Bengal Liberty : শতবর্ষের পথে পা রাখলেন বিজেপির প্রবীণ নেতা তথা প্রাক্তন উপপ্রধানমন্ত্রী লালকৃষ্ণ আদবানি। রবিবার ৯৯তম জন্মদিনে তাঁর জীবনের শততম বর্ষের সূচনা হল। এই বিশেষ দিনে আদবানির দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবন, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং ভারতীয় রাজনীতিতে তাঁর অবিস্মরণীয় অবদানের কথা তুলে ধরলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। জনসঙ্ঘ থেকে বিজেপির উত্থান, জরুরি অবস্থার বিরুদ্ধে আন্দোলন এবং রামমন্দির আন্দোলনে আদবানির ঐতিহাসিক ভূমিকার স্মৃতিচারণ করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আধুনিক ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাসের বহু গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সঙ্গে আদবানির জীবন ওতপ্রোতভাবে জড়িত। ১৯২৭ সালের ৮ নভেম্বর অবিভক্ত ভারতের করাচিতে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। ১৯৪৭ সালে দেশভাগের সময় সিন্ধের পৈতৃক ভিটেমাটি ছেড়ে ভারতে চলে আসতে হয় তাঁকে। সেই যন্ত্রণাময় অভিজ্ঞতা সত্ত্বেও নতুন করে জীবন গড়ে তোলার অদম্য মানসিকতা দেখিয়েছিলেন আদবানি। পরবর্তী সময়ে সেই দৃঢ়তাই তাঁকে জাতীয় রাজনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্বে পরিণত করে।
মোদির কথায়, আদবানির রাজনৈতিক জীবনের দুটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য ছিল আদর্শগত স্বচ্ছতা এবং বুদ্ধিবৃত্তিক তীক্ষ্ণতা। বক্তৃতা, লেখালেখি ও রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে এই দুই গুণের প্রতিফলন ঘটেছে। জাতীয়তাবাদকে সামনে রেখে জনসঙ্ঘ এবং পরবর্তী সময়ে বিজেপির সাংগঠনিক ভিত শক্তিশালী করতে তাঁর ভূমিকা ছিল অসামান্য।
আরও খবর
রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের প্রচারক হিসেবে রাজস্থানে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড শুরু করেন আদবানি। পরে দিল্লিতে এসে অটলবিহারী বাজপেয়ীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করেন। দুই নেতার দীর্ঘ রাজনৈতিক সম্পর্ককে ভারতীয় রাজনীতির বিরল দৃষ্টান্ত হিসেবে উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর মতে, ব্যক্তিগত প্রতিদ্বন্দ্বিতার ঊর্ধ্বে উঠে তাঁরা যৌথভাবে একটি রাজনৈতিক শক্তিকে জাতীয় পর্যায়ে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন।
বিজেপির সভাপতি হিসেবে আদবানির নেতৃত্বে দলের উল্লেখযোগ্য উত্থান ঘটে। ১৯৮৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে মাত্র দুটি আসন পাওয়া বিজেপি ১৯৮৯ সালে ৮৫টি আসন দখল করে। ১৯৯৬ সালে লোকসভায় একক বৃহত্তম দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে বিজেপি। এই সাফল্যের নেপথ্যে আদবানির সাংগঠনিক দক্ষতা ও রাজনৈতিক দূরদর্শিতার বিশেষ ভূমিকা ছিল বলে মনে করেন মোদি।
১৯৭৫ সালের জরুরি অবস্থার বিরুদ্ধে আন্দোলনও আদবানির রাজনৈতিক জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। গণতন্ত্র ও সাংবিধানিক অধিকারের পক্ষে তাঁর অবস্থানের কথা স্মরণ করেন প্রধানমন্ত্রী। ১৯৭৭ সালে জনতা সরকারের তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী হন আদবানি। পরবর্তী সময়ে অটলবিহারী বাজপেয়ীর নেতৃত্বাধীন এনডিএ সরকারে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং উপপ্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।
তবে আদবানির রাজনৈতিক জীবনের সবচেয়ে আলোচিত অধ্যায় ১৯৯০ সালের সোমনাথ থেকে অযোধ্যা রথযাত্রা। এই কর্মসূচি বিজেপির রাজনৈতিক বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করলেও দেশের সাম্প্রদায়িক রাজনীতিতে গভীর বিতর্কের জন্ম দিয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী নিজেও ওই রথযাত্রার সাংগঠনিক কাজে যুক্ত থাকার স্মৃতিচারণ করেছেন।
১৯৯১ সালের লোকসভা নির্বাচনে গান্ধিনগর কেন্দ্র থেকে আদবানির প্রার্থী হওয়া এবং তাঁর নির্বাচনী প্রচারে নিজের অংশগ্রহণের কথাও তুলে ধরেন মোদি। তিনি জানান, আদবানির মনোনয়নপত্র প্রস্তুত করা থেকে প্রচারের বিভিন্ন কাজে সহযোগিতা করার সুযোগ পেয়েছিলেন।
২০২৪ সালে দেশের সর্বোচ্চ অসামরিক সম্মান ভারতরত্নে ভূষিত হন আদবানি। শতবর্ষের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে তাঁর রাজনৈতিক উত্তরাধিকার নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে। প্রধানমন্ত্রী মনে করেন, একাধিক প্রজন্মের রাজনৈতিক কর্মী তৈরির পাশাপাশি বিজেপিকে জাতীয় শক্তিতে পরিণত করার ক্ষেত্রে আদবানির অবদান ভারতীয় রাজনীতির ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।


