(Nirmala Sitharaman Budget 2026)
Bengal Liberty, Kolkata – রবিবার ভারতের বাজেট প্রথায় ইতিহাস গড়লেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন (Nirmala Sitharaman budget saree) । টানা নবমবারের মতো বাজেট পেশের আগে লাল রঙের কভারে মোড়া ট্যাবলেট হাতে কর্তব্য ভবনের সামনে তাঁর ছবি মুহূর্তেই ভাইরাল। প্রযুক্তির আধুনিক ব্যবহার, বাজেট নথির প্রতীকী রঙ এবং ভারতীয় ঐতিহ্যের মেলবন্ধন-সবই ধরা পড়েছে এক ফ্রেমে।

শাড়ির রঙেই বার্তা(Nirmala Sitharaman budget saree)
এদিন অর্থমন্ত্রী পরেছিলেন হাতে বোনা কাঞ্জিভরম সিল্ক শাড়ি- যা তামিলনাড়ুর ঐতিহ্যবাহী বস্ত্রশিল্পের প্রতীক এই শাড়ি(Nirmala Sitharaman budget saree)। বাজেট পেশের সময়ে দেশের নানা প্রান্তের হ্যান্ডলুমকে সামনে আনার যে ধারা তিনি দীর্ঘদিন ধরে বজায় রেখেছেন, তারই ধারাবাহিকতা দেখা গেল এ বারও। মাঙ্গলগিরি, ইক্কত, বোমকাই, কাঁথা, মধুবনী-এক এক বছরে এক এক রাজ্যের সংস্কৃতি উঠে এসেছে তাঁর শাড়িতে(Nirmala Sitharaman budget saree)। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, তামিলনাড়ুর কাঞ্জিভরম শাড়ি বেছে নেওয়ার মধ্যেও আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের দিকে সূক্ষ্ম ইঙ্গিত রেখেছেন নির্মলা সীতারমণ।
নির্মলা সীতারমণের শাড়ি (Nirmala Sitharaman budget saree)
নির্মলা সীতারমণের শাড়ি শুধু ঐতিহ্যের বহিঃপ্রকাশ নয়, বহু ক্ষেত্রেই বাজেটের অগ্রাধিকারের ইঙ্গিতও দিয়েছে। এক ঝলকে দেখে নেওয়া যাক নির্মলা সীতারমণের টানা ৮ বারের শাড়ি(Nirmala Sitharaman budget saree)।
২০২৪-২৫ অর্থবর্ষের পূর্ণাঙ্গ বাজেট পেশের সময় তাঁর পরনে ছিল ঘিয়ে সাদা ও বেগুনি পাড়ের মাঙ্গলগিরি শাড়ি, অন্ধ্রপ্রদেশে তৈরি হয়। সেই বাজেটেই অন্ধ্রপ্রদেশের জন্য একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করে কেন্দ্র। দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা পোল্লাভরম সেচ প্রকল্প শেষ করতে অনুদান, পাশাপাশি রাজধানী অমরাবতীর উন্নয়নের জন্য ১৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়।

২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে লোকসভা নির্বাচনের আগে অন্তর্বর্তী বাজেট পেশের সময় নির্মলা পরেছিলেন নীল রঙের বাংলার কাঁথা কাজের শাড়ি(Nirmala Sitharaman budget saree)। পাতার নকশা করা সেই শাড়ির নীল রংকে অনেকেই মৎস্যচাষ ও জলজ সম্পদের প্রতীক হিসেবে দেখেছিলেন। সেই বাজেটেই ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে মৎস্যচাষ মন্ত্রকের জন্য ২,৫৮৪.৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়—যা আগের বছরের তুলনায় ১৫ শতাংশ বেশি এবং সেই সময় পর্যন্ত সর্বোচ্চ।
২০২৩, কর্নাটকের ধারওয়াড়ে বোনা লাল ইলকাল সিল্ক-রথ, পদ্ম ও ময়ূরের নকশায় ভরপুর। প্রসঙ্গত, নির্মলা কর্নাটক থেকেই রাজ্যসভার সাংসদ।
২০২২, ওড়িশার গঞ্জামের বাদামি বোমকাই শাড়ি ওড়িশার গঞ্জাম জেলায় তৈরি হয় সেই শাড়ি(Nirmala Sitharaman budget saree)। মনে করা হয়েছিল, ওড়িশার হস্তশিল্পকে কুর্নিশ জানিয়েই ওই শাড়ি পরেছিলেন তিনি।
২০২১- হায়দরাবাদের পোচমপল্লি গ্রামে বোনা ঘিয়ে রঙের শাড়ি(Nirmala Sitharaman budget saree)। যার পাড়টি ছিল লাল রঙের।হায়দরাবাদের পোচমপল্লি গ্রামে তৈরি হয় সেই শাড়ি। আঞ্চলিক হস্তশিল্পের প্রচারের জন্য এই শাড়ি পড়েছিলেন বলে মনে করা হয়।
২০২০- উজ্জ্বল হলুদ রঙের সিল্ক শাড়ি, যা সমৃদ্ধির প্রতীক হিসাবে ধরা হয়। অর্থাৎ কোভিড ১৯ চলাকালীন দুরবস্থার মধ্যে নতুন আশা ও সমৃদ্ধির বার্তা দিয়েছিল।
২০১৯- প্রথম বাজেটেই ব্রিফকেসের বদলে লাল রঙের সনাতনী ‘বহি-খাতা’। সেবার তাঁর পরনে ছিল গোলাপি রঙের মাঙ্গলগিরি শাড়ি। লাল ‘বহি-খাতা’র উপর সোনালি দড়িতে বাঁধা জাতীয় প্রতীক অশোক স্তম্ভ হয়ে উঠেছিল পরিবর্তনের প্রতীক- যেমন পরিবর্তনের বার্তা বহন করেছিল তাঁর শাড়িও(Nirmala Sitharaman budget saree)।
পরপর নটি বাজেটে নটি ভিন্ন শাড়ি(Nirmala Sitharaman budget saree) – প্রতিটিই ভারতের কোনও না কোনও অঞ্চলের পরিচয় বহন করে। অনেকের মতে, নির্মলা সীতারামনের বাজেট শাড়ি কেবল পোশাক নয়, তা এক ধরনের নীরব রাজনৈতিক ও নীতিগত ভাষা। যেখানে অর্থনীতি, সংস্কৃতি ও রাজনীতির সূক্ষ্ম সংযোগ ধরা পড়ে প্রতিটি সুতোর ভাঁজে।
