Bengal Liberty: শুধু বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি নয়, শিল্পপতিদের জন্য এবার একগুচ্ছ আর্থিক সুবিধা ও নির্দিষ্ট গাইডলাইন প্রকাশ করল রাজ্য সরকার। কীভাবে বিনিয়োগ করতে হবে, কোন ক্ষেত্রে কতটা সরকারি সহায়তা মিলবে, জমি থেকে বিদ্যুৎ, কর্মী নিয়োগ থেকে কর—সমস্ত বিষয়ই বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়েছে নতুন শিল্পনীতির নির্দেশিকায়। বৃহস্পতিবার ইকো পার্কে নয়া শিল্পনীতির ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন শিল্পমন্ত্রী তাপস রায়-সহ একাধিক মন্ত্রী ও প্রশাসনিক আধিকারিক।
গত ১৫ বছরে রাজ্যে শিল্প ও কর্মসংস্থানের ঘাটতি নিয়ে সরব হয়েছে নতুন সরকার। সেই পরিস্থিতি বদলাতে বিনিয়োগকারীদের জন্য একাধিক নীতি ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। একই সঙ্গে প্রকাশ করা হয়েছে নয়া শিল্পনীতির নির্দেশিকা। সেখানে বিশেষ করে ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্প বা MSME ক্ষেত্রে মহিলা ও রূপান্তরকামী কর্মীদের জন্য নিয়োগকর্তার দেওয়া EPF-এর ১০০ শতাংশই আগামী ১০ বছর পর্যন্ত দেওয়ার কথা জানিয়েছে রাজ্য। পুরুষ কর্মীদের ক্ষেত্রে এই সহায়তার পরিমাণ ৫০ শতাংশ। বড় শিল্প ইউনিটের ক্ষেত্রেও কর্মী নিয়োগের ভিত্তিতে EPF বাবদ সরকারি সহায়তার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ২০০-র বেশি কর্মী থাকা ইউনিটে মহিলা কর্মীদের ক্ষেত্রে নিয়োগকর্তার EPF-এর ৭৫ শতাংশ এবং পুরুষ কর্মীদের ক্ষেত্রে ৫০ শতাংশ দেওয়ার কথা জানানো হয়েছে।
নির্দেশিকায় শুধু উৎপাদনশিল্প নয়, পরিষেবা ক্ষেত্রেও বিনিয়োগের সুযোগ রাখা হয়েছে। তথ্যপ্রযুক্তি, স্বাস্থ্য পরিষেবা, পর্যটন, আতিথেয়তা, ব্যাঙ্কিং, বিমা, ইঞ্জিনিয়ারিং, পেশাদার পরিষেবা, উচ্চশিক্ষা এবং কারিগরি প্রশিক্ষণের মতো ক্ষেত্রগুলিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি রুগ্ন ও বন্ধ শিল্প ইউনিট পুনরুজ্জীবিত করা এবং নতুন বিনিয়োগের মাধ্যমে কর্মসংস্থান তৈরির উপরেও জোর দেওয়া হয়েছে।
আরও খবর
বিনিয়োগকারীদের জন্য সিঙ্গল উইন্ডো পোর্টালের মাধ্যমে আবেদন, অনুমোদন এবং প্রয়োজনীয় পরিষেবা পাওয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। জমি, বিদ্যুৎ শুল্ক, সুদে ভর্তুকি এবং নেট SGST ফেরতের মতো সুবিধার কথাও রয়েছে নির্দেশিকায়। সরকারের দাবি, বিনিয়োগকারীদের জন্য প্রক্রিয়া সহজ করা এবং শিল্পের অনুকূল পরিবেশ তৈরি করাই এই নয়া শিল্পনীতির লক্ষ্য।


