Bengal Liberty: অভিষেকের জন্মদিনের উদ্যাপন ঘিরে উত্তেজনার আঁচ শনিবারও অব্যাহত। কালীঘাটের বাড়ির সামনে ভাইপোর জন্মদিনকে কেন্দ্র করে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়, তা নিয়ন্ত্রণে আনতেই শুক্রবার ঘটনাস্থলে পৌঁছেছিলেন কালীঘাট থানার ওসি। সেই ঘটনার ১২ ঘণ্টার মধ্যেই কালীঘাট থানার ওসি-কে প্রকাশ্যে হুঁশিয়ারি দিলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়! পুলিশের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে কার্যত থানার আধিকারিককেই লক্ষ্মণরেখা বোঝালেন মমতা।
শনিবার দুপুরে কালীঘাটে অভিষেকের বাড়িতে পৌঁছে সংবাদমাধ্যমের সামনেই ওসি-কে নিশানা করেন তিনি। মমতার মন্তব্য, ‘‘পুলিশ খারাপ আচরণ করেছে। দয়া করে নিরপেক্ষতা বজায় রাখুন। বাড়াবাড়ি হলে, লক্ষ্মণরেখা অতিক্রম হলে দেখবেন। সুপ্রিম কোর্টে যাব। আমি সব জানি, বলাইবাবু। আপনার কী কী ক্ষমতা আর কত প্রমোশন পাবেন, তা-ও জানি। আপনাকে অনেক শুভ দীপাবলি, শুভ কালীপুজো। জনরোষ, জনবিস্ফোরণ হলে থামানো যায় না।’’
ঘটনার সূত্রপাত শুক্রবার রাতে। অভিযোগ, অভিষেকের জন্মদিন উপলক্ষে তাঁর কালীঘাটের বাড়ির সামনের ফুটপাতে জড়ো হয়েছিলেন তৃণমূল কর্মী-সমর্থকেরা। সেই সময় বিজেপির কয়েক জন সমর্থক সেখানে এসে ‘চোর চোর’ স্লোগান দিতে শুরু করেন বলে অভিযোগ অভিষেকের। পাল্টা স্লোগান দেন অভিষেক-অনুগামীরাও। এরপরই দু’পক্ষের মধ্যে বচসা থেকে পরিস্থিতি হাতাহাতিতে গড়ায়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় কালীঘাট থানার পুলিশ। সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিয়োয় থানার ওসির সঙ্গে অভিষেককে বচসায় জড়াতে দেখা যায়। ঘটনায় দু’পক্ষ মিলিয়ে প্রায় সাত জন আহত হয়েছেন বলে সূত্রের খবর।
আরও খবর
এরপর রাত থেকে শনিবার সকাল সাতটা পর্যন্ত নিজের বাড়ির সামনেই অবস্থানে বসেন অভিষেক। তৃণমূলের অভিযোগ, বিজেপির মদতপুষ্ট দুষ্কৃতীরাই এই হামলা চালিয়েছে। শনিবার সকালে মমতাও অভিযোগ করেন, ‘‘রাত দু’টোর সময়, যখন মানুষ ঘুমায়, বিজেপির দুষ্কৃতীরা হুলিগানিজম চালিয়েছে।’’
এখানেই প্রশ্ন উঠছে, যে সময় মানুষ ঘুমায়, সেই সময় কেন রাস্তা বন্ধ করে মানুষের হেঁটে যাওয়ার ফুটপাতের উপর জন্মদিন উদ্যাপন করা হল? গভীর রাতে আবাসিক এলাকায় জন্মদিনের অনুষ্ঠান ঘিরে কেন এমন উত্তেজনার পরিস্থিতি তৈরি হল? এই ঘটনা কি মানুষের জনরোষেরই প্রতিফলন?


