Bengal Liberty: ২০২৬-২০২৭ শিক্ষাবর্ষের জন্য অ্যাফিলিয়েশন নবীকরণের অযোগ্য কলেজগুলির একটি তালিকা প্রকাশ করেছে বাবা সাহেব আম্বেদকর এডুকেশন ইউনিভার্সিটি (BSAEU)। বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাসিস্ট্যান্ট রেজিস্ট্রারের তরফ থেকে জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে, তালিকায় থাকা কলেজগুলি নির্ধারিত সরকারি ও প্রশাসনিক মানদণ্ড পূরণে ব্যর্থ হয়েছে। যার ফলে তাদের অ্যাফিলিয়েশন নবীকরণ বাতিল করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের কড়া নির্দেশ অনুযায়ী, চিহ্নিত কলেজগুলি ২০২৬-২০২৮ সেশনে বি এড কোর্সে কোনও নতুন ছাত্রছাত্রী ভর্তি নিতে পারবে না।
তবে কর্তৃপক্ষ বি এড কলেজগুলিকে দ্রুত পরিকাঠামোগত ও শিক্ষক সংক্রান্ত ঘাটতি মিটিয়ে ফেলার সুযোগ দিয়েছে, যাতে তারা পরবর্তী ২০২৭-২০২৯ সেশনের ভর্তির জন্য নিজেদের যোগ্য প্রমাণ করতে পারে। উল্লেখ্য, বি এড কলেজগুলির নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে এই বিশ্ববিদ্যালয় প্রতি বছর কলেজগুলির পরিকাঠামো, প্রয়োজনীয় শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং নিয়মবিধি খতিয়ে দেখার পরেই অ্যাফিলিয়েশন নবীকরণ করে থাকে। এই নিয়ে উচ্চশিক্ষা মন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় স্পষ্ট জানান, “শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে নতুন সরকার আসার পর মুখ্যমন্ত্রী বিকাশ ভবনে দাঁড়িয়ে বলেছিলেন শিক্ষাকে কোনওভাবেই পণ্য করতে দেওয়া হবে না এবং শিক্ষার গুণমান বজায় রাখতে হবে।
সেই মতো উচ্চশিক্ষা ও কারিগরি শিক্ষা দফতর যৌথভাবে বিএএড, আইটিআই, পলিটেকনিক এবং ফার্মা কলেজগুলিতে কঠোর পরিদর্শন ড্রাইভ চালায়।”পরিদর্শন রিপোর্ট ও ভর্তি প্রক্রিয়ার বিবরণ দিতে গিয়ে উচ্চশিক্ষা মন্ত্রী জানান, প্রথম দফার পরিদর্শনের পর ১৫৬টি বি এড কলেজকে ২০২৬-২০২৮ শিক্ষাবর্ষে সরাসরি ভর্তির অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। মানদণ্ড পূরণ করতে না পারায় ৪১৫টি বি এড কলেজকে পরিকাঠামো উন্নতির জন্য ২১ দিনের শো-কজ বা নোটিশ পাঠানো হয়। এর মধ্যে ৯টি কলেজ কোনও জবাব দেয়নি। বাকি কলেজগুলির ক্ষেত্রে প্রথম দফার পরিদর্শকদের বদলে সম্পূর্ণ নতুন ইন্সপেক্টর পাঠিয়ে দ্বিতীয় দফার পরীক্ষা চালানো হয়।
আরও খবর
দ্বিতীয় দফার পরিদর্শনের পর ২৩৭টি বি এড কলেজ প্রয়োজনীয় মানদণ্ড অতিক্রম করায় ৪ নভেম্বর থেকে তাদের ২০২৬-২৮ সেশনে ভর্তি নেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তবে চূড়ান্ত পর্যালোচনায় দেখা গেছে যে, অবশিষ্টাংশ ২০৫টি বি এড কলেজ গুণমান পূরণ করতে ব্যর্থ হয়েছে। ফলে ২০২৬-২৮ শিক্ষাবর্ষের জন্য তাদের ভর্তি বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পরবর্তী সেশনে পরিকাঠামো উন্নত করলে তবেই তারা ছাড়পত্র পাবে। একই সঙ্গে উচ্চশিক্ষা মন্ত্রী অন্যান্য পেশাদারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ওপর নেওয়া কঠোর প্রশাসনিক পদক্ষেপের খতিয়ান পেশ করেন। পর্যাপ্ত পরিকাঠামো না থাকায় ২৬৫টি আইটিআই -র মধ্যে ১৪টিকে ডি-অ্যাফিলিয়েট করা হয়েছে, ১৩৪টি ফার্মা কলেজের মধ্যে ৩৮টিতে এ বছর ভর্তি বন্ধ করা হয়েছে এবং ৭৪টি পলিটেকনিকের মধ্যে ১টি পলিটেকনিক কলেজে ছাত্রভর্তি স্থগিত রাখা হয়েছে।


