Bengal liberty desk, ১৩ মার্চ :
আমাদের চারপাশে অনেক সময় এমন মানুষ দেখা যায়, যাঁদের ত্বকের স্বাভাবিক রঙের মাঝে দুধ-সাদা রঙের ছোপ বা দাগ রয়েছে (Skin pigmentation disorder)। চিকিৎসার ভাষায় একে বলা হয় ‘ভিটিলিগো’ বা শ্বেতী। সামাজিক কুসংস্কারের কারণে অনেক সময় এই রোগীদের এড়িয়ে চলা হয়, যা তাঁদের মানসিক অবসাদের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। কিন্তু চিকিৎসাবিজ্ঞান বলছে, শ্বেতী কোনো মারণরোগ নয় এবং এটি একদমই ছোঁয়াচে নয়।

শ্বেতী কেন হয়? Skin pigmentation disorder
আমাদের ত্বকের স্বাভাবিক রঙ তৈরি করে মেলানোসাইট নামক কোষ থেকে উৎপন্ন মেলানিন। যখন শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বা ইমিউন সিস্টেম ভুলবশত নিজের এই সুস্থ মেলানোসাইট কোষগুলোকে ধ্বংস করতে শুরু করে, তখন ত্বকের সেই অংশে রঙ তৈরির ক্ষমতা হারিয়ে যায়। ফলে সেখানে ধবধবে সাদা দাগ দেখা দেয়।
আরও খবর
রোগটি ছড়িয়ে পড়ে কেন?
শ্বেতী সাধারণত হাত, মুখ, কনুই বা হাঁটুর মতো জায়গা থেকে শুরু হয়। এর বিস্তারের পেছনে কিছু সুনির্দিষ্ট কারণ থাকতে পারে:
বংশগত কারণ: প্রায় ৩০ শতাংশ ক্ষেত্রে বংশানুক্রমে এই রোগ হতে পারে।
অতিরিক্ত মানসিক চাপ: দুশ্চিন্তা বা স্ট্রেস মেলানিন উৎপাদনের প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করে।
রাসায়নিকের প্রভাব: কড়া ডিটারজেন্ট, পারফিউম, হেয়ার ডাই (পিপিডি যুক্ত) বা নিম্নমানের প্রসাধন সামগ্রী অনেকের ত্বকে শ্বেতীর ট্রিগার হিসেবে কাজ করে।
অন্যান্য অসুখ: থাইরয়েড, ডায়াবেটিস বা এনিমিয়া থাকলেও শ্বেতী দ্রুত ছড়ানোর ঝুঁকি থাকে।

এটি কি নিরাময়যোগ্য?
পুরোপুরি নিরাময় সবসময় সম্ভব না হলেও, আধুনিক চিকিৎসার মাধ্যমে এর বিস্তার নিয়ন্ত্রণ এবং অনেক ক্ষেত্রে দাগ কমিয়ে আনা সম্ভব।
১. ওষুধ ও ক্রিম: চিকিৎসকরা ত্বকের রঙ ফেরাতে বিশেষ স্টেরয়েড ক্রিম বা ওষুধ দিয়ে থাকেন।
২. ফটোথেরাপি: অতিবেগুনি রশ্মি বা ইউভিবি (UVB) আলোর মাধ্যমে ত্বকের স্বাভাবিক রঙ ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হয়।
৩. স্কিন গ্রাফটিং: যদি অন্তত এক বছর দাগ না বাড়ে এবং ওষুধে কাজ না হয়, তবে সার্জারির মাধ্যমে সুস্থ ত্বক আক্রান্ত স্থানে প্রতিস্থাপন করা যায়।
সতর্কতা ও জীবনযাত্রা:
যাঁদের শ্বেতী রয়েছে, তাঁদের রোদে বেরোনোর সময় বিশেষ সাবধানতা অবলম্বন করা উচিত। শ্বেতী আক্রান্ত ত্বকে মেলানিন না থাকায় তা সূর্যের আলোর প্রতি অত্যন্ত সংবেদনশীল হয়। তাই সানস্ক্রিন ব্যবহার এবং শরীর ঢাকা পোশাক পরা জরুরি। এছাড়া নিয়মিত যোগাসন ও ধ্যানের মাধ্যমে মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা এই রোগ নিয়ন্ত্রণে বড় ভূমিকা রাখে।
মনে রাখবেন: শ্বেতী কোনো বাধা নয়। মাইকেল জ্যাকসনের মতো বিশ্ববিখ্যাত তারকাও এই রোগের সঙ্গে লড়াই করেছেন। সঠিক সময়ে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিলে এই সমস্যার মোকাবিলা করা সম্ভব।

