নিজস্ব সংবাদদাতা, কল্যাণী: চিকিৎসায় অসাধ্যসাধন! ২৬ বছরের এক তরুণের মাথা থেকে অস্ত্রোপচার করে বাদ দেওয়া হল ২.৯ কেজি ওজনের বিশাল টিউমার। কল্যাণী এইমসের চিকিৎসকদের দাবি, অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে অপসারিত মস্তিষ্কের টিউমারের নিরিখে এটি বিশ্বের বৃহত্তম। বিরল ও অত্যন্ত জটিল ম্যালিগন্যান্ট পেরিফেরাল নার্ভ শিথ টিউমার (এমপিএনএসটি) সফলভাবে বাদ দিয়ে এক কঠিন চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করলেন হাসপাতালের চিকিৎসকেরা। একাধিক হাসপাতাল থেকে ফিরে আসা ওই তরুণের প্রাণ বাঁচিয়ে চিকিৎসার ক্ষেত্রে নতুন নজির তৈরি করল কল্যাণী এইমস।
দীর্ঘদিন ধরেই এই বিরল মারণ রোগে আক্রান্ত ছিলেন ওই যুবক। তাঁর মাথায় ক্রমশ বেড়ে ওঠা টিউমারটি এতটাই বড় ও জটিল আকার ধারণ করেছিল যে, অস্ত্রোপচারের ঝুঁকি নিতে রাজি হয়নি দেশের একাধিক প্রথম সারির সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতাল এবং তৃতীয় স্তরের চিকিৎসা কেন্দ্র। কার্যত চিকিৎসার আশা ছেড়ে দেওয়ার পরিস্থিতিতে শেষ ভরসা হয়ে ওঠে কল্যাণী এইমস। সেখানে রোগীর শারীরিক অবস্থা ও প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর ঝুঁকি নিয়েই অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেন নিউরোসার্জারি বিভাগের চিকিৎসকেরা।
আরও খবর
এই অস্ত্রোপচারের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ ছিল বিপুল রক্তক্ষরণের আশঙ্কা। সেই পরিস্থিতি সামাল দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয় হাসপাতালের ট্রান্সফিউশন মেডিসিন বিভাগ। অস্ত্রোপচার চলাকালীন রোগীকে মোট ১৮ ইউনিট পিআরবিসি (প্যাকড রেড ব্লাড সেলস) দিতে হয়। চিকিৎসা পরিভাষায় এই বিপুল পরিমাণ রক্ত সঞ্চালনকে বলা হয় ‘আল্ট্রা ম্যাসিভ ট্রান্সফিউশন’। এর পাশাপাশি অস্ত্রোপচারের আগে ও পরে আরও আট ইউনিট পিআরবিসি-সহ বিভিন্ন রক্তজাত উপাদান দেওয়া হয় তাঁকে।
অন্য দিকে, এত বড় ও জটিল অস্ত্রোপচারে রোগীর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রাখার গুরুদায়িত্ব সামলায় অ্যানাস্থেসিওলজি বিভাগ। দীর্ঘ অস্ত্রোপচারের প্রতিটি পর্যায়ে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে রোগীর শারীরিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখেন চিকিৎসকেরা। নিউরোসার্জারি, ট্রান্সফিউশন মেডিসিন এবং অ্যানাস্থেসিওলজি বিভাগের সমন্বিত প্রচেষ্টাতেই শেষ পর্যন্ত সফল হয় এই কঠিন অস্ত্রোপচার।
এই সাফল্যের পর হাসপাতালের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টরের নেতৃত্ব ও ধারাবাহিক উৎসাহের প্রশংসা করেছেন চিকিৎসকেরা। কল্যাণী এইমসের এই নজিরবিহীন সাফল্যের প্রশংসা করেছে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রকও। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জে পি নাড্ডা চিকিৎসকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টাকে বিশেষ ভাবে সাধুবাদ জানিয়েছেন। সব মিলিয়ে, চিকিৎসা পরিষেবায় দেশের মানচিত্রে আরও একবার গুরুত্বপূর্ণ জায়গা করে নিল কল্যাণী এইমস।


