচারের বিরুদ্ধে পূর্ব রেল সর্বদা আপসহীন জিরো-টলারেন্স নীতি অনুসরণ করে। সমস্ত যাত্রীর নিরাপদ ও সুরক্ষিত রেলযাত্রা নিশ্চিত করতে আমাদের নিরাপত্তা বাহিনী দিনরাত ২৪ ঘণ্টা সতর্ক ও সজাগ রয়েছে।


