Bengal Liberty: যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে বড় ধরণের বিপর্যয়ের জেরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক কঠিন রাজনৈতিক বাস্তবতার মুখোমুখি হয়েছেন। মার্কিন কংগ্রেসের উভয় কক্ষের (সিনেট ও প্রতিনিধি পরিষদ) নিয়ন্ত্রণ স্বাভাবিকভাবেই ডেমোক্র্যাটদের হাতে চলে গিয়েছে। এর ফলে ট্রাম্পের যেকোনো নতুন আইন পাস বা নীতি বাস্তবায়নের পথ অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে। এখন প্রতিটি পদক্ষেপে বিরোধীদের সঙ্গে আপস কিংবা ভেটো ক্ষমতার আশ্রয় নিতে হবে ট্রাম্পকে।
২০২৫ সালের জানুয়ারিতে দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম দুই বছর প্রায় একক ও অপ্রতিহত ক্ষমতায় বাণিজ্য, অভিবাসন ও অর্থনীতিতে নিজের ইচ্ছামতো সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর, এই নির্বাচনী ফলাফল তাঁর বাকি দুই বছরের মেয়াদের জন্য বড় ধাক্কা বলে করছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ।
কিন্তু এই পরিণতির কারণ হিসেবে রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও রিপাবলিকান শিবিরের মন্তব্য, মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের সাথে দীর্ঘায়িত যুদ্ধ এবং এর ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধিই ভোটারদের ট্রাম্পের থেকে দূরে সরিয়ে দিয়েছে। এদিকে এই পরাজয়ের জেরে হোয়াইট হাউসের অন্দরে ইতিমধ্যেই ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। শুধু তাই নয়, যুদ্ধ ও প্রতিরক্ষানীতির প্রবক্তা প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ-কে পদ থেকে সরানোর আলোচনা চলছে বলে শোনা যাচ্ছে।
ক্ষমতার নিয়ন্ত্রণ পেয়েই ডেমোক্র্যাটরা পদক্ষেপ করা শুরু করেছে। ট্রাম্প, তাঁর পরিবার এবং ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের নীতি ও কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে জোরদার সংসদীয় তদন্ত শুরু করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে তারা।
আরও খবর
কাজেই এই প্রতিকূল পরিস্থিতিতে ট্রাম্প ডেমোক্র্যাটদের সাথে মিলিসূত্র খোঁজার কথা বলছে ঠিকই, কিন্তু তাঁর উপদেষ্টারা কংগ্রেসকে এড়িয়ে নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে নিজেদের এজেন্ডা সচল রাখার পরিকল্পনা করছেন, তা একপ্রকার স্পষ্ট।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই পরিস্থিতি ৮০ বছর বয়সী ট্রাম্পের জীবনের “সবচেয়ে কঠিন দুটি বছর” হতে চলেছে।


