Bengal Liberty, কলকাতা:
আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজ্যে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে(Schools Used for Central Forces)। এই প্রেক্ষাপটে স্কুলে বাহিনী রাখার সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে নির্বাচন কমিশনের কাছে চিঠি দিল শিক্ষানুরাগী ঐক্য মঞ্চ। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক কিংকর অধিকারী দাবি জানিয়েছেন, নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি হলেও তার জন্য সরকারি বিদ্যালয়ে মাসের পর মাস পঠন-পাঠন ব্যাহত করা চলবে না।
তিনি জানিয়েছেন, প্রতিবার সরকারী বিদ্যালয়গুলোকেই টার্গেট করা হয়, কেন্দ্রীয় বাহিনী ঢুকছে। মার্চ মাসে ফোর্স ঢুকলে ক্লাস করানো যাবে না, তারা জানিয়েছে। এপ্রিলে ভোট এবং মে মাসে গরমের ছুটি পরে যায়। ফলে পড়াশোনায় বড়ো মাপের ব্যাঘাত ঘটবে। ভবিষ্যতে সিলেবাস শেষ করতেও অসুবিধার মুখে পড়তে হবে সকলকে। চিঠিতে তিনি অনুরোধ জানিয়েছেন, বাহিনী রাখার জন্য বিকল্প পরিকাঠামো যেমন কৃষক মান্ডি, অডিটোরিয়াম বা অস্থায়ী তাঁবুর ব্যবস্থা করা হোক। কিন্তু কোনওভাবেই স্কুল ভবন ব্যবহার না করার আর্জি জানিয়েছেন।

BLO ডিউটি ও শিক্ষার ব্যাঘাত Schools Used for Central Forces
প্রায় ৮০ হাজার শিক্ষককে বুথ লেভেল অফিসার (BLO) হিসেবে কাজে লাগানো হয়, যার ফলে মাসের পর মাস নিয়মিত পাঠদান ব্যাহত হয়। এর সঙ্গে যদি স্কুল ভবনও বাহিনীর দখলে চলে যায়, তবে সিলেবাস সম্পূর্ণ করা এবং পরীক্ষার প্রস্তুতিতে বড়সড় সমস্যা তৈরি হবে। ৮০ হাজারের কাছাকাছি শিক্ষকদের BLO কাজে লাগানো হচ্ছে। তারমধ্যে স্কুলগুলোকে কেন্দ্রীয় বাহিনী রাখার জন্য নেওয়া হয়। মাসের পর মাস কেন্দ্রীয় বাহিনী থাকার দরুণ স্কুলগুলিকে বন্ধ রাখা হয়। কেন্দ্রীয় বাহিনী আসুক, কিন্তু তাদের থাকার জন্য স্কুলগুলো বেছে নেওয়া বন্ধ হোক। এই কারণেই সরকারী শিক্ষা ব্যবস্থা বারংবার পিছিয়ে যাচ্ছে। নির্বাচন কমিশনের কাছে অনুরোধ তারা এই ব্যাপারে অন্যকিছু চিন্তা করুক।
আরও খবর

নিরপেক্ষতার দাবি Schools Used for Central Forces
ভোটার ও ভোটকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কেন্দ্রীয় বাহিনীর প্রয়োজনীয়তা অস্বীকার করা হচ্ছে না। তবে বাহিনীকে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে কাজ করতে হবে এবং নির্বাচন কমিশনকে তা নিশ্চিত করতে হবে। সংগঠনের বক্তব্য, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচনই কাম্য, কিন্তু তার জন্য শিক্ষার অধিকার খর্ব করা উচিত নয়। নিরাপত্তা বাহিনী কোনো পক্ষপাতিত্ব না করলে সঠিক ভাবে , সুষ্ঠ পদ্ধতিতে নির্বাচন সম্ভব। নিরপেক্ষতা কার্যকর করা তাদের দায়িত্ব। নিরাপত্তার জন্যই প্রশাসন হোক বা কেন্দ্রীয় বাহিনী প্রয়োজন, কিন্তু তাদের ভূমিকা যদি ঠিক না হয় তবে BLO থেকে শুরু করে ভোটার, সকলেই সমস্যার সম্মুখীন হবে। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার জন্যই তাদের ভূমিকা নিরপেক্ষ ভাবে কাম্য।
নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা Schools Used for Central Forces
কেন্দ্রীয় বাহিনীর ভূমিকা ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে Election Commission of India-র কাছে আবেদন জানিয়েছে। নিরাপত্তা ও শিক্ষার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন। বহু ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় বাহিনীর ভূমিকা থাকে প্রশ্নের মুখে। শীতলকুচির ঘটনা সকলেরই অবগত। সেখানেও কেন্দ্রীয় বাহিনী নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করেছিলেন। তাই, নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন না করা হলে যে আশা করা হচ্ছে, তা আতঙ্কে পরিণত হবে। পূর্বেও কেন্দ্রীয় বাহিনী তার সঠিক ভূমিকা পালন করেনি। সবটাই নির্ভর করে আছে নির্বাচন কমিশন কিভাবে তাদের নির্দেশ দেবে। কারণ, আগেও তাদের ভূমিকা নিয়ে বহুবার প্রশ্ন উঠেছিল।
সব মিলিয়ে, ভোটের আগে নিরাপত্তা জোরদারের পাশাপাশি শিক্ষাব্যবস্থাকে সচল রাখার দাবি ঘিরে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে রাজ্যে। এখন কমিশন কী সিদ্ধান্ত নেয়, সেদিকেই নজর সংশ্লিষ্ট মহলের।


