Bengal Liberty : দীপাবলির উৎসবের আবহে নন্দীগ্রামবাসীর জন্য একাধিক উন্নয়নমূলক প্রকল্পের ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। নন্দীগ্রাম থানার কালীপুজোয় যোগ দেওয়ার পাশাপাশি থানার নতুন ভবনের ভূমিপুজো ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন তিনি। এদিন নন্দীগ্রাম থানায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে মোট ১৫ কোটি টাকার উন্নয়নমূলক কাজের ঘোষণা করা হয়। এর মধ্যে নন্দীগ্রাম থানার পরিকাঠামো উন্নয়ন, পুলিশ আধিকারিকদের আবাসন এবং সাধারণ মানুষের জন্য প্রয়োজনীয় পরিষেবা তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে।
এদিন সন্ধ্যা ৭টা ৪০ মিনিট নাগাদ নন্দীগ্রাম থানায় পৌঁছন মুখ্যমন্ত্রী। সেখানে কালীপুজোর অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার পর থানার নতুন ভবনের ভূমিপুজো ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন তিনি। পরে অনুষ্ঠানমঞ্চ থেকে সেবাদান কর্মসূচিও পালন করেন মুখ্যমন্ত্রী। অনুষ্ঠানে স্থানীয় বাসিন্দা এবং প্রশাসনের আধিকারিকদের উপস্থিতিতে একাধিক উন্নয়ন প্রকল্পের কথা ঘোষণা করা হয়।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, রাজ্যের মোট ৪৫২টি থানায় জিম, পরিস্রুত পানীয় জল এবং জেনারেটরের ব্যবস্থা করা হবে। পুলিশের পরিকাঠামো আরও উন্নত করার পাশাপাশি থানায় আসা সাধারণ মানুষের সুবিধার দিকেও বিশেষ নজর দেওয়া হবে বলে জানান তিনি। নন্দীগ্রাম থানায় আগত মানুষদের জন্য একটি ওয়েটিং রুম তৈরি করা হবে। ফলে অভিযোগ জানাতে বা প্রশাসনিক কাজে থানায় আসা সাধারণ মানুষকে অপেক্ষার সময় আরও স্বাচ্ছন্দ্য দেওয়া সম্ভব হবে।
আরও খবর
এছাড়াও নন্দীগ্রামে হলদিয়া উন্নয়ন পর্ষদের পক্ষ থেকে একটি অতিথিশালা নির্মাণের পরিকল্পনার কথা জানান মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি নন্দীগ্রাম থানার অফিসারদের জন্য আবাসনও তৈরি করা হবে। প্রশাসনের বক্তব্য, এই পরিকাঠামোগুলি তৈরি হলে পুলিশকর্মী ও আধিকারিকদের কাজের পরিবেশ আরও উন্নত হবে। একই সঙ্গে থানায় পরিষেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষও উপকৃত হবেন।
এদিনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলাশাসক নিরঞ্জন কুমার, পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পুলিশ সুপার অংশুমান সাহা-সহ প্রশাসন ও পুলিশের অন্যান্য আধিকারিক এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। দীপাবলির দিনে নন্দীগ্রামে মুখ্যমন্ত্রীর এই ঘোষণাকে ঘিরে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যেও উৎসাহ দেখা যায়। নতুন থানা ভবন থেকে শুরু করে পুলিশ আবাসন, অতিথিশালা, ওয়েটিং রুম এবং বিভিন্ন নাগরিক পরিষেবার পরিকাঠামো—সব মিলিয়ে নন্দীগ্রামের উন্নয়নে এই ঘোষণাগুলি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে প্রশাসন।
প্রশাসনিক সূত্রের দাবি, পরিকল্পিত প্রকল্পগুলির কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে। থানার নতুন ভবন নির্মাণের ফলে পুলিশি পরিষেবার পরিসর বাড়বে এবং কর্মরত আধিকারিকদের জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধাও নিশ্চিত করা যাবে। একই সঙ্গে জিম, পানীয় জল ও জেনারেটরের মতো পরিষেবা চালু হলে বিভিন্ন থানার দৈনন্দিন কাজকর্ম আরও সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হবে। মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণায় পুলিশ প্রশাসনের পাশাপাশি স্থানীয় পরিকাঠামো উন্নয়নেও গুরুত্ব দেওয়ার বার্তা মিলেছে। ফলে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা পূরণে উদ্যোগটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।


